-11.7 C
Toronto
বুধবার, জানুয়ারী ২৬, ২০২২

মাদকের রাজধানী সৌদি আরব

- Advertisement -

সিরিয়ার সরকার গত মাসেই ক্যাপটাগন নামে একটি মাদকের চালান আটকে দেয়

সিরিয়ার সরকার গত মাসেই ক্যাপটাগন নামে একটি মাদকের চালান আটকে দেয়। ৫০০ কিলোগ্রাম ক্যাপটাগনের (অ্যামফিটামিনস) ওই চালানটি একটি পাস্তার কনটেইনারে করে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যাচ্ছিল। ওই ঘটনার কয়েক দিন পরই সৌদি কর্র্তৃপক্ষ ক্যাপটাগনের ৩০ মিলিয়ন ট্যাবলেট জব্দ করে। কিছুদিন আগেই লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী রিয়াদের উদ্দেশে যাওয়া চার মিলিয়ন ক্যাপটাগন ট্যাবলেটের একটি চালান আটকে দেয়। জর্ডান হয়ে কফি ব্যাগের মধ্যে লুকানো অবস্থায় ট্যাবলেটগুলো রিয়াদে যাচ্ছিল।

সৌদি আরবে ক্যাপটাগন জব্দ করা ইদানীং খুব সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা বলছেন, আয়তনে ক্ষুদ্র এই ট্যাবলেট তৈরির প্রক্রিয়া অনেক সহজ। আর সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য সিরিয়া ও লেবাননে ক্যাপটাগন তৈরির অনেক ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যত মাদক ব্যবহার করা হয়, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় সৌদি আরবে।

- Advertisement -

আরবের ধনীদের জন্য ক্যাপটাগন এক নতুন মাদক। এ মাদকের সেবনকারীদের দীর্ঘসময় ধরে চাঙ্গা রাখলেও, স্বাস্থ্যের ওপর রয়েছে এর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব। জাতিসংঘের ড্রাগ অ্যান্ড ক্রাইমের (ইউএনওডিসি) মতে, ২০১৫ ও ২০১৯ সালের মধ্যে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যত ক্যাপটাগন ধরা পড়েছে তার অর্ধেকই সৌদিতে। সিরিয়া সংকটের সময় ওই অঞ্চলে প্রথমবারের মতো ক্যাপটাগন জনপ্রিয় হয়।

যুদ্ধক্ষেত্রে ক্যাপটাগন ব্যবহার হয় তখন দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরকার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও তার সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দেশটির অর্থনীতি চাঙ্গা করার বিষয়টি অন্তরালে চলে যায়। বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মাদকের ব্যাপক প্রচলনের পেছনে সিরিয়া সরকারের হাত রয়েছে। ২০১৯ সালে সিরিয়া ও লেবানন থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মাদক পাচার হয় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।

সৌদিতে ক্যাপটাগনের বাইরে যে মাদক সবচেয়ে বেশি চলে তা হলো গাঁজা। আফগানিস্তান, ইরান ও ইরাক হয়ে সৌদিতে গাঁজা প্রবেশ ছাড়াও লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডান থেকেও যায়। সম্প্রতি ইয়েমেন থেকেও যাচ্ছে খাট। সৌদি সরকার ভয় পাচ্ছে যে, প্রাণঘাতী এসব মাদক থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠী তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করতে পারে। তারা এই মাদকের উৎপাদন ও বিস্তারের জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করে আসছে। অথচ সৌদি কর্র্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের জনগণের মাদক আসক্তি নিয়ে কিছু বলছে না। গবেষণা বলছে, সৌদিতে ১২ থেকে ২২ বছর বয়সীদের মধ্যে ক্যাপটাগন সেবনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সৌদিতে যারা মাদকে আসক্ত তাদের ৪০ শতাংশই ক্যাপটাগন সেবন করে।

বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, সৌদিতে চলমান সংস্কারের আগে থেকেই ক্যাপটাগনের মতো মাদক সামাজিক স্তরে প্রভাব বিস্তার করে। সৌদি আরবের ২৮ বছর বয়সী বাসিন্দা রায়িদ ফরেন পলিসিকে বলেন, ‘আমরা অবশ্যই মাদক নেই। এই একটা মাত্র জিনিস যা আমরা নিতে পারি। আমাদের সামাজিক সংস্কার প্রশ্নে আমরা বিরক্ত। আমরা মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না। সিনেমা দেখতে পারি না। শুধু কফি দোকানে যাওয়ার অধিকার আছে আমাদের। আমার বন্ধুরা সবাই আফগান থেকে আসা গাঁজা নেই।’

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles