
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে পেইন ম্যানেজমেন্টে বিশেষজ্ঞ এক নিউরোসার্জনের বিরুদ্ধে গুরুতর পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে তার চিকিৎসা লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য বাতিলের মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স অব অন্টারিও (সিপিএসও) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা শেষে, যেখানে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়ম এবং এক রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে।
অভিযুক্ত চিকিৎসক স্টিফেন জোসেফ কোনাসিয়েকজ অন্টারিওর টরন্টো, হ্যামিল্টন ও নিউমার্কেটে ক্লিনিক পরিচালনা করেন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সিপিএসও-র পাঁচ সদস্যের একটি প্যানেল তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ঘোষণা করে। এর আগে ২০২২ সালেও পেশাগত অদক্ষতার অভিযোগে তাকে এক বছরের জন্য মেডিকেল সুপারভিশনের আওতায় রাখা হয়েছিল, যা তার চিকিৎসা দক্ষতা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
তত্ত্বাবধানকাল শেষে সিপিএসও অনুমোদিত একজন মূল্যায়নকারী তার চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তত ১৫টি রোগীর ক্ষেত্রে তিনি চিকিৎসার আদর্শ মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে রোগীদের চার্ট ১২ ও ১৫-এ তার চিকিৎসা পদ্ধতিতে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি ধরা পড়ে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল চিকিৎসা ফলপ্রসূ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি একই ধরনের ইনজেকশন বা নার্ভ ব্লকিং পদ্ধতি বারবার প্রয়োগ করে গেছেন। সাপ্তাহিক বা দ্বি-সাপ্তাহিক ব্যবধানে চিকিৎসা পুনরাবৃত্তি করা হলেও রোগীর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, এবং চিকিৎসা পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। ২০২৪ সালের ১০ এপ্রিল প্রকাশিত প্রতিবেদনের সারাংশে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশের পরও চিকিৎসক তার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনেননি। বরং তিনি ৭০ বছর বয়সী এক রোগীর ওপর একাধিক নার্ভ ব্লক প্রয়োগ করেন। ওই রোগী ২০১৫ সাল থেকে ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার জন্য তার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। প্রসিডিউরের পর রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোগীর পূর্ব থেকেই হৃদরোগের ইতিহাস ছিল, যা এই ধরনের ইনভেসিভ চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সিপিএসও তার চিকিৎসা লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি তাকে প্যানেলের সামনে হাজির হয়ে জবাবদিহি করতে হবে। এছাড়াও, লাইসেন্স পুনর্বহালের পর আরও ১২ মাস তাকে কঠোর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং এই তত্ত্বাবধানের সম্পূর্ণ ব্যয় নিজেকেই বহন করতে হবে।
এই ঘটনা অন্টারিওর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা ও রোগী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন আরও আগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। চিকিৎসা পেশায় দক্ষতা, আপডেটেড জ্ঞান এবং রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনা পরিবর্তনের গুরুত্ব এই ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

