সংকট সমাধানে আবাসনের গড় মূল্য অবশ্যই কমাতে হবে

সংকট সমাধানে আবাসনের গড় মূল্য অবশ্যই কমাতে হবে - the Bengali Times
কানাডায় বাড়তে থাকা আবাসন সংকট মোকাবিলায় কেবল পৃথক বাড়ির মূল্য নয় বরং সামগ্রিকভাবে আবাসনের গড় মূল্য কমানোই জরুরি এমন মন্তব্য করেছেন ফেডারেল আবাসনমন্ত্রী গ্রেগর রবার্টসন

আবাসন সংকট নিয়ে আবারও চলছে বিতর্ক। কানাডায় বাড়তে থাকা আবাসন সংকট মোকাবিলায় কেবল পৃথক বাড়ির মূল্য নয়, বরং সামগ্রিকভাবে আবাসনের গড় মূল্য কমানোই জরুরি এমন মন্তব্য করেছেন ফেডারেল আবাসনমন্ত্রী গ্রেগর রবার্টসন। তিনি বলেছেন, দেশের নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে বাজারে বড় পরিসরে সাশ্রয়ী আবাসনের সরবরাহ বাড়াতে হবে।

সোমবার সংসদের আর্থিক কমিটির সামনে হাজির হয়ে লিবারেল সরকারের ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি আইন’ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন রবার্টসন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেন, কানাডা এখন গভীর আবাসন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। মন্ত্রীর ভাষায়, “গড় মূল্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিপুল সংখ্যক নন-মার্কেট (অলাভজনক/সাশ্রয়ী) আবাসন নির্মাণ করছি আমরা।”

- Advertisement -

গত মে মাসে শপথ গ্রহণের পর রবার্টসন বলেছিলেন, বাড়ির দাম কমানো ‘অবশ্যক নয়’; বরং সরবরাহ বাড়লেই বাজার স্থিতিশীল হবে। সেই মন্তব্যের উল্লেখ করে কনজার্ভেটিভ এমপি অ্যারন গান প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী কি এখনও মনে করেন যে বাড়ির দাম কমানোর প্রয়োজন নেই?

জবাবে রবার্টসন বলেন, বাজারে যে মূল্য কানাডিয়ানদের নাগালের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে, সেই গড় মূল্য কমানোই এখন অগ্রাধিকার। তার মতে, “পরিষ্কারভাবে বললে কানাডিয়ানদের জন্য আবাসনের গড় মূল্য কমা উচিত। এজন্যই আমরা ব্যাপকভাবে নন-মার্কেট আবাসন তৈরি করছি।”

বাড়ির দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি গত কয়েক দশক ধরে কানাডা পার্লামেন্টে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষত তরুণ ও প্রথমবারের ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বাড়ির দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা স্থায়ীভাবে বাজারের বাইরে পড়ে যাচ্ছেন, বলে মন্তব্য করছে বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

জেনারেশন স্কুইজ নামে অলাভজনক সংস্থার ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বলা হয় ২০০১ সালে যেখানে ২০% ডাউনপেমেন্ট জমাতে গড়ে ১০ বছর লাগত, ২০২১ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে ১৭ বছর যা আগের তুলনায় ৭ বছর বেশি।

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ গ্রেটার টরন্টো এরিয়া এবং মেট্রো ভ্যানকুভারে। এসব অঞ্চলে ডাউনপেমেন্ট জোগাড় করতে গড়ে ২৭ বছরের সঞ্চয় প্রয়োজন হয় যা তরুণ প্রজন্মের সামর্থ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

রবার্টসন জানিয়েছেন, সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণে বিশেষ জোর দিচ্ছে। লিবারেল সরকারের দাবি সরবরাহ বাড়লে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সরবরাহ বৃদ্ধি নয়, বাড়ির গড় মূল্য কমানো, সুদের হার নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত দখলদারি রোধ করাও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ কানাডিয়ানদের আর্থিক অবস্থার সাথে বাড়ির দামের ফারাক প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সব মহলে।

রবার্টসনের মন্তব্য স্পষ্ট করেছে যে সরকার এখন আর শুধু সরবরাহ বৃদ্ধিকে নয়, বরং আবাসনের গড় মূল্য কমানোকে কেন্দ্রীয় লক্ষ্য হিসেবে দেখছে। তবে এ উদ্যোগ কতটা সফল হবে এবং কত দ্রুত সাধারণ মানুষের নাগালে বাড়ি ফিরে আসবে তা সময়ই বলে দেবে।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles