
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে ভ্রমণ পরিসংখ্যানে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডিয়ানদের দেশে ফেরার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এই প্রবণতা শুধু সাময়িক নয়, বরং টানা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান।
সরকারি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডিয়ান বাসিন্দাদের ফিরতি ট্রিপের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ লাখ। যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি টানা ১৩তম মাস, যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কানাডিয়ানদের ফেরার সংখ্যা কমল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে ২০২৫ সালের শুরু থেকেই কানাডিয়ানদের ভ্রমণ আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে সড়কপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গাড়িতে করে কানাডায় ফেরার সংখ্যা কমে ১৩ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৩ শতাংশ কম। এর মধ্যে প্রায় ৬৭.৫ শতাংশ ভ্রমণকারী একই দিনে যাওয়া-আসা সম্পন্ন করেছেন, যা মূলত স্বল্পমেয়াদি বা সীমান্তবর্তী ভ্রমণ নির্দেশ করে।
শুধু সড়কপথ নয়, আকাশপথেও ভ্রমণ কমেছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিমানে করে কানাডায় ফেরা যাত্রীর সংখ্যা ১২.৮ শতাংশ কমেছে, যা দেখায় যে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণেও প্রভাব পড়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অন্যান্য দেশ থেকে কানাডিয়ানদের ফিরতি ট্রিপ ১০.৬ শতাংশ বেড়ে ১৫ লাখে পৌঁছেছে। এটি ইঙ্গিত করে যে, কানাডিয়ানরা বিকল্প ভ্রমণ গন্তব্যের দিকে ঝুঁকছেন।
সব মিলিয়ে জানুয়ারিতে মোট ৩৬ লাখ কানাডিয়ান বাসিন্দা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। অর্থাৎ, সামগ্রিক আন্তর্জাতিক ভ্রমণেও একটি মন্দাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন নাগরিকদের কানাডা সফরেও সামান্য হ্রাস দেখা গেছে। জানুয়ারিতে প্রায় ১১ লাখ মার্কিন নাগরিক কানাডায় এসেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ০.৩ শতাংশ কম। যদিও সড়কপথে আগমন কিছুটা কমেছে, তবে আকাশপথে আগমন ২.৭ শতাংশ বেড়েছে।
এই প্রবণতা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী ব্যবসা, পর্যটন শিল্প এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে অন্যান্য দেশে কানাডিয়ানদের আগ্রহ বাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, যা ভ্রমণ শিল্পের জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই তৈরি করছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন শুধু কূটনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন, বিশেষ করে ভ্রমণ অভ্যাসেও গভীর প্রভাব ফেলছে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

