21.3 C
Toronto
রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪

‘আমার জীবনে শান্তি নষ্ট করে দিছে এই রেপিস্ট!’

‘আমার জীবনে শান্তি নষ্ট করে দিছে এই রেপিস্ট!’
সংগৃহীত ছবি

‘আমার জীবনে শান্তি নষ্ট করে দিছে এই রেপিস্ট! ব্ল্যাকমেইলার সে!! তার নিজের ইচ্ছায় আমার হাতে ধরা দিয়েছে। তাই নিজ হাতে রেপিস্ট ব্ল্যাকমেইলারকে মেরে শান্তি নিলাম।’ এভাবেই চিরকুট লিখে রেখে রাজধানীর ভাটারা এলাকার স্টুডিও ফ্ল্যাটে জাপানপ্রবাসী স্বামী আরিফুল ইসলামকে খুন করে কানাডায় পালিয়ে গেছেন কানাডাপ্রবাসী স্ত্রী পারভীন আক্তার। পুলিশ ওই স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জাপানপ্রবাসী আরিফুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে। অ্যাপার্টমেন্টটি অনলাইনে ভাড়া নিয়েছিলেন পারভীন আক্তার নামে ওই নারী। আরিফের জাপানি স্ত্রী রয়েছে এবং পারভীনেরও স্বামী-সন্তান রয়েছে। এরপরও তারা কেন বিয়ে করল এবং পারভীন আরিফকে খুন করল, সেই রহস্য খুঁজে বেড়াচ্ছে পুলিশ।

পুলিশ ঘটনার বিবরণে জানিয়েছে, আরিফুল ইসলামের সঙ্গে প্রেম ছিল পারভীনের। নোটারি কাবিননামার মাধ্যমে ২০২১ সালে তারা বিয়ে করেন নরসিংদীতে। বিয়ের আড়াই বছরের মাথায় বাংলাদেশে এসে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয় আরিফুলকে। এ হত্যাকাণ্ড পারভীন আক্তারই ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। খুনের পর দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় হত্যাকাণ্ডের কারণ ও বিস্তারিত বিবরণ মিলছে না।

- Advertisement -

গত ১ জুন আরিফুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভাটারা থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে।

ভাটারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, জাপানপ্রবাসী আরিফুল ও কানাডাপ্রবাসী পারভীন স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে গত ১৭ মে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টটি ভাড়া নেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওইদিনই তারা একসঙ্গে অ্যাপার্টমেন্টটিতে প্রবেশ করেন। পরদিন ভোর ৬টায় পারভীন আক্তার একা বেরিয়ে বাইরে চলে যান। ওইদিন আরিফুলের বের হওয়ার কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি। ১৮ মে থেকে রুমটি ভেতর থেকে আটকানো ছিল। ১ জুন অ্যাপার্টমেন্টের পরিচ্ছন্নতাকর্মী কক্ষ পরিষ্কারের জন্য দরজায় নক করে ভেতর থেকে সাড়াশব্দ পাননি। বিকল্প চাবি দিয়ে রুমের দরজা খুললে উৎকট পচা গন্ধ পান। তিনি কক্ষের বিছানায় আরিফুলকে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনিই পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ গলিত লাশের পাশে একটি চিরকুট এবং নোটারি করা বিয়ের কাবিননামা উদ্ধার করে।

প্রাপ্ত আলামত উদ্ধার করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পারভীন জড়িত। কিলিং মিশন বাস্তবায়ন করতেই ওই ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই পারভীন আবার কানাডায় পালিয়ে গেছেন। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এটি একটি পরিকল্পিত খুন। তবে পারভীন ছাড়া এ খুনের সঙ্গে আর কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

থানায় করা এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত আরিফুলের বাবার নাম শাজাহান শিকদার। গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরার কালিকুরপাড়ায়। এজাহারে পারভীন আক্তারের বিস্তারিত পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। গতকাল পর্যন্ত তার বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। তার পরিচয় এবং কীভাবে হত্যাকান্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ভাটারা থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বলেন, ‘আরিফ এক বছর ধরে জাপানে ব্যবসা করছেন। সেখানে থাকার সুবাদে নাচুকি নামের এক জাপানি মেয়েকে বিয়েও করেন। পরে ওই স্ত্রীর নাম রাখা হয় আয়েশা। আয়েশা নামের ওই জাপানি স্ত্রী কখনো বাংলাদেশে আসেননি। জাপানি স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশি নারী পারভীনের সঙ্গে আরিফুলের প্রেম হয়। পারভীনের আলাদা স্বামী ও সংসার রয়েছে। তার স্বামীর নাম বাবু। আগের সংসার ও স্বামী থাকা সত্ত্বেও পারভীন নোটারির মাধ্যমে আরিফুলকে বিয়ে করেন।’

পুলিশ আরও জানায়, পারভীনের একটি ফোন নম্বর পাওয়া গেছে। ওই ফোন নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করে সেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৭ মে কানাডা থেকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে নামেন পারভীন। পারভীন ও আরিফের সঙ্গে অন্য কেউ না থাকায় পারভীন একাই খুন করেছেন বলে অনেকটাই নিশ্চিত পুলিশ। তাছাড়া পাশে থাকা চিরকুটেও পারভীন খুন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিডিআর বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ মে দুপুরে পারভীনের সর্বশেষ অবস্থান হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরেই পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর ওইদিনই তিনি কানাডায় চলে গেছেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles