-11.7 C
Toronto
সোমবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২২

ইলমার শরীরে কালোদাগ, ক্যাম্পাসে গেলেও চালানো হতো নজরদারি

- Advertisement -

স্বামী ইফতেখার আবেদীনের সঙ্গে ঢাবি ছাত্রী ইলমা চৌধুরী মেঘলা। ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের কিছুদিন পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ইলমা চৌধুরী মেঘলার ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্বাভাবিক চলফেরা ও আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়। ক্লাসেও হয়ে পড়েন অনিয়মিত। ক্যাম্পাসে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নজরদারি চালাতেন। তার স্বামী ভিডিও কলে ইলমার ওপর নজরদারি করতেন। গতকাল মঙ্গলবার তার ‘অস্বাভাবিক’ মৃত্যুর পর পরিবার ও সহপাঠীরা এমন অভিযোগ করছেন।

রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ইলমার মরদেহ পাওয়ার পর তার পরিবার ও স্বজনরা জানান, নির্যাতনে মারা গেছেন তিনি। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তারা এটিকে হত্যাকাণ্ডকে বলে দাবি করছেন। এদিকে ইলমা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেছেন তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনার পর স্বামী ইফতেখার আবেদীনকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ‘ইলমা আবেগী ছিল, সে আত্মহত্যা করেছে।’

- Advertisement -

পুলিশ জানিয়েছে, ইলমার শরীরের দাগ নিয়ে তার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বলেন, ‘গত (সোমবার) রাতে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় একটু ধস্তাধস্তি হয়েছিল। এটি তেমন কোনো বিষয় নয়। ধস্তাধস্তিতে সে ব্যথা পেতে পারে। তাই শরীরে কালো দাগ হয়েছে।’

ইলমার পরিবার যা বলছে

ইলমার মৃত্যুর সংবাদ শুনে হাসপাতালে ছুটে যান তার মা সিমথি চৌধুরী। হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। আমি তাকে ভালো করে চিনি। এটি কোনোভাবেই সম্ভব না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার হত্যাকারীকে ধরুন। আমি মেয়ের হত্যার বিচার চাই।’

ইলমার খালু ইকবাল বলেন, ‘তারা আমাকে ফোন দিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে বলে। আমি ওর শাশুড়ির কল পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি ইলমা মারা গেছে।’

ইকবাল আরও বলেন, ‘ইলমার শরীরে আমরা অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। গলায়ও আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। ইলমা আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা নিশ্চিত ইলমাকে স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেরে ফেলেছে।’

শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন

মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার এজাহারে ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২১ সালে ইলমার বিয়ে হয়। তার স্বামী কানাডায় ছিলেন। বিয়ের পর ইলমা বনানীতে তার শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতেন। তার স্বামী গত সপ্তাহে কানাডা থেকে দেশে ফেরেন। বিয়ের পর থেকেই ইলমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। ইলমার কথা শুনে তার পরিবার ধারণা করত, তার ওপর নির্যাতন হতো। তবে ইলমা মুখ ফুটে কিছু বলতেন না। আঘাতের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শরীরে আঘাত ও মারধরের চিহ্নও রয়েছে।

ইলমার ওপর নজরদারি চালানোর অভিযোগ

ইলমার সহপাঠীরা জানান, বিয়ের পর থেকেই ক্লাসে অনিয়মিত ইলমা। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার ওপর নজরদারি চালাতেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহপাঠী বলেন, বিয়ের পর যতদিন তাকে ক্যাম্পাসে দেখেছি, শ্বশুরবাড়ির কেউ না কেউ তার সঙ্গে ছিল। তার স্বামীও প্রায়ই ভিডিও কলে নানা প্রশ্ন করতেন। বন্ধুদের সামনে অনেকসময় বিব্রত বোধ করতেন ইলমা। তার মধ্যে পরিবর্তন দেখা যায়।

ইলমা ঢাবির নৃত্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর বনানীতে স্বামীর বাসায় মারা যান তিনি। তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন পুলিশকে কল দিয়ে আত্মহত্যার কথা জানান। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ইলমাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে যায়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে নির্যাতনে ইলমার মৃত্যু হয়েছে- এমন অভিযোগে মামলা করেছেন ইলমার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। মঙ্গলবারই তার স্বামী ইফতেখারকে আটক করা হয়। মামলায় স্বামী ছাড়াও তার শ্বশুর ও শাশুড়িকে আসামি করা হয়েছে। তারা পলাতক।

এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আজম মিয়া বলেন, মামলা হওয়ার আগে থেকেই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। ইলমার বনানীর বাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আলামত সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক টিম। হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যাবে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles