
Misogynistic লোকে ভরা একটা জাতি, আমাদের বাংলা জাতি !!!
আমরা স্বীকার করি আর নাইবা করি, আমাদের জন্মদেশে হাজারে হাজারে misogynistic আর ধর্ষক এ ভরা।
এইটা Elephant in the room এর মতো। মাঝে মধ্যে দুয়েকজন তাদের সতর্কতার ঘাটতির কারণে যখন ধরা পড়ে বা জানাজানি হয় তখন আমরা সেটি নিয়ে ট্রল করা, চিল্লাছেলি করা, মেরে ফেলো ইত্যাদি করে থাকি, কিন্তু মনে মনে ব্যাপক একটা জনগোষ্ঠী এই misogyny বজায় থাকুক সেটি চান, এবং দুঃখজনক হলেও সত্য যে কিছু মহিলাও এই misogynistiদের status quo বজায় রাখায় সহায়তা করে।
এপর্যন্ত এই জাতীয় যতগুলি ঘটনা হয়েছে তাতে সব শেষে ক্ষতির ভাগের ৮০/৯০% পড়েছে মহিলার উপরে।
আগে জখন এইরকম মার্ক জুকারবাগের FB এর লীলা ছিল না তখন দেখেছি জাতীয় গণমাধ্যমগুলি তাদের তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে খুব একটা প্রাইভেসী মেইনটেইন করতো না, আর এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তো কথাই নেই।
আমি ভাইরাল করে ছবি ছেড়ে দিতে পারলেই হলো, আমার ও যে মা-বোন থাকতে পারে সেটি আর মনে থাকে না !! সব দলের, সব গোষ্ঠীর, সব সম্প্রদায়ের মধ্যেই এই ক্যান্সার লুকিয়ে আছে, এমনকি যারা এখন ট্রল করছেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন তাদের মধ্যে অনেকেই এই জাতীয় আকাম অহরহ করে থাকে !
শুধুমাত্র একটি আইন এবং কোনো সরকার একা এই ক্যান্সার নিরাময় করতে পারবে না ! আইন, আইনের কঠোর প্রোয়গ এবং দেশের প্রতিটি পরিবারের আন্তরিক পদ্ধক্ষেপ প্রয়োজন ! এখন তো প্রায়ই ধর্ষণ, বলৎকার, মানহানি, এগুলি শোনা যায় এবং একদল লোক বসেই থাকে এই রকম কিছু শুনলেই খপ করে সেটি ধরে লেবু চটকানোর মতো চটকাবে এবং সবাইকে দেখিয়ে মজা নিবে।
বলেন, এই জাতীয় ঘটনার পরে আমাদের মধ্যে কয়টা পরিবার তার বাচ্চাদের কে নিয়ে এই বিষয়ে আলোচনা করে, ভবিৎষতে যাতে তাদের দ্বারা এই জাতীয় কাজ না হয় সেই পদক্ষেপ নিয়েছেন !
আমি আমার ছোট ছেলের সামনে আমার বৌ অথবা মা-বোনকে বান্দির বচ্চা বলি, বা তাকে উঠতে বসতে নিচে নামাতে থাকি, গালিগালাজ করি তাহলে সেই বচ্চা যত বড়ো এবং যেই মধ্যে শিক্ষায় শিক্ষিত হোক ভবিৎষতে একটা Hatred নিয়ে বড়ো হবে।
আমি বিগত ১৭ বছরে আমার কাজের মধ্যে সেগুলির অনেক প্রমাণ এই কানাডিয়ান সমাজেই পেয়েছি, তবে এখানে যেহেতু আইনের শাসন আছে এবং এই জাতীয় ঘৃণিত কাজের বিরুদ্ধে সবার সম্মিলিত প্রতিরোধ আছে, সে জন্যে আমাদের জন্মদেশের মতো ওই রকম দুরবস্থা না।
গত মাস অর্থ্যাৎ জুনের শেষের দিকে আমরা কাছের কিছু পরিবার মিলে ক্যাম্পিংয়ে গিয়েছিলাম।
তখন ভরা পূর্ণিমা ছিল। রাত ১টার দিকে ক্যামসাইটে সবাই যখন ঘুম তখন তাদের যাতে ডিস্ট্রাব না হয়, সেজন্যে আমরা চাঁদের আলোয় লেকের পাড়ে গিয়ে আড্ডা মারছিলাম। সঙ্গে আমার বন্ধু এবং বোনের এবং ভাইয়ের ছেলেরা ছিল। ওরা দুজনেই এখন বিবাহিত এবং একটি করে সন্তানের জনক। এই জাতীয় আড্ডায়, যখন কোনো Kid থাকে তখন আমি ব্যাক্তিগতভাবে চেষ্টা করি আনন্দের মধ্যে বা আড্ডায় ওদের মাথার মধ্যে কিছু জিনিষ ঢুকিয়ে দেওয়া।
আজ থেকে ১৫/২০ বছর আগে আমি ওদেরকে নিয়ে নারী বিদ্বেষী বা misogynistic ব্যবহার , সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, মাস্তানি গুন্ডামি ইত্যাদি নিয়ে কথা বলেছিলাম এবং তাদেরকে জিজ্ঞেস করেছিলাম তারা যদি ইহকালে এবং পরকালে সব ধরনের ছাড় পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর টাকাপয়সাও পায় এবং আমার বা আমাদের পরিবারের যদি পূর্ণ সমর্থন থাকে তাহলে কি ওই জাতীয় কাজ করতে পারবে।
তাদের কথা ছিল, “সেটি করা তো দূরে থাক, ওগুলি মাথায়ই আসে না” আর আপনি যদি ফোর্স করেন তাহলে হয়তো সম্পর্ক নষ্ট হবে। ওরা বেশ ছোট ছিল। আমি দূরে থাকলেও ওদের সাথে আমার যোগাযোগ ছিল। আমি পর্যবেক্ষণে ছিলাম এবং এপর্যন্ত তাদের মধ্যে ওই জাতীয় কোনো কিছু দেখি নাই।
তাই এই দীর্ঘ সময় পরে যখন সেদিন রাতে অন্তত তাদের ২ জনকে পেয়েছিলাম সেই একই প্রশ্ন করেছিলাম !
এই বার যে কিনা এই কানাডাতে বড়ো হয়েছে সে বেশ জোর করে “আস্তাগফেরুল্লা’ বলে উঠলো এবং দ্বিতীয়জন সেই একই উত্তর, এইজাতীয় চিন্তাও মনের কোনো জায়গাতে নেই, কাজটি করা তো দূরের কথা। যারা CBT বা Cognitive Behavioral Therapyর কথা জানেন তারা বুঝবেন যে যেকোনো ধরণের কর্ম বা Act নির্ভর করে চিন্তায় প্রথমে কি আসে।
অতএব দূষিত বা Toxic চিন্তা থেকে যাতে আপনার সন্তান দূরে থাকতে পারে সেই চেষ্টা করবেন। তারা বাইরে গেলে হয়তো আপনার নিয়ন্ত্রণ বেশি থাকবে না, কিন্তু যতক্ষণ আপনার কাছে ততক্ষন চেষ্টা করুন, দুঃখজনক হলেও সেই চেষ্টা আমার দেখামতে আমাদের অনেকেই করে না। পরে দোষ দেয় বাচ্চার, কমুনিটির ইত্যাদি।
এইগুলি জিনিষের চিন্তা ধামিকধুমকি দিয়ে বা কড়া শাসন অথবা ভয় দেখিয়ে দূর করা যায় না। জূজূ বুড়িকে এই AI এর যুগে বাচ্চারা ভয় পায় না। এগুলির জন্যে আগে আপনাকে নিজেই তাদের রোল মডেল হতে হবে এবং ধীরে ধীরে তাদের Psychiতে এগুলি ঢুকাতে হবে।
আমি আগেই বলেছি যে আমাদের বেশ কাছের অল্প সংখক কিছু পরিবার আছে যাদের মধ্যেই আমাদের মোটামুটি বেশি চলাফেরা, তারা সবাই আমার এখানকার একটি Extended পরিবারের মতো এবং সেখানে বাংলাদেশী বা মুসলমান ছাড়া অন্যরাও আছে। আমি খুবই গর্বের সাথে বলতে পারি বিগত ১৫/১৬ বছরে এই পরিবারের অনেক বাচ্চাকে আমার সামনে জন্মাতে এবং বড়ো হতে দেখেছি। এই বাচ্চাদের কেউই আজ পর্যন্ত আমার সামনে কোনো ধরনের বাজে কথা, গালিগালাজ বা misogynistic কথাবার্তা বলে নাই। এবং এই ১৫/১৬ বছরে তাদের কেউই বলতে পারবে না আমি তাদেরকে চোখ রাঙিয়ে কিছু বলেছি বা বকা দিয়েছি। তবে তাদের বাবামাকে অনেক সময় কড়া কথা বলেছি।
এবং বাচ্চাগুলি আমার সাথে যথেষ্ট খোলামেলা, আমি আল্লাহকে ধন্যবাদ দেই তাদের এই ট্রাস্ট অর্জনের জন্যে।
এটি একটি বড়ো পাওয়া আমার কাছে।
আসেন আমরা সমাজের এই জাতীয় ক্যান্সারাস বিষয়ে নিয়ে লেবু চটকাচটকি বা ট্রল করাকরি কমিয়ে একান্ত ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে কিছু করার চেষ্টা করি।
সমালোচনা করবেন, দেশের প্রশাসনকে জবাদিহিতার আওতায় আনার কথা বলবেন, কিন্তু আগে নিজের দায়িত্বটা করুন।

