
ময়মনসিংহে যুবলীগের কর্মী শফিকুল ইসলাম ওরফে সপুকে হত্যার দায়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ওরফে ইতিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ময়মনসিংহের বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফারহানা ফেরদৌস এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আফরোজাকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যত খুশি মন চায় ভিডিও করেন, দেহুক সবাই।”
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ১০ জুন পারিবারিক বিরোধের জেরে আফরোজা শেখ স্বামী শফিকুল ইসলামকে বিপুল পরিমাণ ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ একটি পুকুরে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তিন দিন পর মরদেহ উদ্ধার হলে নিহতের মা নুরুন্নাহার হত্যা মামলা করেন।
রায়ের পর নিহতের মা জানান, তিনি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেছিলেন এবং এই রায়ে সন্তুষ্ট নন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ দাবি করেছে, আফরোজা নির্দোষ এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
মামলায় ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় দেন। বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আসামি একজন নারী এবং তার একটি সন্তান রয়েছে—এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

