21.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

যেভাবে ঝর্ণাকে নিয়ে রিসোর্টে আসেন মামুনুল, জানালেন মামলার সাক্ষী

- Advertisement -

ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টের তিন কর্মচারী। তারা হলেন রিসোর্টের রিসিপশন কর্মকর্তা নাজমুল হাসান অনি, সুপারভাইজার আবদুল আজিজ পলাশ ও আনসার সদস্য রতন বড়াল।

সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

ধর্ষণ মামলার সাক্ষীতে রয়্যাল রিসোর্টের সুপারভাইজার আ. আজিজ পলাশ সাক্ষ্য প্রদানের সময় জানান, মামুনুল হক নিজেই সাদা কালারের প্রাইভেটকার চালিয়ে একজন নারীকে নিয়ে রয়্যাল রিসোর্টে আসেন। আট হাজার টাকার বিশেষ প্যাকেজে ঝর্ণাকে নিয়ে উঠেন মামুনুল হক।

এর আগে সকালে কাশিমপুর কারাগার থেকে মামুনুলকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। সাড়ে বারটার দিকে তাকে আদালতে তোলা হলে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সাক্ষ্য গ্রহণ চলে। পরে মামুনুল হককে গাজীপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্র জানায়, রিসোর্টের সুপারভাইজার আ. আজিজ পলাশের সাক্ষীতে উল্লেখ করা হয়- মামুনুল হক নিজেই সাদা কালারের প্রাইভেটকার চালিয়ে রিসোর্টে একজন মহিলা নিয়ে আসেন। এরপর একদিনের জন্য রিসোর্টের আট হাজার টাকার বিশেষ প্যাকেজ গ্রহণ করে বিকাশে টাকা প্রদান করেন। এরপর তাকে নিয়ে নানা ঝামেলার পর পুলিশ গিয়ে তাদের অবস্থান নেওয়া রুম থেকে সাদা চাদর, মাথার চুলসহ ১৭টি আলামত জব্দ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিবুদ্দিন আহমেদ আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, গত ২৪ নভেম্বর বিচারক নাজমুল হাসান শ্যামলের আদালতে জবানবন্দি দেন মামলার বাদী ঝর্ণা বেগম। আজ আদালতে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে মামলার তিনজন সাক্ষী। তারা আদালতকে জানিয়েছেন কবে কখন কেমন করে ঝর্ণা বেগমকে নিয়ে ওই রিসোর্টে উঠে মামুনুল হক।

আইনজীবী রকিব উদ্দিন আরটিভি নিউজকে আরও জানিয়েছেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী ঝর্ণা বেগমকে মামুনুল হক এর দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করলেও কোনো কাবিননামা আদালতে পেশ করেননি।

গত ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে জান্নাত আরা ঝর্ণার সঙ্গে একটি কক্ষে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করেন মামুনুলকে। এরপর ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুলের নামে ধর্ষণ মামলা করেন ঝর্ণা।

এতে তিনি অভিযোগ করেন, মামুনুল বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে দুই বছর ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েছেন তবে তাকে বিয়ে করেননি। পরে ঝর্ণার মামলার পর মামুননুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ৩ নভেম্বর ধর্ষণ মামলায় মামুনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। ২৪ নভেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন ঝর্ণা বেগম।

জান্নাত এজাহারে অভিযোগ করেন, বিচ্ছেদের পর তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল তাকে ঢাকায় আসার জন্য ‘প্ররোচিত’ করেন। ঢাকায় আসার পর তার পরিচিত বিভিন্ন অনুসারীর বাসায় রেখে মামুনুল নানাভাবে তাকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন। এর ধারাবাহিকতায় মামুনুলের পরামর্শে কলাবাগানে এক বাসায় সাবলেট থাকতে শুরু করেন এবং বিয়ের আশ্বাস দেখিয়ে এবং অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কও করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

বাদী আরও অভিযোগ করেন, ঘোরাঘুরির কথা বলে ২০১৮ সাল থেকে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে তাকে নিয়ে যেতেন। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে রয়্যাল রিসোর্টে ঘুরতে নিয়ে গিয়েও মামুনুল হক তাকে ‘ধর্ষণ’ করেন।

সূত্র : আরটিভি

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles