22.3 C
Toronto
শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

দাবাড়ু স্বামীর জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন স্ত্রী লাবণ্য

দাবাড়ু স্বামীর জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন স্ত্রী লাবণ্য
দাবাড়ু স্বামীর জন্য বিসিএসে যোগ দেননি স্ত্রী লাবণ্য

জিয়াউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতোকোত্তর শেষ করে কোনো চাকরিতে যোগ দেননি। দাবাকে ভালোবসতেন বলে সেখানেই ক্যারিয়ার গড়তে মনস্থির করেন। তার দাবার ক্যারিয়ারে যেন ব্যাঘাত না ঘটে সেজন্য বড় ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন তার স্ত্রী তাসমিন সুলতানা লাবণ্য।

২০০২ সালে লাবণ্য ২২তম বিসিএসে সম্মিলিত মেধাতালিকায় ১৪তম ও নারীদের মধ্যে ২য় হয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক এই ছাত্রী যোগ দেননি ঢাকায় পোস্টিং না হওয়ার কারণে। প্রথম পোস্টিং ঢাকায় হলে তাসমিনের ক্যারিয়ারও ভিন্ন হতে পারত। ২২তম বিসিএসের অনেকেই এখন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার। তবে এ নিয়ে আক্ষেপ শোনা যায়নি তার কণ্ঠে; বরং পরিবারের কাছে থাকতে পেরেই তৃপ্ত ছিলেন তিনি।

- Advertisement -

এ বিষয়ে একবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার প্রথম পোস্টিং ছিল ঢাকার বাইরে। আমি বাইরে গেলে জিয়ার খেলায় ব্যাঘাত ঘটবে। জিয়া তখন (২০০২ সালে) মাত্র গ্র্যান্ডমাস্টার হলো। দাবা ও জিয়ার কথা ভেবে আর বিসিএসে যোগ দেইনি। পেশাগত জীবনে গেলে হয়তো আমিও ওই জায়গায় পৌছাতাম এতদিনে। অর্থ, ক্ষমতা আরও অনেক কিছুই হয়তো থাকতো কিন্তু এখন পরিবার নিয়ে বেশ তৃপ্ত আছি, সেটা নাও হতে পারতো।’

যে দাবাড়ু স্বামীর জন্য এত ত্যাগ, সেই জীবনসঙ্গী আজ তাকে একা করে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। সেটাও আবার দাবা খেলতে খেলতেই। দাবা ফেডারেশনের টুর্নামেন্ট কক্ষে জাতীয় দাবা চ্যাম্পিয়নশিপের ১২তম রাউন্ডে আরেক গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেন রাজীবের বিপক্ষে খেলছিলেন জিয়া। ঠিক তখনই মাথা ঘুরে পড়েন যান। দ্রুতই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। মাত্র ৫০ বছর বয়সেই থেমে গেল তার জীবনের চাকা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles