
গ্রেটার টরন্টো এরিয়া (জিটিএ)-র আবাসন বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য এখন পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি অনুকূল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের অবস্থান এখন অনেকটাই শক্তিশালী।
ডিজিটাল রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান ওয়াহি-এর সর্বশেষ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে জিটিএজুড়ে বাড়ি কেনাবেচার প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়কালে প্রায় ৭৫ শতাংশ নেবারহুডে বাড়ি বিক্রি হয়েছে বিক্রেতাদের চাওয়া দামের চেয়ে কমে। অর্থাৎ, বাজারে এখন ক্রেতাদের জন্য দর-কষাকষির সুযোগ অনেক বেশি।
ওয়াহি তাদের বিশ্লেষণে জিটিএ অঞ্চলের বিভিন্ন নেবারহুডে গড় তালিকাভুক্ত মূল্য এবং প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য তুলনা করেছে। তবে যেখানে পাঁচটির কম বাড়ি বিক্রি হয়েছে, সেসব এলাকা এই বিশ্লেষণের বাইরে রাখা হয়েছে, যাতে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বজায় থাকে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ২১৩টি নেবারহুডের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ এলাকায় বাড়ি বিক্রি হয়েছে তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে। ফেব্রুয়ারি মাসে এই হার ছিল ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, বিপরীত চিত্র আরও স্পষ্ট ৯২ শতাংশ নেবারহুডে বাড়ি বিক্রি হয়েছে কম দামে। আর তালিকাভুক্ত মূল্যে বিক্রি হয়েছে মাত্র ২ শতাংশ বাড়ি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ওয়াহি এই ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করে আসছে। সেই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের মার্চ মাসকে বাড়ি কেনাবেচার প্রতিযোগিতার দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল সময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে সবচেয়ে নিম্ন প্রতিযোগিতা দেখা গিয়েছিল ২০২৫ সালে, যখন প্রায় ২০ শতাংশ নেবারহুডে বাড়ির দাম তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু এখন সেই হার নেমে এসেছে মাত্র ৬ শতাংশে, যা বাজারে বড় ধরনের শীতলতার ইঙ্গিত দেয়।
২০২৬ সালের শুরুতে, বিশেষ করে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে টরন্টোর ইস্ট এন্ডে বাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কিন্তু মার্চ মাসে এসে সেই প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে। বাজারের গতি কমে যাওয়ায় ইস্ট এন্ডেও এখন ক্রেতাদের জন্য দর-কষাকষির সুযোগ বেড়েছে। তবে এখনও কিছু এলাকায় বাড়ির চাহিদা তুলনামূলক বেশি রয়েছে। মার্চ মাসে যেসব শীর্ষ পাঁচটি নেবারহুডে বাড়ির দাম তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে বেশি ছিল, তার মধ্যে তিনটিই ইস্ট এন্ডে অবস্থিত।
এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রানিমেড নেবারহুড। এখানে মার্চ মাসে একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ১২ লাখ ৭২ হাজার ৫০০ ডলার। উল্লেখযোগ্যভাবে, গড় তালিকাভুক্ত মূল্যের চেয়ে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ ডলার বেশি দামে বাড়ি বিক্রি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন মূলত সুদের হার, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ক্রেতাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে ঘটছে। অনেক ক্রেতাই এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নিচ্ছেন, যার ফলে বিক্রেতাদের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে দাম কমানোর। সব মিলিয়ে বলা যায়, জিটিএর আবাসন বাজার বর্তমানে একটি ‘ক্রেতাবান্ধব’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। যারা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ হতে পারে বিশেষ করে যদি তারা সঠিকভাবে দর-কষাকষি করতে পারেন।

