
কানাডার অন্টারিও প্রাদেশিক সরকার প্রিমিয়ারের কার্যালয় এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের নথি জনসাধারণের তথ্য অধিকার আইনের আওতা থেকে বাদ দিতে একটি নতুন আইন প্রস্তাব করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগকে সরকার “গোপনীয়তা সুরক্ষা” ও “প্রশাসনিক আধুনিকায়ন” হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীদল এটিকে স্বচ্ছতার পরিপন্থী বলে কঠোর সমালোচনা করেছে।
শুক্রবার সকালে পাবলিক অ্যান্ড বিজনেস ডেলিভারি ও প্রকিউরমেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্রফোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাবের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই আইন পরিবর্তনের প্যাকেজের অংশ হিসেবে আনা হচ্ছে, যার লক্ষ্য অন্টারিওর সাইবার নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা কাঠামোকে আধুনিক করা এবং অন্যান্য প্রদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা।
ক্রফোর্ড বলেন, এই উদ্যোগ ওয়েস্টমিনিস্টার পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি কেবিনেট গোপনীয়তা অনুসরণ করে। তার মতে, মন্ত্রিসভার ভেতরে মুক্তভাবে আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে গোপনীয়তা অপরিহার্য। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় রয়েছে প্রিমিয়ারের কার্যালয়, মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের অফিস এবং সংসদীয় সহকারীরা ফ্রিডম অব ইনফরমেশন বা তথ্য অধিকার আইনের আবেদন থেকে অব্যাহতি পাবে। এছাড়া, আইনটি ভূতাপেক্ষভাবে প্রযোজ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে, অর্থাৎ অতীতের নথিও এই সুরক্ষার আওতায় আসবে। ফলে পূর্বের সরকারি যোগাযোগও জনসাধারণের জন্য অপ্রাপ্য হয়ে যেতে পারে।
ক্রফোর্ডের ভাষায়, “এটি নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা করবে, যা বৃহত্তর জনস্বার্থেই প্রয়োজন।” তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মন্ত্রীদের কার্যালয় থেকে পাবলিক সার্ভিসকে দেওয়া নির্দেশনা এখনো তথ্য অধিকার আইনের আওতায় থাকবে।
এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধীদলগুলো। কুইন’স পার্কে দেওয়া বক্তব্যে অন্টারিওর নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) নেতা মারিট স্টাইলিস বলেন, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতার জন্য ক্ষতিকর। তার অভিযোগ, “সরকার জনগণের কাছ থেকে তথ্য লুকাতে চায় এটাই একমাত্র কারণ। সরকারের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হচ্ছে তা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।”
বর্তমানে সাংবাদিক, গবেষক এবং সাধারণ নাগরিকরা নিয়মিতভাবে তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। নতুন আইন কার্যকর হলে এই প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রশাসনিক গোপনীয়তা রক্ষা করলেও তা সরকারের জবাবদিহিতা কমাতে পারে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।
অন্টারিও সরকারের এই উদ্যোগ একদিকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও গোপনীয়তার যুক্তি তুলে ধরছে, অন্যদিকে এটি স্বচ্ছতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ তৈরি করছে। আইনটি পাস হলে, ভবিষ্যতে সরকারের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে যা গণতন্ত্রে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

