
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে একটি সুপরিচিত বালক বিদ্যালয়ের ২৪ বছর বয়সী এক শিক্ষিকা এলা ক্লেমেন্সের বিরুদ্ধে ১৫ বছর বয়সী ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা স্থানীয় সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি নিউজসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এলা ক্লেমেন্স নামের ওই ইংরেজি ও নাট্যশিক্ষিকা নিউ সাউথ ওয়েলসের সেন্ট অগাস্টিনস কলেজে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ তাকে শিশুর প্রতি যৌন অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে। ক্লেমেন্সের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তার মধ্যে আছে ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী এক শিশুর সঙ্গে ‘গুরুতর যৌন সম্পর্ক স্থাপন’-এর অভিযোগে তিনটি মামলা। ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সী এক শিশুর সঙ্গে ‘ইচ্ছাকৃত যৌন সংস্পর্শ’-এর অভিযোগে একটি মামলা।
অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই ৭ থেকে ১৫ই সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিনবার ওই ছাত্রের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
তদন্তে জানা গেছে, মে মাস থেকে ক্লেমেন্স ওই ছাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। প্রথমে তিনি নাটকের প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলার অজুহাতে নিজের ফোন নম্বর দেন। পরে তিনি ক্লাসরুম থেকে ছেলেটিকে ডেকে নিয়ে যেতেন। বলে দিতেন, নাটক নিয়ে তোমার সঙ্গে কিছু কথা আছে। এরপর তিনি ছাত্রটির কাছে অশালীন বার্তা পাঠাতে থাকেন। লেখেন, ‘তুমি সত্যিই বিশেষ একজন। তুমি এখন অন্য ছাত্রদের থেকে আলাদা। আজ তোমাকে ক্লাসে দেখে আমার হৃদয় অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠল। আজ রাতের জন্য আমি অধীর হয়ে আছি, খুব গরম হবে। এটা আমাদের গোপন বিষয়, কাউকে বলবে না।’
ছাত্রটির পিতা ঘটনাক্রমে তার ছেলের ফোনে ওই বার্তাগুলি দেখে ফেলেন। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে এবং সঙ্গে সঙ্গে ক্লেমেন্সকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জনাথন বার্ন অভিভাবকদের উদ্দেশে এক চিঠিতে লিখেছেন, আমরা পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করছি এবং ছাত্র ও তার পরিবারের গোপনীয়তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, ক্লেমেন্স বিদ্যালয় ও অভিভাবকদের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক সময়। তবে অনর্থক গুজব ছড়াবেন না- যদি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করা না হয়ে থাকে, তাহলে আপনার সন্তান এই তদন্তের আওতায় নেই। স্থানীয় আদালত ক্লেমেন্সকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছে। জামিনের পরিমাণ ১ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। জামিনের শর্তগুলোর মধ্যে আছে- স্কুলের শিক্ষক বা ছাত্রদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নয়। স্মার্টফোন বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ। নিউ সাউথ ওয়েলসের নর্দার্ন রিভারস এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে বসবাস করতে হবে। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ। প্রতি রবিবার পুলিশ স্টেশনে হাজিরা দিতে হবে।
পুলিশ খতিয়ে দেখছে, ক্লেমেন্স আরও কোনো ছাত্রের সঙ্গে অনৈতিক যোগাযোগ করেছিলেন কি না। তার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ নভেম্বর।

