সকালের যে কাজগুলো দিনটি ফলপ্রসূ করবে

সকালের যে কাজগুলো দিনটি ফলপ্রসূ করবে - the Bengali Times
ছবি সংগৃহীত

দিনের সবচেয়ে কর্মোপযোগী সময় হলো সকাল। সারা রাত বিশ্রামের পর সকালে শরীর ও মন থাকে সজীব ও প্রাণপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ। এ সময় মন বিক্ষিপ্ত থাকে না। পূর্ণ মনোযোগ প্রয়োজন এমন কাজের জন্য সকাল সবচেয়ে ভালো। দিনের প্রস্তুতি হিসেবে সকালের কাজের তালিকায় কিছু নির্দিষ্ট কাজ রাখলে দিনটি ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে।

সময় ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, গ্রুপ প্রজেক্ট, পার্ট-টাইম কাজ সবকিছুর চাপ সামলাতে গিয়ে অনেকেই দিনের শুরুতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। অথচ দিনের প্রথম কয়েকটি ঘণ্টা যদি একটু পরিকল্পনা করে কাজে লাগানো যায়, তাহলে সারা দিনই মনোযোগ অটুট থাকে, মনে থাকে উদ্যম আর দেহে প্রাণপ্রাচুর্য। দিনটি ফলপ্রসূ করতে সকালে করতে পারেন নিম্নোক্ত কাজগুলো ভোরে ঘুম থেকে জাগা দিনটি ভালোভাবে শুরু করার অন্যতম শর্ত হলো, ভোরে ঘুম থেকে ওঠা। ভোরে ঘুম থেকে উঠলে দিনের কাজের জন্য সময় বেশি পাবেন। অনেকেই সিনেমা-সিরিজ দেখে

- Advertisement -

অথবা ফোন ব্যবহার করে অনেক রাত পর্যন্ত জাগেন। পরদিন অনেক দেরিতে ঘুম ভাঙে। অভ্যাসটি বদলাতে হবে। রাত এগারোটার আগেই বিছানায় যাওয়ার অভ্যাস করুন। পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের একাগ্রতা, স্মৃতিশক্তি ও সমস্যার সমাধান করার দক্ষতা বাড়ায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠুন। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জেগে ওঠার অভ্যাস তৈরি করলে সকালে শরীর ও মন প্রফুল্ল থাকে।

ঘুম থেকে উঠেই হাতে ফোন নেবেন না

ঘুম ভাঙতেই ফোনে নোটিফিকেশন দেখার অভ্যাস অনেকেরই আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর নোটিফিকেশন দেখতে দেখতে সময় চলে যায় অনেকটা। সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন আপডেট, মেসেজ বা ইমেইল দেখে মস্তিষ্ক সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়াশীল অবস্থায় চলে যায়। দিনটি ফলপ্রসূ করতে যে সুচিন্তিত পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়, সেটি আর করা হয় না। ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করুন। অন্তত ৩০ মিনিট ফোন ব্যবহার থেকে বিরত রেখে নিজের শরীর-মনকে সচেতনভাবে দিন শুরু করার সুযোগ দিন।

সকালের মাত্র দশ-পনেরো মিনিটের হালকা ব্যায়াম শরীরের রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, মস্তিষ্ক সজাগ হয় এবং সারা দিনের কাজের জন্য হয়ে ওঠে পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দিবসের বড় অংশটিই বসে কাটান ক্লাসরুমে, লাইব্রেরিতে বা কম্পিউটারের সামনে। নিয়মিত ব্যায়াম না করলে শরীর হয়ে পড়ে অবসন্ন। কাজের স্পৃহা কমে যায়। তাই সারা দিন উদ্যম ধরে রাখতে সকালে হাঁটা, যোগব্যায়াম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজের মতো হালকা ব্যায়াম করুন।

স্বাস্থ্যকর প্রাতরাশ

অনেক সময় ক্লাসে উপস্থিত হতে গিয়ে বাদ পড়ে যায় প্রাতরাশ। অথচ মনোযোগ ধরে রাখা, ক্লাসে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়া এবং দীর্ঘক্ষণ মানসিক কাজ করতে হলে শক্তির প্রয়োজন। সকালের খাবার না খেলে শরীর হয়ে পড়ে অবসন্ন। তাই বাদ দেওয়া যাবে না প্রাতরাশ। সকালের নাশতায় রাখতে পারেন ডিম, ওটস, ফল, পিনাট বাটার টোস্ট বা দই। কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার সকালে খাওয়া ভালো।

দিনের কাজের তালিকা করুন

দিনের শুরুতেই একটি পরিকল্পনা করে নিলে দিনটি ফলপ্রসূ হয়। দিনের কাজগুলো লিখে সেখান থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য সময় নির্ধারণ করুন। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজের তালিকা করুন। তালিকা তৈরি করলে কাজ সম্পর্কে কোনো দ্বিধা থাকে না, অপ্রয়োজনীয় চাপ কমে।

দিনের শুরুতে কিছু সময়ের ধ্যান আপনার মনকে স্থির করবে, তালিকার কাজগুলো কীভাবে সম্পন্ন করবেন তার পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে সাহায্য করবে, মানসিকভাবে প্রশান্তি দেবে। মেডিটেশনে আপনি সুযোগ পাবেন ইতিবাচকভাবে নিজেকে দেখার। মেডিটেশনে এমন পাঁচটি বিষয় খুঁজে বের করুন, যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। মনের এই ইতিবাচকতা আপনার দিনটি ইতিবাচকভাবে অতিবাহিত করতে সাহায্য করবে। সকালে কিছু সময় নিজের সঙ্গে কাটালে মন স্থির থাকে এবং স্ট্রেস মোকাবিলার ক্ষমতা বাড়ে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles