
রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘদিন অবস্থান, ভাড়া বকেয়া এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড হোটেলের দুটি কক্ষে প্রায় আট মাস অবস্থান করেন এনসিপির কয়েকজন নেতা। হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, তারা প্রায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যান।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপ। তাদের মধ্যে শাহরিয়ার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এনসিপির সদস্যসচিব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭২৫ ও ৭২৭ নম্বর কক্ষ দুটি ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি কক্ষের দৈনিক ভাড়া তিন হাজার টাকা হিসেবে মোট বকেয়া দাঁড়ায় ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা। বুকিংয়ের সময় ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হলেও পরে আর কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
হোটেলের পক্ষ থেকে এনসিপির আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হোটেলে অবস্থানকালে নিয়মিত লোকজনের যাতায়াত ছিল এবং কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত আছে বলেও দাবি করেছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।
হোটেলের হিসাব বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, দলীয় পরিচয়ের কারণে সরল বিশ্বাসে তাদের থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে বকেয়া টাকা পরিশোধ না করেই তারা চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের বক্তব্য জানা যায়নি। হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পাওনা অর্থ আদায়ে প্রয়োজন হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

