23.1 C
Toronto
রবিবার, আগস্ট ১৪, ২০২২

মেয়ের হত্যাকারী-ধর্ষককে হৃদয়বিদারক যে কথা শোনালেন দুই মা

- Advertisement -
দুই নারীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন ডেভিড ফুলার

দুই নারীকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন ডেভিড ফুলার (৬৭)। এ ছাড়া আরো ১০২ জন নারীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌন আচরণ করেছেন তিনি। হাসপাতালের সাবেক এই ইলেকট্রিশিয়ানকে যাবজ্জীবন সাজা শোনানোর আগে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া দুই নারীর মাকে কথা শোনানোর সুযোগ দেন বিচারক।

বিচারক ববি চিমা গ্রুব সাজা দেওয়ার আগে ডেভিড ফুলারের উপস্থিতিতে ভিকটিমদের পরিবার জোরে জোরে যন্ত্রণাদায়ক বেশ কিছু কথা শুনিয়েছে। ওয়েন্ডি নিল এবং ক্যারোলিন পিয়ের্স-এর মা যে হৃদয়বিদারক কথাগুলো বলেছেন, তা যে কারো হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।

ক্যারোলিনের মা ক্যাটরিনা ফ্রস্ট বলেছেন, আমি যে কষ্টটা পাচ্ছি, সে সম্পর্কে তোমাকে (ডেভিডকে) ধারণা দিতে চাই। মেয়ের সম্পর্কে খবর দিতে পুলিশ আমার দরজায় কড়া নেড়েছিল। সে ছিল আমার সন্তান। সে আমাকে বলতে পারেনি যে একজন নোংরা লোক তার শরীর স্পর্শ করেছে এবং তার সঙ্গে কী অভাবনীয় জঘন্য আচরণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমি সব সময় তাকে যৌন নির্যাতনের কথা বলার বিষয়ে সতর্ক ছিলাম এবং সে জানত যে পৃথিবীতে জঘন্য মানুষ রয়েছে; ধর্ষক রয়েছে। আমার মেয়েটা ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং সে কতটা কষ্ট পেয়েছে তা বলে বোঝানো যাবে না।

তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন আমি সেই মর্গে যেতাম এবং সত্যিকারের মানুষ এবং স্টাফ সদস্যরা আমাকে সাহায্য করেছিল। আমি তার মরদেহ আঁকড়ে ধরে বারবার চুম্বন করতাম। কিন্তু মেয়ের সঙ্গে আমার সুন্দর সময় নষ্ট করে দিয়েছে জঘন্য এক লোক। এখন সে-ও জানে যে সে কী করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ড ছিল সত্যিই ভয়ঙ্কর। সেটা আমাকে এখনো প্রভাবিত করে চলেছে। ডেভিড ফুলার একটা পশু; যে হত্যা করার পরেও নিজের পরিবারের সাথে একটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু আমার পরিবার কখনো আর স্বাভাবিক হতে পারেনি। সেই উপায় ছিল না।

তিনি আরো বলেছেন, আমার নিজের মেয়ের দেহ যে বিশ্রীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল, তার লাশ শনাক্ত করার সেই মুহূর্তটা আমি ভুলতে পারি না। সেই দৃশ্যটা বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে, মন থেকে এটা সরতে চায় না। সে নিশ্চয়ই ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল।

ওয়েন্ডি নিলের মা পামেলা বলেন, আমার মেয়ে সবার ব্যাপারে খুবই চিন্তাশীল ছিল। সে যে কারো জন্য ভালো কিছু করতে পারে। তাকে হারিয়ে আমরা আমাদের বাকি জীবনে আরামের সঙ্গে আর কিছু করতে পারি না। তাকে ছাড়া আমরা কোনোমতে বেঁচে আছি।

তিনি আরো বলেন, আমি আমার মেয়ের স্পর্শ আর খুঁজে পাই না। এই ব্যক্তি সেটা শেষ করে দিয়েছে। আমার হৃদয় ভেঙে গেছে।

তিনি আরো বলেন, আমি খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না, আমি অসুস্থ বোধ করি। আমি তার জন্মচিহ্নের কথা মনে করি বারবার। যদিও মেয়ে সেটা পছন্দ করত না; কিন্তু আমি ভালোবাসতাম।

তিনি আরো বলেন, তার লম্বা স্বর্ণকেশী চুল আমি আঁচড়ে দিতাম। কিন্তু এই ভয়ঙ্কর মানুষটি তাকে সেই চুল ধরে নির্মম নিপীড়ন চালিয়েছে। আমি এখনো জানি না যে কিভাবে জীবন পার করব।

তিনি আরো বলেন, আমার সব কষ্ট এবং অপরাধবোধের কারণ হলো- আমি তাকে নিরাপদ ভেবে হাসপাতালে রেখে এসেছিলাম; অথচ সেটি তেমন ছিল না। নিজের এই অপরাধের জন্য মেয়ের কাছে ক্ষমাও চাইতে পারলাম না।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles