
হটাৎ করে উচ্চ মাত্রায় আত্ম নিয়ন্ত্রণক হওয়ার দরকার নেই।
তবে আস্তে আস্তে আপনি আপনার মন, শরীর বা পাকস্থলীকে বেশ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেন !!!
নতুন বছর আসলেই আমাদের শুরু হয়ে যায় রেজুলেশনের হুড়োহুড়ি, কিন্তু কিছুদিন না যেতেই যা তাই ! সে জন্যে রয়ে-সোয়ে কাজ করতে হয়। সাধরণ জীবনযাপনের চেষ্টা করতে গিয়ে আপনাকে গ্রিক দার্শনিক ডায়োজিনিসের মতো অতো উচ্চ আত্মনিয়ন্ত্রণ দরকার নেই।
আপনি আস্তে আস্তে আপনার মন এবং শরীরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আপনার মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারেন।
প্রথম প্রথম একটু কঠিন হলেও আস্তে আস্তে সয়ে যাবে। আমি যেহেতু নিজে প্রমান করে দেখেছি সেজন্যে বলছি।
মাছে-ভাতে বাঙালি আমিও। জীবনে ৩ বেলা ভাত খাওয়ার দিন আমারও ছিল। তবে সেভাবে continue করাটা শরীরের জন্যে ভালো ছিল না। তাই আস্তে আস্তে অহরহ তেল, ঝাল, মশলা, চিনি, ঘি খাওয়া অভ্যাস ত্যাগ করতে হয়েছে। অবশেষে আল্লার রহমতে মন, শরীর এবং পেট একটা Harmonyতে এসেছে এবং ডায়োজিনিসের মত অতটা উচ্চ আত্মনিয়ন্ত্রণ না হলেও যেটা দরকার সেটা হচ্ছে, আলহাদুলিল্লাহ।
ছবিতে যে নাস্তা, লাঞ্চ এবং ডিনারের খাবার আছে সেটি মোটামুটি মাসে ৩/৪ দিন বাদে প্রতিদিনই খাওয়া হয়। অহরহ শাহী খাবার ছাড়া এগুলিতেই মোটামুটি অভস্ত হয়ে গেছি, আলহামদুলিল্লাহ। সারাদিনে কার্বোহাইড্রেট বা ভাত/রুটি বলতে সকালে ২/৩ টেবিল চামচ ওট, দুপুরে ২/৩ মুঠ মুড়ি এবং কিছু হোল-হুইট ক্রাকার্স এই। রাতে শুধুমাত্র শাকসবজি সিদ্ধ এবং মাছ অথবা মাঝে মধ্যে চিকেন ব্রেস্ট রোস্ট দিয়ে চলে যাচ্ছে। মাসে ২/৩দিন শাহী খাবার বলতে হয়তো কখনো হোমমেড পিজ্জা, পাস্তা, বিরানি, নুডুলস অথবা কোথাও দাওয়াত থাকলে সেখানে খাওয়া বা রেস্টুরেন্টে যাওয়া ইত্যাদি, তবে সেটি মাসে ৩০ দিনের মধ্যে মাত্র ৩/৪ দিন হয়তো।
যেহেতু, অনেক সকালে ওঠা হয় তাই সকালের নাস্তাও অনেক সকালে করা লাগে, তাই দুপুর ১২টার দিকে আবার স্নাক্স লাগে। সে কারণে বিকাল ৫/৬টার মধ্যেই রাতের খাবার খেতে হয়। এর পর রাত ৯/১০টার দিকে কিছু ফল-টল খেয়ে নিলে আর খিদে লাগে না। খাবারগুলি খুব বেশি rich মনে না হলেও সারাদিন শরীর এবং মনে অনেক এনার্জি থাকে, সাথে ঘুম ভালো হয় এবং পেট সবসময় পরিষ্কার থাকে।
আপনি যতই নিজেকে সুস্থ মনে করেন না কেন একটি বয়সে গিয়ে আপনাকে আর আগের মত লাইফ স্টাইল চালালে চলবে না।
গত বছর জুন মাস থেকে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের Psycho Geriatric Clinic এর সাথে একটি প্রজেক্টে কাজ করছি। সেখানকার রোগীদের সবাই সিনিয়র অর্থ্যাৎ ৬৫ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে। এখানে কাজ করতে গিয়ে মানুষের জীবনের শেষ চ্যাপ্টার সমন্ধে কিছু নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরী হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত কখনো লিখবো।
উনাদের সাথে কাজ করতে গিয়ে প্রায় বা আব্দুল করিমের গানের কলি মনে পড়ে। “আগের বাহাদুরি এখন গেলো কোই”.
ধনী-গরিব, ছোট-বড়, সাদা-কালা সব মানুষেরই সেই বাহাদুরির পতন একসময়ে হবেই !!
সবাই ভালো থাকবেন, মনের চাওয়া বা আকাঙ্খার সাথে শরীর এবং সামর্থের সামঞ্জস্যের চেষ্টা করবেন।
আল্লাহ সবার মঙ্গল করুন।

