হরমুজ প্রণালীতে আক্রান্ত টরন্টোগামী খাদ্যবোঝাই জাহাজ

হরমুজ প্রণালীতে আক্রান্ত টরন্টোগামী খাদ্যবোঝাই জাহাজ - the Bengali Times
বৈদেশিক মন্ত্রী অনিতা আনন্দ

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-এ আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার এই প্রণালী অতিক্রম করার সময় তিনটি কার্গো জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউ.কে. মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স। এর মধ্যে একটি জাহাজে খাদ্যবাহী চালান ছিল, যার গন্তব্য ছিল কানাডার টরন্টোভিত্তিক একটি সংস্থা।

ঘটনাটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে কারণ ওই খাদ্যসামগ্রী টরন্টোর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত ছিল। ডেইলি ব্রেড ফুড ব্যাংক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিল হিদারিংটন এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর একটি তাদের জন্য খাদ্য বহন করছিল।

- Advertisement -

ইউ.কে. মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার প্রণালীটি অতিক্রম করার সময় তিনটি জাহাজ একযোগে হামলার শিকার হয়। এর মধ্যে একটি থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী জাহাজ, যেখানে ২৩ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। হামলার ফলে অন্তত একটি জাহাজে আগুন ধরে যায়, যদিও সেটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সূত্র জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ধরনের হামলা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে জাহাজ সংশ্লিষ্ট অন্তত ১২টি ঘটনা ঘটেছে এবং এতে অন্তত সাতজন নাবিক নিহত হয়েছেন।

নিল হিদারিংটন বলেন, “আমরা বর্তমানে কয়েক ডজন কনটেইনার চাল সংগ্রহ করছি। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজে ঠিক কতটি কনটেইনার ছিল তা নিশ্চিত নই সম্ভবত আধা ডজনের মতো। এই পরিমাণ খাদ্য দিয়েই টরন্টো শহরের বহু মানুষের খাবারের চাহিদা পূরণ করা যেত।” তিনি আরও জানান, প্রতিটি কনটেইনার খাদ্যের মূল্য প্রায় ১৫ হাজার ডলার। সেই হিসাবে এই হামলায় প্রায় ৯০ হাজার ডলার মূল্যের খাদ্য ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি মোকাবিলায় সংস্থাটি বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। হিদারিংটনের ভাষায়, “আমাদের কিছুটা ছাঁটাই ও পুনর্বিন্যাস করতে হবে, যাতে প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি খাদ্য সহায়তা পেতে পারেন।”

খাদ্য ক্ষতির পাশাপাশি সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে নাবিকদের নিরাপত্তা। হিদারিংটন বলেন, “আমাদের প্রধান চিন্তা হরমুজ প্রণালীতে থাকা নাবিকদের জীবন। একই সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করতে চাই, যাদের জন্য এই খাদ্য আনা হচ্ছিল তারা যেন শেষ পর্যন্ত তা পায়।”

ইরান ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত বা বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো অস্থিরতা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

হরমুজ প্রণালীতে এই সাম্প্রতিক হামলা আবারও প্রমাণ করল, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কীভাবে সরাসরি মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে ব্যাহত করতে পারে। টরন্টোর মতো একটি শহরের খাদ্য নিরাপত্তা পর্যন্ত এই সংঘাতের প্রভাব পৌঁছে গেছে যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles