কানাডার তিন উপ-নির্বাচন

কানাডার তিন উপ-নির্বাচন - the Bengali Times
তিনটি সীটেই ভূমিধ্বস বিজয় পেয়েছে সরকারী দল লিবারেল পার্টি

গত সোমবারে অনুষ্ঠিত হলো কানাডার জাতীয় সংসদের তিনটি সীটে উপনির্বাচন। দুটো টরন্টোতে এবং একটি কুইবেকের টেরিবোন শহরে। তিনটি সীটেই ভূমিধ্বস বিজয় পেয়েছে সরকারী দল লিবারেল পার্টি। এ বিষয়ে লিবারেল পার্টির বর্তমান নেতা (সভাপতি নন, এখানে পার্টির নেতা এবং সভাপতি দুজন ভিন্ন ব‍্যক্তি) প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে তিনি যদি তার প্রতিপক্ষ প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা পিয়ারে পলিভ হতেন, তাহলে কি এই নির্বাচনী ফলের পর পদত্যাগ করতেন কিনা? খুবই ইন্টারেস্টিং প্রশ্ন এবং প্রধানমন্ত্রীর উত্তর ছিল দেখার মত।

প্রথমে তিনি বিবর্তকর হাসি দেন, আমতা আমতা করেন, তারপর হেসে বলেন, এটা একটা আনফেয়ার কোশ্চেন! তারপর সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, এর আগে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) তাকে (বিরোধী দলের নেতা) বলেছিলেন অর্থনীতিতে মুর্খ (Uneducated in economics), প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, ক‍্যান আই টেক ব‍্যাক মাই প্রিভিয়াস কমেন্ট, বলেই বলেন ওটা কৌতুক করে বলেছি! সিরিয়াসলি তিনি এই তিনটি উপনির্বাচনে বিজয়ের পর সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন যা তাকে অনেক কনফিডেন্স দিয়েছে।

- Advertisement -

কারণ তিনি আগামী তিন বছর মেয়াদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কিছু করতে যাচ্ছেন যা কানাডার ইতিহাসে আগে কখনো কল্পনা করা যায়নি। তার অন‍্যতম প্রধান বিষয় হলো, মিলিটারী ও অর্থনীতিসহ নানান গুরুত্বপূর্ণ খাতে আমেরিকার উপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে তাঁর ভাষায় ডাইভারসিফিকেশন করার দিকে এগিয়ে যাবেন। কানাডার এসব পদক্ষেপ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ভাল চোখে দেখছে না, ইরান যুদ্ধে তার প্রতিবেশী কানাডা সহ অধিকাংশ তথাকথিত “এলাই” বা বন্ধুদেরকে পাশে পায় নি।

কানাডার তিন উপ-নির্বাচন - the Bengali Times

কাজেই সার্বিক বিশ্ব পরিস্থিতিতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির পাশে আমাদের ডলি বেগমের নবযাত্রা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এডিশন এবং আমাদের কমিউনিটির উচিত হবে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রধানমন্ত্রী, লিবারেল পার্টি ও ডলি বেগমের পাশে থাকা। গত সোমবার রাতে বিজয়ী সংবাদ কনফার্ম হলে ডলি বেগম যে ভাষণ দেন তাও ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি একদিকে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং থাকার উপর গুরুত্বারোপ করেন, যিনি তাকে ভোট দেন নি, তার পাশে থাকারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, হিন্দু, মুসলিম, খৃষ্টান ও ইহুদি সম্প্রদায়কে নির্ভয়ে ও সম্মানের সাথে যার যার ধর্ম পালন করার আহবান করেন, অন‍্যদিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার সমর্থনও পুনর্ব্যক্ত করেন।

আমাদের গর্ব যে আমরা এমন একজন ব‍্যক্তিকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অটোয়ার পার্লামেন্টে পাঠাতে যাচ্ছি তিনি একদিকে যেমন সাহসী, অন্যদিকে ন‍্যায় ও নীতির প্রতি অবিচল, কানাডার মুল‍্যবোধ বিশেষ করে ইনক্লুসিভ সমাজ গঠনের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এই পথ মসৃণ নয়, বন্ধুর, আমি আবারও তার এই চ‍্যালেজিং যাত্রায় সাফল‍্য কামনা করি এবং কোন সহযোগিতা লাগলে তা করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ছবিতে বিজয়ের রাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সাথে আনন্দময় মুহূর্ত।

 

স্কারবোরো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles