15.4 C
Toronto
শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০২২

শত কোটি টাকা ঘুষ দিয়েও পরকীয়া গোপন করতে পারেননি রাজকুমারী!

- Advertisement -
প্রিন্সেস হায়া

টাকা মনে হয় সত্যিই ভালবাসা কিনতে পারে না। তবে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম এবং তার ষষ্ঠ স্ত্রী রাজকুমারী হায়ার ক্ষেত্রে টাকা নিশ্চিতভাবেই তার গোপন প্রেমিকের নীরবতা সহ আরও অনেক কিছুই কিনতে পারে।

যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিবাহ বিচ্ছেদের মামলায় সদ্য তালাকপ্রাপ্ত শেখকে তার বিচ্ছিন্ন স্ত্রীকে ৫০ কোটি পাউন্ড বা ৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি এমন একটি মামলা যা অতি ধনীরা তাদের অবসর সময়ে যা করেন তার উপর থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছে।

এই মামলার সাক্ষ্য থেকে জানা যায় জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর বোন রাজকুমারী হায়া ( ৪৭) তার ১০ বছর বয়সী কন্যার ট্রাস্ট থেকে ৭.৫ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৬৫ কোটি টাকা) ‘ধার’ করেছিলেন তার একজন দেহরক্ষীকে দেওয়ার জন্য। তার ওই দেহরক্ষী ছিলেন একজন প্রাক্তন ব্রিটিশ সৈনিক, যার সঙ্গে তিনি অবৈধ যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু রাজকুমারী হায়ার দেহরক্ষী দলের অন্য তিনজন সদস্য তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছিল। রাজকুমারী তাদেরকে মোট প্রায় ৯ মিলিয়ন ডলার (৭৭ কোটি টাকা) ঘুষ দেন। কিন্তু এরপরও তার শেষ রক্ষা হয়নি। তার যৌন অবিশ্বস্ততার কথা জেনে যান তার স্বামী দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল-মাকতুম।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ব্রিটিশ প্রেস অ্যাকাউন্ট অনুসারে রাজকুমারী আদালতকে বলেছিলেন, ‘আমি ভয় পেয়েছিলাম এবং মেয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না’।

শেখ যখন বিষয়টি আবিষ্কার করেন তিনি তার সবচেয়ে ছোট স্ত্রী রাজকুমারী হায়াকে তালাক দেন। তালাকের পর ২০১৯ সালেই রাজকুমারী হায়া তার দুই সন্তান, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে ব্রিটেনে পালিয়ে যান।

প্রিন্সেস হায়া তার এক দেহরক্ষী সাবেক ব্রিটিশ সেনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানার পর শেখ মোহাম্মদ ‘তুমি বেঁচে ছিলে, তুমি মরে গেছো’ নামে একটি কবিতা প্রকাশ করেন, যাতে তাকে হুমকি দেয়া হয় বলে অনুমান করা হয়। তিনি বলেন, ব্রিটেনে আসার পরও তিনি হুমকি পেয়েছেন। তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তুমি যেখানেই থাকো না কেন সেখানে আমাদের যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

এরপর প্রিন্সেস হায়া তার এবং সন্তানদের ভরণ-পোষণ বাবদ ১.৪ বিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ১৫,৯৭৮ কোটি টাকা) দাবি করে মামলা ঠুকে দেন। সেই মামলার রায় হল গতকাল।

রাজকুমারী হায়া তার সন্তান জালিলা (১৪) এবং জায়েদ (৯) এর ভরণ-পোষণ এবং তাদের নিরাপত্তার খরচের জন্য এবং তার মালিকানায় থাকা রেসের ঘোড়া, গাড়ি এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্রের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১.৪ বিলিয়ন পাউন্ড দাবি করেন।

তিনি বিচারককে বলেছিলেন যে, দুবাইতে তার যে ২০ মিলিয়ন পাউন্ডের গহনা রয়েছে তা আদালতের কক্ষটি পূর্ণ করে দেবে।

বিবাহিত অবস্থায় দুবাইয়ের শাসক রাজকুমারীকে হায়াকে পরিবারের খরচের জন্য বার্ষিক ১১০ ডলার (প্রায় ৯৪৪ কোটি টাকা) এবং প্রতি সন্তানের জন্য প্রায় ১২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০৩ কোটি টাকা) দিতেন।

মামলার রায় দেওয়ার সময় বিচারক ব্ল্যাকমেইলকারী দেহরক্ষীদেরও তিরস্কার করেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোনো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি।

ডেইলি মেইল অনলাইন জানায়, রাজকুমারী হায়া যেই ব্রিটিশ সেনার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি ব্রিটেনের রাজকুমারীর দেহরক্ষী হিসেবেও কাজ করেছেন পাঁচ বছর। রাসেল ফ্লাওয়ার নামের ওই ব্রিটিশ সেনা ব্রিটেনের প্রিন্সেস অফ ওয়েলস র‍য়াল রেজিমেন্টে কাজ করেন।

রাসেল ফ্লাওয়ার ২০১৬ সালে রাজকুমারী হায়ার দেহরক্ষী হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং রাজকুমারীর অনেকগুলো বিদেশ সফরে সঙ্গী হয়েছিলেন। যুক্তরাজ্যের সাফোল্কে দুবাই শাসকের ৩,০০০ একরের রাজপ্রাসাদে রাজকুমারী হায়ার নিরাপত্তা রক্ষী হিসেবে থাকার সময় প্রথম রাসেল রাজকুমারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

বিদেশ ভ্রমণের সময় তারা পাশাপাশি ঘরে থাকতেন। তবে রাসেল ফ্লাওয়ারস এই বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। কারণ তিনি রাজকুমারীর সঙ্গে এসব বিষয় প্রকাশ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এই সম্পর্ক রাজকুমারীর ১৬ বছরের বিবাহের সমাপ্তি ঘটায় এবং তার শয়নকক্ষে একটি গুলিভরা বন্দুক রেখে যাওয়ার পরে তিনি প্রাণভয়ে পালাতে বাধ্য হন। তাকে বলা হয়েছিল একটি হেলিকপ্টার রাজপ্রাসাদে অবতরণ করবে এবং তাকে কারাগারে নিয়ে যাবে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles