অটোয়া’র সিটি বাসে

অটোয়া’র সিটি বাসে - the Bengali Times
অটোয়ার সিটি বাসে

বাসা থেকে বের হবার সময় গিন্নীকে বললাম,”সময় না পেলে আজ আর কষ্ট করে ইলিশ পান্তা’র দরকার নাই। কাল তোমার ছুটি, কাল খেলেও হবে।”

গতকাল রাতে ইলিশটা কেটে রেখেছিলাম।

- Advertisement -

আমি দ্রুত বাসার পেছন থেকে অটোয়া’র সিটি বাসে চড়ে বসি। বেশ ভিড় থাকলেও মিনিট পাঁচেকের মধ্যে  একটা সিট পেয়ে মোবাইল বের করে টাইপিং শুরু করি। যাত্রীদের সাথে চোখাচোখি’র চেয়ে মোবাইলে ব্যাস্ত থাকা অনেক স্বস্তির।

দেশের মানুষের কতো প্রতীক্ষিত দিন আজ।

বিশেষ করে যারা এখনো তেমন ডিজিটাল যুগে আসক্ত হবার সুযোগ পায়নি। তারা আনন্দ উল্লাস করে দল বেঁধে মেলায় যাবে। আগ থেকে কতো স্বপ্ন; কে কী কিনবে, কী খাবে! মাটির পাখি, বাঘ, বাঁশের বাঁশি, সুতোয় টানা ডুগডুগি গাড়ি, কাঁচের রকেট, কাঠের ঠেলা হেলিকপ্টার কিংবা একটা মাটির আম-কাঁঠালের ব্যাংকও অনেকের কাছে অমূল্য সম্পদ। ওদিকে মেলায় যেতে না পারা মুরুব্বিরাও অপেক্ষা করবে কেউ দয়া করে যদি একটুখানি নরম ঢ্যাপের খই, মিষ্টি এনে দেয়..।

কদমা, সন্দেশ, কটকটি, খোরমা, বাতাসা, খই, মিষ্টি, জিলাপি, পিঠা, বুন্দিয়া, নারকেল। আর খুব ঝাল দেয়া আলুর স্লাইস করা চটপটি; তেঁতুলের রস দেয়া। সাথে আস্ত আলুর ঝাল দম, ফুচকা, পেঁয়াজু, ভাজা শুকনা মরিচ আর বিট লবন মাখানো পাকা তেঁতুল। হাওয়াই মিঠাই, শন পাপড়ি, বুনবুনি।

মেয়েদের মালা, চুড়ি, লিপস্টিক, আলতা কেনার ধুম পড়ে যায়। খুব কষ্টে মানুষ হওয়া শিশুদের  সাজগোজের চাইতে সুন্দর দৃশ্য আর হতে পারে না। যেখানে নেই কোনো বিলাসিতা। সত্যিকারের বাংলাদেশের গল্প খুঁজে পাওয়া যায়।

বৈশাখী মেলা মানে শুধু আনন্দই নয়।

এর সাথে জড়িয়ে আছে দুঃখী মানুষের রুটি রোজগারের গল্প। অনেকে অপেক্ষা বছরের এই চার পাঁচটা মেলার জন্য। পুতুল, খেলনা, খাবার, কাপড় বিক্রি করে দু-চার পয়সা বাড়তি রোজগার।

এলইডি লাইটের পাশাপাশি এখনো কতো ছোট ব্যবসায়ী টিনের ল্যাম্প জ্বালিয়ে, রাত পর্যন্ত বসে বিক্রি করে সামান্য কিছু সদাই। সোলা দিয়ে বানানো দশ টাকা দামের পুতুল নিয়ে অপেক্ষা করে কোনো বাচ্চার মুখে হাসি ফোটাতে। এদের বাসায় সারা বছরই চলে পান্তা ভাত। নতুন করে বৈশাখ খুঁজতে হয় না।

বাঙালিদের বৈশাখের আয়োজন অনেক অর্থবহ,  অনেক প্রাসঙ্গিক। শহরের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের চাইতে গ্রামের বৈশাখ অনেক সুন্দর, বৈচিত্র্য আর ঐতিহ্য বহন করে।

আমি এখনো স্বপ্ন দেখি; ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশ গিয়ে কোনো মেলা পেয়ে গেছি। মুগ্ধ হয়ে মেলার কেনা-বেচা,  মানুষের কর্মকাণ্ড, উৎফুল্ল জনতা, বাচ্চাদের আনন্দ দেখছি। সন্ধ্যা হয়ে আসছে; শাঁখের গম্ভীর পোঁ পোঁ শব্দে পুজার বার্তা দিচ্ছে, সান্ধ্য বাতি আর ধুপ  জ্বালাবার। অনেকে মসজিদে ছুটছে মাগরিবের নামাজ ধরতে।

 

“বিলিংব্রীজ, বিলিংব্রীজ স্টেশন!”

স্পিকারে ঘোষনা আসতেই আমি বাস থেকে নেমে অফিসের দিকে হাঁটা ধরি।

 

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -
পূর্ববর্তী খবর
পরবর্তী খবর

Related Articles

Latest Articles