19.7 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০২৪

প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ছাত্রীদের সর্বনাশ করেন শিক্ষক

প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ছাত্রীদের সর্বনাশ করেন শিক্ষক
প্রভাষক মো উজ্জ্বল আলী

শিক্ষার্থীদের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে কোনো কোনো শিক্ষকের অনৈতিক কাজে কলুষিত হচ্ছে পবিত্র শিক্ষাঙ্গন। সে তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের প্রভাষক মো. উজ্জ্বল আলী। প্রেমের ফাঁদে ফেলে একের পর এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়েছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক।

কোনো ছাত্রী রাজি না হলে নানাভাবে মানসিক হয়রানি করেছেন। কোনোভাবে মুখ খুললে অনেককে হত্যার হুমকিও দিয়েছেন। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে চাকরিচ্যুতও হয়েছেন ওই শিক্ষক। তা সত্ত্বেও বদলায়নি তার স্বভাব। বরং একই প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষকের সহায়তায় চালিয়ে গেছেন অনৈতিক কাজ।

- Advertisement -

অবশেষে গত মঙ্গলবার রাতে মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লায় হাতেনাতে ধরা পড়ে এলাকাবাসীর উত্তম-মধ্যমের শিকার হয়েছেন উজ্জ্বল। এ সময় বিক্ষুব্ধ এক ছাত্রী ওই শিক্ষককে জুতাপেটা করেন। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য গতকাল বুধবার রাতে বারবার চেষ্টা করা হলেও মো. উজ্জ্বল আলীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মূলত উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়া ছাত্রীদেরই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেন প্রতিষ্ঠানটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. উজ্জ্বল আলী। প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা মূল উদ্দেশ্য তার। এ অপকর্মে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক শেখ ফরিদ সহায়তা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই দুই শিক্ষকের মধ্যে গভীর সখ্য রয়েছে। প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হলে শেখ ফরিদ তাদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে প্রভাষক উজ্জ্বলের কাছে পাঠান। সেই নম্বর ব্যবহার করে মেয়েদের ফেসবুক আইডি বের করেন উজ্জ্বল। এর মাধ্যমে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে একপর্যায়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন।

পরে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে তাদের বাধ্য করেন শারীরিক সম্পর্কে। একাধিক ছাত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে উজ্জ্বলকে ওই কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে তিনি যোগদান করেন মতিঝিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, আর্থিক অনিয়ম, নারী কেলেঙ্কারি ও বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডসহ হেন কোনো কুকর্ম নেই, যা প্রভাষক উজ্জ্বল করেননি। তিনি তিন বছর আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বহিষ্কার হলেও সেই পদে এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষ ফের তাকে এখানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

ভুতভোগী বর্ষা আক্তার (ছদ্মনাম) বলেন, স্যার আমাকে প্রচণ্ড হ্যারেজ করেছেন। নানা প্রলোভন দিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করার চেষ্টা করেছেন। গভীর রাতে হুটহাট আমাকে ভিডিও কল দিতেন। না ধরলে গালাগাল করতেন। বিষয়টি এক ম্যাডামকে বলায় ওই লম্পট আমাকে গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন।

অন্য এক ছাত্রী মা বলেন, উজ্জ্বল অত্যন্ত জঘন্য লোক। আমার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে শারীরিক সম্পর্ক করেছে। নিজের মেয়ের কথা এখন বললেও নিজের গায়েই লাগবে। কাউকে কিছু বলতেও পারছি না।

সর্বশেষ ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, প্রভাষক উজ্জ্বল আমাকে অনেকদিন ধরেই বিরক্ত করতেন। আমার বান্ধবীর সঙ্গেও একই কাজ করেছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমাকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর আমাকে হোটেলে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি যেতে না চাইলে হাত ধরে জোর করে নিয়ে যেতে চান। তখন আমি চিৎকার করলে স্থানীয় মানুষজন এসে তাকে আটক করেন।

ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, একটি চেয়ারে বসা প্রভাষক উজ্জ্বলকে একটি মেয়ে চড়-থাপ্পড় মারছেন। একপর্যায়ে পায়ের জুতা খুলে তাকে পেটাতে থাকেন। এ সময় ওই ছাত্রী উচ্চকণ্ঠে বলছিলেন, এই শিক্ষক তার বান্ধবীসহ অনেকের জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজুল হক ভূঞা বলেন, উজ্জ্বল এবং ওই ছাত্রী—দুজনই থানায় এসেছেন। দুপক্ষের কাছ থেকেই আমরা পৃথক অভিযোগ পেয়েছি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles