বিশ্বকাপ থেকে আইসিইকে দূরে রাখার দাবি টরন্টোর

বিশ্বকাপ থেকে আইসিইকে দূরে রাখার দাবি টরন্টোর - the Bengali Times
কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ২০২৬ কে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক সামনে এসেছে

কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ২০২৬-কে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সংস্থা ইউ.এস. ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর সম্ভাব্য উপস্থিতির বিরোধিতা করে প্রস্তাব পাস করেছে টরন্টো সিটি কাউন্সিল। তবে এ বিষয়ে এখনো সরাসরি কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি কানাডার ফেডারেল সরকার।

গত সপ্তাহে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে সিটি কাউন্সিলে গৃহীত হয়। প্রস্তাবে কানাডার জননিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা বিশ্বকাপ চলাকালীন আইসিই এজেন্টদের মোতায়েন প্রত্যাখ্যান করেন। এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় টরন্টো তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে কানাডিয়ান সংস্থার হাতে রাখতে চায়।

- Advertisement -

বিশ্বকাপের অংশ হিসেবে টরন্টো একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। এখানে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১২ জুন, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকবে বসনিয়া অ্যান্ড হারজেগোভিনা। ফলে শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে কানাডার জননিরাপত্তামন্ত্রী গ্যারি আনান্দসাঙ্গারির দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব একান্তভাবেই কানাডিয়ান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর। তারা টরন্টো ও ভ্যানকুভারে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেডারেল ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

আইসিই মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে মন্ত্রীর মুখপাত্র স্পষ্টভাবে বলেন, কানাডার মাটিতে আইসিইর কোনো আইনি এখতিয়ার বা কর্তৃত্ব নেই। যদিও এই বক্তব্য কার্যত আইসিই উপস্থিতির সম্ভাবনাকে নাকচ করে, তবুও আনুষ্ঠানিকভাবে “প্রত্যাখ্যান” শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি যা রাজনৈতিকভাবে কিছুটা সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনীতা আনান্দের দপ্তর থেকেও একই ধরনের কৌশলী প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। মুখপাত্র মিয়াহ টমাসি সরাসরি আইসিই প্রসঙ্গে মন্তব্য না করে বলেন, কানাডা বিশ্বকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণভাবে কানাডিয়ান কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য, ৩৯ দিনব্যাপী এই বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। এর মধ্যে ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কানাডার টরন্টো ও ভ্যানকুভারে। এই প্রেক্ষাপটে আইসিইকে ঘিরে বিতর্ক শুধু একটি প্রশাসনিক প্রশ্ন নয়, বরং এটি সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা নীতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জটিল সম্পর্ককেও সামনে নিয়ে এসেছে।

সব মিলিয়ে, টরন্টো সিটি কাউন্সিলের এই পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে একটি দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ করলেও, ফেডারেল সরকারের সতর্ক ও পরোক্ষ প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দেয় যে বিষয়টি এখনো কূটনৈতিক ও নীতিগত আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles