
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের বাতেনের মোড় এলাকায় নিজেকে নারী থেকে পুরুষে রূপান্তরিত হওয়ার দাবি করেছেন এক তরুণ। আগে তাঁর নাম ছিল সুমা ইসলাম, বর্তমানে পরিচয় দিচ্ছেন রাফি ইসলাম হিসেবে। সম্প্রতি এক তরুণীকে বিয়ে করার বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
রাফি ইসলামের দাবি, আগে তিনি নারী ছিলেন, তবে বর্তমানে পুরুষ হিসেবে পরিচিত। এত দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। চিকিৎসা ও আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আনুষ্ঠানিকভাবে সবার সামনে আসার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। এরই মধ্যে এক তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তাঁরা বিয়ে করেন।
রাফিকে বিয়ে করা তরুণী জানান, ভালোবেসেই তাঁকে বিয়ে করেছেন তিনি। তবে পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। ওই তরুণী বলেন, ‘আমি তাঁকে ভালোবাসি।’
এদিকে রাফি ইসলামের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্দা রুবিনা বেগম জানান, আগে সুমা ইসলামকে সালোয়ার-কামিজ পরতে দেখেছেন তিনি। তবে সম্প্রতি তাঁকে ছেলেদের পোশাকে চলাফেরা করতে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রাকিবুল আলম বলেন, হঠাৎ নারী থেকে পুরুষ বা পুরুষ থেকে নারী হয়ে যাওয়ার ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্বাভাবিকভাবে সমর্থিত নয়। তবে কিছু মানুষের জন্মগতভাবে নারী ও পুরুষ উভয় ধরনের যৌন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘ইন্টারসেক্স’ নামে পরিচিত। এ ধরনের শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা অবস্থা চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব।
তবে রাফি ইসলামের ক্ষেত্রে কী ধরনের শারীরিক বা চিকিৎসাগত পরিবর্তন ঘটেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর নিজের দাবি ও বিয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এলাকায় আলোচনা চলছে।

