
অন্টারিও প্রদেশে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও ম্যাচগুলো মূলত টরন্টোতেই অনুষ্ঠিত হবে, তবুও সঠিক পরিকল্পনা ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা গেলে প্রদেশের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও পর্যটকের ঢল নামতে পারে ।
জানা গেছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগত আন্তর্জাতিক পর্যটকদের একটি বড় অংশ টরন্টোকে ‘বেস’ বা মূল অবস্থান হিসেবে ব্যবহার করবেন। তবে তারা শুধুমাত্র ম্যাচ দেখেই সীমাবদ্ধ থাকবেন না; বরং আশপাশের অন্যান্য আকর্ষণীয় গন্তব্য ঘুরে দেখার আগ্রহও তাদের মধ্যে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান।
বিশেষ করে অভিজ্ঞ এবং আত্মবিশ্বাসী ভ্রমণকারীদের মধ্যেই এই প্রবণতা বেশি দেখা যাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা ভ্রমণের সময় নতুন নতুন স্থান আবিষ্কারে আগ্রহী এবং সুযোগ পেলে টরন্টোর বাইরে আঞ্চলিক পর্যটনকেও গুরুত্ব দেবেন।
একটি জরিপে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং ফ্রান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাজার থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মোট ১,৪০৬ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিশ্বকাপ আয়োজন এমন এক ধরনের পর্যটককে আকৃষ্ট করবে যারা শুধু খেলা নয়, বরং পুরো ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকেই উপভোগ করতে চান।
যেসব পরিবার সন্তানদের নিয়ে বিশ্বকাপ দেখতে আসবেন, তারা সাধারণত দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে আগ্রহী থাকবেন এবং টরন্টোর বাইরের বিভিন্ন গন্তব্য ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করবেন। ফলে এই শ্রেণির পর্যটকরা আঞ্চলিক পর্যটন সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
তবে এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে একটি বড় শর্ত রয়েছে যাতায়াতের সুবিধা। টরন্টো থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে যেসব গন্তব্যে দিনের ভ্রমণ সম্ভব, সেগুলোই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। আর যেসব পর্যটক রাতযাপনের পরিকল্পনা করবেন, তাদের জন্য চার ঘণ্টা দূরত্বের গন্তব্যগুলোও লাভবান হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ-পশ্চিম অন্টারিও, উত্তর অন্টারিও, দক্ষিণ-পূর্ব অন্টারিও এবং হ্যামিল্টন অঞ্চলে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো সম্ভাব্য ভ্রমণকারীদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশ আগেও টরন্টো ভ্রমণ করেছেন। অর্থাৎ তারা শহরটির সঙ্গে কিছুটা পরিচিত, যা তাদেরকে নতুন গন্তব্য অনুসন্ধানে আরও উৎসাহিত করতে পারে।
তবে টরন্টোর বাইরে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় বিবেচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ভ্রমণের সময়সীমাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে যাতায়াত সহজ, দ্রুত এবং স্বাচ্ছন্দ্যময় না হলে এই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হতে পারে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুধুমাত্র টরন্টো নয়, বরং পুরো অন্টারিও প্রদেশের পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে। তবে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা, কার্যকর পরিকল্পনা এবং পর্যটকবান্ধব অবকাঠামো। তাহলেই বিশ্বকাপের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়বে পুরো প্রদেশ জুড়ে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

