
ফেব্রুয়ারিতে কানাডার শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে । দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন এবং শুল্কচাপের প্রভাব যে দেশটির অর্থনীতিতে পড়ছে, এই পরিসংখ্যান যেন তারই প্রতিফলন।
প্রতিষ্ঠানটির মাসিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে দেশজুড়ে মোট ৮৪ হাজার চাকরি হারিয়েছে। এর ফলে বেকারত্বের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৭ শতাংশে। অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার তুলনায় এই পরিস্থিতি অনেক বেশি নেতিবাচক। বিশেষ করে, এর আগে জানুয়ারিতে যেখানে সামান্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইঙ্গিত ছিল, ফেব্রুয়ারিতে তার সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেছে।
সিআইবিসির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ক্যাথেরিন জাজ এই পরিস্থিতিকে “প্রায় সব দিক থেকেই খারাপ খবর” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, শ্রমবাজারের এই দুর্বলতা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সতর্ক সংকেত।
ফেব্রুয়ারিতে পূর্ণকালীন চাকরি এক লাখেরও বেশি কমেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতে ৭৩ হাজার চাকরি হারানো হয়েছে। অথচ রয়টার্সের জরিপে অংশ নেওয়া অর্থনীতিবিদরা তুলনামূলকভাবে কম নেতিবাচক পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের শেষ দিকে কিছুটা নিয়োগ বাড়লেও ২০২৬ সালের শুরুতেই টানা দুই মাস কর্মসংস্থান হ্রাস দেখায় যে অর্থনীতির গতি কমে গেছে। গত ছয় মাসে মোট কর্মসংস্থান বেড়েছে মাত্র ৮০ হাজার যা একটি বড় অর্থনীতির জন্য খুবই সীমিত বৃদ্ধি।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৪৭ হাজার চাকরি হারিয়েছে। একইসঙ্গে ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীতেও উল্লেখযোগ্য চাকরি হ্রাস ঘটেছে। এটি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।
কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে এই প্রভাব ভিন্নভাবে দেখা গেছে। কুইবেকে ৫৭ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে, যা গত চার বছরে প্রথমবারের মতো বড় পতন। এখানে বেকারত্বের হার বেড়ে ৫.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ কলাম্বিয়াতেও ২০ হাজার চাকরি হারিয়েছে। এছাড়া সাস্কেচুয়ান ও ম্যানিটোবার মতো প্রদেশেও কর্মসংস্থান কমেছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি নরওয়েতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যিক বিরোধকে দায়ী করেছেন। তার মতে, দীর্ঘদিনের শুল্কচাপ এবং বাণিজ্য অনিশ্চয়তা শিল্প ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কর্মসংস্থানে।
সবকিছু মিলিয়ে, ফেব্রুয়ারির এই তথ্য কানাডার অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা। শ্রমবাজারে দুর্বলতা, তরুণদের কর্মসংস্থান হ্রাস, এবং প্রাদেশিক বৈষম্য সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। যদি দ্রুত নীতি সহায়তা ও বাণিজ্য স্থিতিশীলতা না আসে, তাহলে আগামী মাসগুলোতে অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

