
চীনের হেনান প্রদেশে মা নামে একজন প্রবীণ নারী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জন্য একজন ‘মেয়ে’ খুঁজছেন জানিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।
৭০–এর কোঠার এই নারী জানিয়েছেন, বয়স ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি এখন একা চলতে পারেন না। হাঁপানির রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ১০০ মিটার হেঁটেও হাঁপিয়ে যান। তাই তিনি চান—কেউ তার পাশে থাকুক, প্রতিদিনের কাজে সহায়তা করুক এবং মানসিকভাবে সঙ্গ দিক।
১৯ নভেম্বর এক টিভি অনুষ্ঠানে মা জানান, তার নিজের সন্তানরা বহু দিন ধরেই তার খোঁজখবর নেন না। বড় মেয়ে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান। আর ছোট মেয়ে মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে (mental disability) মাকে দেখাশোনা করার মতো অবস্থায় নেই। স্বামীকে বহু বছর আগে ডিভোর্স দেওয়ার পর অন্য আত্মীয়দের সঙ্গেও তার যোগাযোগ নেই।
এই পরিস্থিতিতে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন— কোনো নারী তার যত্ন নিলে তিনি তাকে নিজের দুই ফ্ল্যাটের একটি, ব্যক্তিগত কিছু মালপত্র এবং মাসে তিন হাজার ইয়ান (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৮ হাজার) পেনশন দেবেন। প্রয়োজনে তিনি লিখিত চুক্তিও করতে রাজি।
শি জুনকি নামে একজন আইনজীবী বলেন, বড় মেয়ের আইনগত দায়িত্ব আছে মায়ের ভরণ-পোষণ করার। তবে কেউ যদি ‘দত্তকসুলভ’ভাবে মা’কে দেখাশোনা করতে চান, তবে আইন অনুযায়ী একটি ‘লিগ্যাসি সাপোর্ট চুক্তি’ (যত্ন ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত চুক্তি) করতে হবে।
এ ঘটনা অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ আগ্রহ দেখালেও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন—‘নিজ কন্যাকে সম্পত্তি দিতে না চাইলে নতুন কাউকে কি ঠিকমতো দেখবেন তিনি?’
চীনে এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০১৩ সালে ৯৪ বছর বয়সী এক নারী নিজের সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন অবহেলার অভিযোগে। গবেষণা বলছে, ২০২১ সালের একটি জাতীয় জরিপে দেখা যায়, চীনে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ৬০ শতাংশই ‘এম্পটি নেস্টার’ (সন্তান-পরিবার ছাড়া একা থাকা প্রবীণ)।

