
টরন্টোর ড্যানফোর্থ এন্ড ভিক্টোরিয়া থেকে শুরু হয়েছিলো বাংলা টাউন। এটা এখন গিয়ে ঠেকেছে ওয়ার্ডেন এন্ড ড্যানফোর্থে। এখন শতশত দোকান, অফিস, রেস্টুরেন্ট আরো কতকিছু। ড্যানফোর্থ আর ডজের কর্নারের শী নেক্সট ফ্যাশনের কর্নধার সাধন দে বেঙ্গলি টাইমসকে বললেন, একটা সময় ছিলো এই এলাকায় এতো মানুষ ছিলো না। বাংলাদেশীতো নয়ই। এখন কত্ত মানুষ। গড়ে উঠেছে দোকান। হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এই বাংলাটাউন থেকে।
বাংলাদেশিরা যখনই ঘুরতে আসেন টরন্টো তখন একবারের জন্যে হলে ঘুরে যান বাংলাটাউন। বাংলাটাউন ঘিরেই বাংলাদেশিদের বিরাট বসতি। বিশেষ করে ক্রিসেন্ট টাউন এরিয়া, টিসডেল আর ম্যাসি স্কয়ারে প্রায় ৬-৭ হাজার বাংলাদেশির বসতি। সবারই নিত্যদিনের আশা-যাওয়া এই বাংলা টাউন।
ড্যানফোর্থ আর ফার্মেসি পার হয়ে গত তিনবছর আগে দুই বাংলাদেশি ব্যবসায়ি একটি প্লাজা কিনে নাম দেন বাংলাদেশ প্লাজা। এই প্টলাজাটি এখন জমজমাট। সকাল আট টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে এখানকার দুটি রেস্টুরেন্ট থাই ভিউশন ও ঢাকা কিচেন। দিনের চাইতে সন্ধ্যার পর বেশি জমজমাট হয়ে ওঠে এই প্লাজা। বাংলাদেশ প্লাজার ম্যানেজম্যান্ট থেকে জানানো হয় আগামী কয়েকবছরের মধ্যেই এখানে কমার্শিয়াল কন্ডো প্রজেক্ট হবে। এটা হবে বাংলাদেশি মেইন বিজনেস হাব। নয়তলা এই ভবনে থাকবে শপিং কমপ্লেক্স, ব্যাঙ্কোয়েট হল, অফিস, ক্লিনিকসহ প্রায় সবকিছু।
বাংলাটাউন এবং আশেপাশের এরিয়ায় প্রায় ৩৫ হাজার বাংলাদেশীর বসবাস। এদেরকে ঘিরেই বাংলা টাউনের অর্থনীতির চালিকা শক্তি। যতো দিন বাড়ছে বাংলা টাউন যেনো তার সীমানা বিস্তৃত করেই চলছে। বাংলা টাউন একটি আশা আর আকাঙ্খার প্রতীক। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে মানুষ ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বাংলা টাউনে আসে। কেউ হয় ব্যবসায়ি। আর কেউ হয় প্রফেশনাল। শুধু তাই নয়। বাংলা টাউনের সঙ্গে বিকাশ ঘটছে বাংলা সংস্কৃতি ও কৃস্টিরও। বাংলাটাউনের পাশে অবস্থিত ডেনটোনিয়া পার্কে নির্মাণ করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ। প্রতিবছর ২১ ফেব্রæয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষা শহীদদের প্রতি এখানে শ্রদ্ধা জানানো হয়। বাংলা টাউন এভঅবে বিকশিত হতে আর কতদূরে গিয়ে ঠেকবে এখন এটাই দেখার বিষয়।

