
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে হত্যার পরিকল্পনা হয় কলকাতা এয়ারপোর্টের কাছে থ্রি স্টার হোটেল ‘ওটু’ তে। সেই হোটেলে বসে আততায়ীদের সঙ্গে খুনের পরিকল্পনা সাজায় আখতারুজ্জামান। এরপর মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয় সঞ্জীবা গার্ডেনের বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে।
ওটু হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের পর ঘাতকদের দু’জন নিউমার্কেট সদর স্ট্রিটের হোটেল প্লাজায় অবস্থান করে। কলকাতার সিআইডি পুলিশ সূত্র বলছে- সেই অ্যাপার্টমেন্টেই চাপাতির মুখে আনোয়ারুল আজীম আনারকে জিম্মি করে সিয়াম, যাকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করে কলকাতার সিআইডি।
ঠিক কোথা থেকে কখন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সে বিষয়ে মুখ না খুললেও বাংলাদেশ গোয়েন্দা সূত্রে খবর- এই সিয়ামের দায়িত্ব ছিল খুনের পর মরদেহের টুকরোগুলো শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া। এজন্য যে ট্যাক্সি ক্যাব তিনি ব্যবহার করেছিলেন তার চালক জুবায়ের কেও আটক করেছে নিউ টাউন থানার পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
পুলিশ সূত্রে খবর- সিয়াম এবং জুবায়েরকে জেরা করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কলকাতার একাধিক জায়গায় এরই মধ্যে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। যদিও খণ্ডিত মরদেহের টুকরোর কোনো অংশই এখনও হাতে আসেনি বলে জানা গেছে। হত্যার পর মরদেহের অংশ সরিয়ে নিতে ব্যবহার করা গাড়িটিও জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে জব্দ করা হয়েছে সাদা রঙের ওই মারুতি গাড়িটি।
৩০ এপ্রিল অনলাইন রেন্টালের মাধ্যমে সেই গাড়ি ভাড়া করে আততায়ীরা। ১২ মে ভারতে যান আনোয়ারুল আজিম আনার। তিনি ওঠেন বরানগরের পূর্ব পরিচিত গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে। পরদিন ১৩ মে চিকিৎসার জন্য গোপালের বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু ওইদিন রাতেই নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনের বহুতল আবাসনে তাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। ১৪ মে ওই সাদা রঙের ক্যাব গাড়িতে করে প্রথম পর্যায়ে আজিম আনারের মরদেহের অংশ ফ্ল্যাট থেকে বের করা হয় একটি সুটকেসের মধ্যে করে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ১৩ মে নিউটাউনের ওই অভিজাত আবাসনেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় আনোয়ারুল আজিমকে। জানা গেছে, সিআইডির হাতে আটক সিয়ামের দায়িত্ব ছিল মরদেহের টুকরোগুলো বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে দেওয়া। কারণ ওই আবাসনের নির্দিষ্ট ফ্ল্যাট থেকে বেশ কিছু প্লাস্টিক ব্যাগ পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ওই ব্যাগগুলোতেই দেহের অংশগুলো ফেলা হয়েছে।
এদিকে জিজ্ঞাসাবাদে ওই সাদা গাড়ির চালক জানিয়েছে, ১৪ মে এক নারী ও দুই ব্যক্তিকে সুটকেসসহ অ্যাক্সিস শপিং মলের সামনে নামানো হয়। অন্যদিকে সিআইডি সিসিভিটি ফুটেজ দেখে জানতে পেরেছে, অ্যাক্সিস শপিং মলে নামানোর আগে নজরুল তীর্থর কাছে গাড়িটি ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় দেহাংশ কোথায় ফেলা হবে তা নিয়েই মিটিং হয় গাড়ির মধ্যে। তাদের সেই আলোচনা শুনতে পান গাড়ি চালক। এমনটাই জানতে পারে সিআইডি কর্মকর্তারা। এরপর তাদের অ্যাক্সিস শপিং মলের সামনে নামিয়ে দেয় চালক। ফলে সিআইডি মনে করে চালক অনেক কিছুই জানে যা সে বলছে না। তদন্তের স্বার্থে ওই চালককে আটক করেছে পুলিশ।
এরই মধ্যেই আনোয়ারুল আজীম আনার খুনের ঘটনা নিয়ে স্থানীয় নিউটাউন থানায় একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় ব্যবহৃত আরও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় নিউটাউন থানার সামনে এনে গাড়ির ভেতর থেকে আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক টিম। জানা গেছে, গাড়ির মালিক তার গাড়িটি ভাড়ায় ব্যবহার করতে দিয়েছিল। গাড়ির মালিককে নিউটাউন থানার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

