21.3 C
Toronto
রবিবার, জুন ১৬, ২০২৪

গোয়ালন্দ টু কানাডা

গোয়ালন্দ টু কানাডা

বাংলাদেশ থেকে মাত্র সপ্তাহ খানেকের জন্যে কানাডায় বেড়াতে এসেছেন আমাদের গোয়ালন্দের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান খোকার জামাই, মুন্সীগন্জের শ্রীনগর নিবাসী, বাংলাদেশের হাইকোর্টের এ্যাডভোকেট বিল্লাল সিকদার। আমেরিকা প্রবাসী বড় ভাইকে নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন আমাদের বাসায়। কিন্তু সেটা বড় কথা নয়, তার যে কথা শুনে মনটা গর্বে ভরে উঠেছে সেই গল্পটা বলতেই এই লেখা।

- Advertisement -

যে মুহুর্তে টরন্টোর বাঙালীপাড়া গিজগিজ করছে ট্যুরিষ্ট ভিসায় এসে রিফিউজি ক্লেইম করা বাংলাদেশীদের ভীড়ে, গতকালও ভুমধ্যসাগর থেকে প্লাষ্টিকের নৌকায় ভাসতে থাকা ইটালীগামী মরনাপন্ন ৪২ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেছে একটি জাহাজ, সেই মুহুর্তে এ্যাডভোকেট বিল্লাল সিকদার আমাদের মুখ উজ্জল করেছেন। তিন চারদিন আগে টরন্টো এয়ারপোর্টে তরুণ এই লইয়ার বিমান থেকে নেমে কানাডা ইমিগ্রেশন অফিসারের মুখোমুখি হন। বিশ লাখ পঁচিশ লাখ টাকা দিয়ে ভিজিট ভিসা কিনে অল্প শিক্ষিত অনেক বাংলাদেশীরা এয়ারপোর্টে নেমেই এসাইলাম সিক করছেন। বাংলাদেশে ফিরে গেলে তাদের নির্ঘাত জেল জরিমানা অথবা মেরে ফেলা হবে হয়তো এরকম একই ধরনের গল্প শুনতে শুনতে ক্লান্ত শ্রান্ত কানাডার ইমিগ্রেশন অফিসার বিল্লাল সিকদারকেও দু একটি প্রশ্ন করে শরনার্থী হিসেবে মামলা করে কানাডায় থেকে যাবার একটা ফর্ম ধরিয়ে দেন এবং প্রশ্ন করেন, তোমারতো বাংলাদেশে ফিরে গেলে জীবনের হুমকি রয়েছে, তাইনা?

তরুণ এই এ্যাডভোকেটের আত্মসম্মানে লাগে বিষয়টা। তিনি জবাব দেন, কেন হুমকি থাকবে আমার? আর আমাকে কেনইবা এই শরনার্থী ফর্ম পূরণ করতে বলছো তোমরা? আমি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী। আমি তো বেড়াতে এসেছি মাত্র দশ দিনের জন্যে। আমি কেন এই ফর্ম পূরণ করবো? আমাকে ঢুকতে দিলে দাও, না দিলে ফিরতি ফ্লাইটে চলে যাব দেশে।

পাল্টা প্রশ্ন শুনে হতবাক কানাডার ইমিগ্রেশন অফিসার। পাশের অপর এক অফিসারের সাথে মুখ চাওয়া চাওয়ি করে তারা বিল্লাল সিকদারকে পাশের বেন্চে গিয়ে বসতে বলেন। ততক্ষণে ঐ বেন্চে আরো অনেক বাংলাদশীসহ অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন। তিন চার মিনিট পরে ইমিগ্রেশন অফিসার বিল্লালকে ডাকেন এবং সন্তুষ্টচিত্তে কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেন।

বিল্লালের মুখে গল্পটা শুনে খুবই ভাল লাগলো। কানাডার ইমিগ্রেশনের লোকজনের জাজমেন্টাল মনোভাবের উপর দারুণ এক চপেটাঘাত করেছে আমাদের প্রিয় বিল্লাল সিকদার। ঢাকার গুলশানে কানাডা সরকারের অনুমোদিত VFS Global অফিসের দুর্নীতির কথা শুনতে শুনতে যে মুহুর্তে ক্লান্ত হয়ে গেছি সেই মুহুর্তে বিল্লালদের মত উদীয়মান দৃঢ়চেতা তরুণ যুবকরা আমাদের আশা জাগায় বৈকি!

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles