স্বল্প ব্যবহৃত স্কুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করছে ফোর্ড সরকার

স্বল্প ব্যবহৃত স্কুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করছে ফোর্ড সরকার - the Bengali Times
শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা সুপারভাইজড স্কুল বোর্ডগুলোর সুপারভাইজারদের অতিরিক্ত বা স্বল্প ব্যবহৃত স্কুলগুলোর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন

অন্টারিওতে স্বল্প শিক্ষার্থীসংখ্যা বা স্বল্প ব্যবহৃত স্কুলগুলো নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফোর্ড সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণার পর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশেষ করে স্কুল বন্ধের ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা যদি ভবিষ্যতে শিথিল করা হয়, তাহলে এর প্রভাব কী হতে পারে তা নিয়ে।

একজন অভিভাবক এস বড়ুয়া বলেন, তার সন্তানরা একটি ছোট স্কুলে পড়ে, যেটি এখন সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তিনি বলেন, “আমার মেয়ে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জরুরি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে তার পড়াশোনায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে। আমার কাছে মনে হয়, এসব বিষয়ই সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।”

- Advertisement -

অন্টারিওর শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা সুপারভাইজড স্কুল বোর্ডগুলোর সুপারভাইজারদের অতিরিক্ত বা স্বল্প ব্যবহৃত স্কুলগুলোর পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ সম্পদ সরাসরি শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়। তবে একই বিবৃতিতে সরকার এটাও নিশ্চিত করেছে যে, আপাতত স্কুল বন্ধের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা বহাল থাকছে।

পল ক্যালান্দ্রা শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্টারিও প্রদেশ ছয়টি স্কুল বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সরকারের দাবি, অব্যবস্থাপনার কারণেই এই বোর্ডগুলোর ওপর প্রাদেশিক তত্ত্বাবধান আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি বোর্ড হলো টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড এবং টরন্টো ক্যাথোলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড। এই প্রেক্ষাপটেই স্কুল পর্যালোচনার উদ্যোগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক দানা বাঁধছে।

আরেক উদ্বিগ্ন অভিভাবক বলেন, “কোন কোন স্কুল পর্যালোচনার আওতায় আসবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অতিরিক্ত বা স্বল্প ব্যবহৃত স্কুল নির্ধারণে সরকার কোন মানদণ্ড অনুসরণ করছে, তা একেবারেই স্পষ্ট নয়।”

বিরোধীদলও এই পর্যালোচনার সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্টারিও লিবারেল পার্টির নেতা জন ফ্রেজার এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে যদি প্রশ্ন করেন, আমি বলব এই উদ্যোগ কিছুটা সন্দেহজনক। প্রথমে তারা বোর্ডগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিল, এখন আবার বলছে কিছু স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।”

যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে স্কুল বন্ধের নিষেধাজ্ঞা এখনও কার্যকর রয়েছে, তবুও অভিভাবক ও বিরোধীদের আশঙ্কা এই পর্যালোচনা ভবিষ্যতে স্কুল একীভূতকরণ বা বন্ধের পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ছোট স্কুলে পড়ুয়া শিশুদের শিক্ষাগত সহায়তা, মানসিক স্থিতি ও স্থানীয় কমিউনিটির ওপর এর প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অন্টারিওর শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, স্পষ্ট মানদণ্ড এবং অভিভাবকদের আস্থা অর্জনই এখন ফোর্ড সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles