
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে ঘিরে রাজধানীর গুলশানে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এর আগে ৪ জানুয়ারি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির মধ্যে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে যান তিনি।
সেই সময় গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কে কার্যালয়ের সামনে ইট ও বালুভর্তি একাধিক ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি জলকামান, এপিসি ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিএনপির ঘোষিত ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এই অবরোধ তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
অবরুদ্ধ অবস্থায় কার্যালয়ের ভেতরে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে অবস্থান নেন খালেদা জিয়া। প্রায় ১৪ দিন পর ১৮ জানুয়ারি পুলিশ ভ্যান, জলকামান ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতি এর আগেও তৈরি হয়েছিল। ২০১৩ সালের শেষ দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুলশানে তার বাসার সামনের সড়কও একইভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি এই ঘটনার স্মৃতি নতুন করে আলোচনায় আসে সাংবাদিক ও লেখক মারুফ কামাল খান-এর এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি সেই সময় খালেদা জিয়া-এর প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পোস্টে মারুফ কামাল খান দাবি করেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় গুলশান কার্যালয়ের সামনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতেন। তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক সংসদ সদস্য শাজাহান খান-এর নেতৃত্বে একটি দল সেখানে মহড়া দিত। এছাড়া সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম-এর সঙ্গেও কিছু অভিনয়শিল্পী সেখানে উপস্থিত হতেন।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী-কে নিয়েও অভিযোগ তোলেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় কিছু ব্যক্তি সেখানে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক আচরণ করতেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একই পোস্টে তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতির কথাও তুলে ধরেন এবং অতীতের সেই সময়কে ‘কঠিন অভিজ্ঞতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, অবরুদ্ধ অবস্থায় তাদের খাদ্য সরবরাহও সীমিত ছিল এবং চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের এমন ঘটনা ও স্মৃতিচারণ বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে পারে।

