15.3 C
Toronto
বুধবার, মে ২৫, ২০২২

দুই ব্যাংকের ৫৪ জনের চাকরি ফাঁস প্রশ্নপত্রে

- Advertisement -

দুই ব্যাংকের ৫৪ জনের চাকরি ফাঁস প্রশ্নপত্রে - The Bengali Times

শুধু গত মাসের রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষাই নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল আগের ৫ নিয়োগ পরীক্ষার সময়ও। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে দুটি ব্যাংকে ৫৪ জনের চাকরিও হয়েছে। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের ৩ নিয়োগ পরীক্ষায় এবং রূপালী ব্যাংকের ২ নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়েছেন ১৯৬ জন।

- Advertisement -

রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংকের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ১৩ জন আসামি জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন। গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, ফাঁস প্রশ্নপত্রে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের ব্যাপারে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি এখন যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে মামলা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। এখন পুলিশের তদন্তে সব বিষয় উঠে আসবে। এর পর আদালতের বিচারে অপরাধ অনুযায়ী সাজা হবে। অপরাধী প্রমাণ হলে চাকরিবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৬ সালের ১০ মার্চ জনতা ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার-টেলার পদে ৫৩৬ জন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পুলিশের হাতে সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া জনতা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সোহেল রানা ৬০ লাখ টাকা দিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেন। তিনি ৫৬ জনকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেন। এর মধ্যে চাকরি হয় ৫ জনের। পরবর্তী সময়ে জনতা ব্যাংকের ‘এইও’ পদে ৪৬৪ জনের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ৬০ লাখ টাকায় কিনে নেয় প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র। চক্রের ৫০ জন পরীক্ষা দিলে তার মধ্যে ২৫ জনের চাকরি হয়। দুই বছর আগে জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ৮৮৯ জনের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও চক্রটি ৮০ লাখ টাকা কিনে নিয়েছিল। এ সময় ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে ৬৫ জন পরীক্ষা দিলে ২১ জনের চাকরি হয়। চক্রটি রূপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার হিসেবে ৪২৩ জনের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ৬০ লাখ টাকায় ফাঁস করেছিল। তবে সিনিয়র অফিসার পদে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে ২৫ জন পরীক্ষা দিলেও চাকরি হয়েছিল মাত্র ৩ জনের। সর্বশেষ চলতি বছরের ৬ নভেম্বর রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের ১৫১১ জন নিয়োগের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসে পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়েছিল ২ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। এর মধ্যে ৫২ লাখ টাকা দেওয়া হয় অগ্রিম। এবার ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছিল ১৭৫ জন। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ পায় আসামিরা গ্রেপ্তার হলে। ব্যাংকার্স সিলেশন কমিটি নিয়োগ পরীক্ষাটি বাতিল করেছিল।

গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহাদত হোসেন সুমা বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ৫ ব্যাংকের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনেকের নামই বেরিয়ে আসছে। এ ছাড়া আগে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রও তারা ফাঁস করেছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য আমরা যাচাই-বাছাই করছি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সমন্বিত ৫ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি ও পরীক্ষা নেওয়ার কাজটি টেন্ডারের মাধ্যমে পেয়েছিল আহছান উল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ঢাকার আশুলিয়ার আহছানিয়া মিশনের ছাপাখানা থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে তৈরিকৃত প্রশ্ন ফাঁস হতো। এতে মোক্তারুজ্জামান রয়েলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মচারী জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন বিভাগের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর ছাপা হওয়ার পর দুই সেট প্রশ্নপত্র নিজের ব্যাগে করে নিয়ে যেতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়। তার ব্যাংক হিসাব তলব ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছে তদন্তসংশ্লিষ্ট সংস্থা।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, গত ৮ বছর ধরে চক্রটি প্রশ্নপত্র ফাঁস করে আসছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫ জনই ব্যাংক কর্মকর্তা। তারা ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে চাকরি পেয়ে আবার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িয়ে পড়েন। ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুরো চক্রই প্রায় চিহ্নিত হয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া জাহাঙ্গীর আলম জাহিদ ও রবিউল ইসলাম রবিকে গ্রেপ্তারের পর তাদের বস হিসেবে মিজু নামে একজনের সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে। মিজুসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সূত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles