
অন্টারিওর আবাসন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা রিয়েল এস্টেট কাউন্সিল অব অন্টারিও (রেকো)-র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্রেন্ডা বুকানান পদত্যাগ করছেন। প্রদেশের পক্ষ থেকে সংস্থাটির ওপর প্রশাসক নিয়োগের কয়েক মাসের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। আইপ্রো রিয়েলটি কেলেঙ্কারি সামাল দেওয়া নিয়ে উদ্বেগের আবহেই রেকোর পরিচালনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল অন্টারিও সরকার।
বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে রেকোর প্রশাসক জঁ লেপাইন ব্রেন্ডা বুকানানের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করবেন বুকানান। তবে রূপান্তরকালীন সময়ে তিনি সংস্থার কাজে সহযোগিতা চালিয়ে যাবেন এবং নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সিইওর দায়িত্বও পালন করবেন।
বিবৃতিতে লেপাইন বলেন, “রেকোর জন্য ব্রেন্ডার অঙ্গীকার এবং তার অবদানের জন্য আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একই সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভকামনা রইল।” তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালকে সামনে রেখে রেকোর জন্য একটি “উচ্চাভিলাষী এজেন্ডা” রয়েছে এবং সংস্থার কর্মী, অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করে জনগণের আস্থা পুনর্গঠনে তিনি বদ্ধপরিকর।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে রেকোর প্রশাসকের দায়িত্ব নেন জঁ লেপাইন। তার নিয়োগের সময় পাবলিক অ্যান্ড বিজনেস সার্ভিস ডেলিভারি অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ক্রফোর্ড জানিয়েছিলেন, নিরীক্ষায় রেকোর নিয়ন্ত্রক চর্চা, প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিতে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মন্ত্রীর কথায়, “গত কয়েক মাসে আমরা ভোক্তা, পর্ষদ সদস্য, রিয়েলটর ও ব্রোকারদের কাছ থেকে বারবার শুনেছি যে তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন। সেই আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং অন্টারিওবাসীকে সুরক্ষা দিতেই এই সিদ্ধান্ত।”
রেকোর ওপর আস্থা সংকটের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আইপ্রো রিয়েলটি কেলেঙ্কারি। চলতি বছরের ১৯ মে রেকো জানতে পারে, আইপ্রো রিয়েলটির সহ-প্রতিষ্ঠাতারা সংস্থার ট্রাস্ট অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৮০ লাখ ডলার ব্যবহার করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থ পরিচালন ব্যয় বা বিনিয়োগকারীদের পরিশোধের জন্য নয়, বরং ডাউন পেমেন্ট ও রিয়েলটরদের কমিশন মেটাতে খরচ করা হয়েছিল। এই ঘটনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি ও জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।
ব্রেন্ডা বুকানান গত জুলাইয়ে জাতীয় পর্যায়ের অনুসন্ধান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেকোর সিইও হিসেবে নিয়োগ পান। তার আগে তিনি সংস্থাটির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আইপ্রো কেলেঙ্কারি ও তার পরবর্তী প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের জেরে তার নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে।
বুকানানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে রেকোর নেতৃত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি ঘটল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসকের নেতৃত্বে রেকো কীভাবে নিজেদের কাঠামো ও কার্যপ্রণালি সংস্কার করে জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং অন্টারিওর আবাসন খাতকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে পারে।

