
কানাডার কনকনে এই শীতে ঘরে বসে ফেসবুক রিলস স্ক্রল করছিলাম।
হঠাৎ সামনে এলো বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে এক ইউটিউবারের সাক্ষাৎকার। ষাটোর্ধ্ব এক চাচার সামনে মাইক্রোফোন ধরতেই তিনি যা বললেন, তা শুনে হাসব না কি কাঁদবো—বুঝতে পারছিলাম না!
ইউটিউবার: “চাচা, সামনের নির্বাচনে ভোট দেবেন কারে?”
চাচা (বিনা দ্বিধায়): “কেন, জামাতরে!”
ইউটিউবার: “তা হঠাৎ জামাত কেন?”
চাচা: “আরে ভাই, ওরা তো অন্তত খাড়াইয়া মোতে না! সেইজন্যই ভোট দিমু।”
ভোট দেওয়ার এমন ‘পবিত্র’ ও স্বাস্থ্যসম্মত যুক্তি দেখে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরার দশা!
তবে হাসির আড়ালে একটা বিষয় পরিষ্কার—এটাই গণতন্ত্রের আসল সৌন্দর্য। কার পছন্দ কেন, কার যুক্তি কী—তা একদম তার ব্যক্তিগত বিষয়।
প্রকাশভঙ্গিতে ভিন্নতা থাকলেও মতামত দেওয়ার এই যে স্বাধীনতা, এটাই তো আমাদের দিনশেষে কাম্য।
দূর প্রবাসে বসে ডিজিটাল পর্দায় বাংলাদেশের নির্বাচনের হাওয়া দেখছি। একটা ব্যাপার মানতেই হবে, মানুষের মধ্যে এবার বেশ একটা ‘জমজমাট’ আমেজ। চায়ের কাপে ঝড় উঠছে, রিলসের কমেন্ট বক্সে যুদ্ধ চলছে।
মাঠের চিত্র বলছে, এবার ‘ধানের শীষের’ জোয়ারটা বেশ প্রবল। আওয়ামী লীগ মাঠের লড়াইয়ে সেভাবে না থাকায়, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে বিএনপি যে বড় ব্যবধানে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে—তা অনেকটা ওপেন সিক্রেট।
অন্যদিকে, অনেকেই বলছেন জামায়াতে ইসলামীর কথা। চাচার পছন্দের সেই দল হয়তো এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আসন পেয়ে চমক দেখাবে। তবে সরকার গঠনের মতো ম্যাজিক ফিগার ছোঁয়া তাদের জন্য এখনো সুদূর পরাহত বলেই মনে হয়।
তবে রাজনীতি আর ক্রিকেটে শেষ বলে কী হবে, তা আগে থেকে বলা মুশকিল। অনিশ্চয়তাই তো নির্বাচনের আসল মজা।
দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা ওঠে আর কার বাক্সে ‘স্বাস্থ্যসম্মত’ ভোটের জোয়ার লাগে!
টরন্টো, কানাডা

