22.3 C
Toronto
শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০২৪

মদ্যপান করেও ‘স্বপ্নপূরণ’ হয়নি মুসলিম ক্রিকেটারের!

মদ্যপান করেও ‘স্বপ্নপূরণ’ হয়নি মুসলিম ক্রিকেটারের!
ছবি সংগৃহীত

ইংলিশ ক্রিকেটে জো রুট, বেন স্টোকসদের বিশ্ব ক্রিকেটে কেবল জনপ্রিয় তারকা বললে অনেকটাই কম বলা হবে। ক্রিকেট খেলাটা দেখেন, ভালোবাসেন এমন কোনো লোক নেই, যারা তাদের নাম জানেন না। একজন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক, আরেকজন বর্তমান (টেস্ট ও ওয়ানডে)।

একটা পর্যায়ে এই দুই তারকা ক্রিকেটারের অধিনায়ক ছিলেন আজিম রফিক নামে এক পকিস্তানি বংশোদ্ভূত। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে তার নেতৃত্বেই ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছিলেন রুট-স্টোকসরা।

- Advertisement -

এই দুজনেই এখন ইংল্যান্ডের জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলেও, জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গেছে ৩০ বছর বয়সী আজিম রফিকের।

কয়েক বছর আগেই তিনি সামনে আনেন ইয়র্কশায়ার কাউন্টি দলের ড্রেসিংরুমে ঘটে যাওয়া বর্ণবৈষম্যের নানা ঘটনা। যা তোলপাড় করে দিয়েছিল ক্রিকেট বিশ্বকে।

সেই আজিম রফিক এবার তার আত্মজীবনীতে জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে তিনি মুখিয়ে ছিলেন তিনি। আর সেটা এতটাই যে, তখন জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য তার মতো অনেকেই যা খুশি করতে প্রস্তুত ছিলেন!

পাশাপাশি নিজেকে সবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাকে মদপান করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলেও জানান আজিম রফিক। আর এই ঘটনা কীভাবে তার মানসিক সমস্যা বাড়িয়ে দিয়েছিল, তাও জানিয়েছেন তিনি।

জো রুট ইয়র্কশায়ারের বর্ণবৈষম্য বিতর্ক চলার সময়ে যে জবানবন্দি দিয়েছিলেন, তাতেও যে তিনি হতাশ হয়েছিলেন, তাও জানাতে ভোলেননি রফিক। একটা সময়ে ইয়র্কশায়ারের অধিনায়কত্বও করেছেন তিনি। তাকে যখন সেই দল থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২৩ বছর।

এই ঘটনার দুই বছর আগেই প্রথম এশিয়ান ক্রিকেটার হিসেবে ইয়র্কশায়ারের অধিনায়ক হওয়ার নজির গড়েছিলেন আজিম রফিক। তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের দিকে তাকিয়ে তার পরিবার ইংল্যান্ডেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

সেইসব বিষয়ে দ্য গার্ডিয়ানকে এই অলরাউন্ডার জানিয়েছেন, ‘একটা বিষয় নিয়ে আমার আক্ষেপ রয়েছে। আমি যদিও বিষয়টি উপভোগ করতাম। তা হলো আমার একটা পাগলাটে স্বপ্ন ছিল। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য মুখিয়ে ছিলাম আমি। সেই জন্য যা খুশি করতে আমি প্রস্তুত ছিলাম।’

আজিম রফিক বলেন, ‘একটা সময় ছিল যখন আমাকে সবার সঙ্গে মানিয়ে নিতে মদপানও করতে হয়েছে। বিষয়টি আমাকে মানসিক সমস্যায় ফেলে দিয়েছিল। আমার মনে আছে, তখন আমার বয়স ছিল ১৫। আমাকে গাড়ির ভেতরে সবাই মিলে জোর করে ধরে মুখে রেড ওয়াইন ঢেলে দিয়েছিল।’

ইয়র্কশায়ারের বর্ণবৈষম্য বিতর্কে জো রুটের জবানবন্দি সম্পর্কে বলতে গিয়ে রফিক বলেন, ‘আমার মনে হয় ওই জবানবন্দি দিয়ে ও (রুট) আমাকে নয়, নিজেকেই ছোট করেছিল। আমি ওই সময়ে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। এই বর্ণবৈষম্য বিতর্ক থামানো যেত। যদি সেই সময়ে লোকেরা পেছনে সরে না যেত, তাহলে এই বিতর্ক আমরা থামাতে পারতাম। এটা শুধু আমার ক্যারিয়ারই শেষ করে দেয়নি, গ্যারির (ব্যালেন্স) ক্যারিয়ারও শেষ করে দিয়েছিল।’

তিনি গোটা ইংল্যান্ড ক্রিকেটকেই ‘প্রাতিষ্ঠানিকভাবে’ বর্ণবাদী বলে আখ্যায়িত করেছেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles