
মাঝ আকাশে এক মর্মান্তিক ঘটনায় দীর্ঘ সময় ধরে মৃতদেহের সঙ্গে একই উড়োজাহাজে থাকতে হয়েছে যাত্রীদের—যা স্বাভাবিকভাবেই তাদের জন্য মানসিকভাবে কঠিন অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়ায়।
ঘটনাটি ঘটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে, যা হংকং থেকে লন্ডন যাচ্ছিল। ফ্লাইটটি আকাশে ওঠার প্রায় এক ঘণ্টা পরই ষাটোর্ধ্ব এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। এরপর প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে মৃতদেহটি বিমানের মধ্যেই রাখা হয়।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, যেমন দ্য সান ও ডেইলি এক্সপ্রেস –এর প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রথমে লাশটি কোথায় রাখা হবে তা নিয়ে ক্রুদের মধ্যে আলোচনা হয়। ফ্লাইট ডেক থেকে সেটিকে টয়লেটে রাখার প্রস্তাব এলেও ক্রুরা তা গ্রহণ করেনি। পরে মৃতদেহটি কাপড় ও অন্যান্য উপকরণ দিয়ে ঢেকে বিমানের পেছনের একটি গ্যালিতে রাখা হয়।
তবে সেখানে একটি সমস্যা তৈরি হয়—গ্যালির মেঝেতে হিটিং সিস্টেম চালু ছিল, যা কিছু ক্রু খেয়াল করেননি। ফলে ফ্লাইটের শেষ দিকে ওই অংশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে।
অবশেষে বিমানটি হিথ্রো বিমানবন্দর-এ অবতরণ করলে পুলিশ তদন্তের জন্য বিমানে ওঠে। যাত্রীদের প্রায় ৪৫ মিনিট আসনে বসিয়ে রাখা হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহ ব্যবস্থাপনার একটি নির্দিষ্ট প্রটোকল থাকে। শিফোল বিমানবন্দর–এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, বিমান অবতরণের পর বিশেষ ব্যবস্থায় মৃতদেহ সরাসরি নির্দিষ্ট গাড়িতে নেওয়া হয় এবং পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ও ধর্মীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এই পুরো ঘটনাটি দেখায়, আকাশপথে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি কতটা জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এমন অবস্থায় যাত্রী ও ক্রু—উভয়ের জন্যই তা কতটা মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

