7.8 C
Toronto
বুধবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৪

মামা এবং ভাগ্নি উভয়েরই চোখে মুখের ভাষায় ছিলো কৃতজ্ঞতার প্রকাশ

মামা এবং ভাগ্নি উভয়েরই চোখে মুখের ভাষায় ছিলো কৃতজ্ঞতার প্রকাশ

২০০৫ সালের এপ্রিল-মে মাসের কোন এক তারিখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিকল্পণা শাখার একজন সহকারী পরিচালক ও আমরা দু’জন গবেষণা কর্মকর্তা গেলাম পাবনায়।আর্সেনিক সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরিচালনা করার জন্য আমাদের এই সফর।আমাদের ৩ জনের কাজ পৃথকভাবে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। আমাদের কাছে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত উপকরণ ছাড়াও টাকা পয়সা সবই ছিলো।প্রোগ্রাম আগের থেকেই নির্দিষ্ট করা ছিলো।

- Advertisement -

একদিন সকালে ভাঙ্গুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নির্দিষ্ট সময়ের একঘন্টা আগেই উপস্থিত হলাম। ৩০ শয্যার হাসপাতালে সেই সকালে আমিই বোধহয় সবার আগেই উপস্থিত হয়েছি।এর পর এলো একজন মহিলা ডাক্তার। তার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম সে নতুন চাকুরীতে যোগ দিতে এসেছে।তার মামার বাড়ী কাছেই তাই সে পাবনাকে পচ্ছন্দ তালিকায় রেখেছিলো কিন্ত্ত তার আশঙ্কা এই এলাকাতে সে যোগদান করতে না পারলে তার পক্ষে চাকুরী করা কষ্ট হয়ে যাবে।

সব শুনলাম আর ভাবতে থাকলাম এক সময় আমরাও কত কষ্ট করেছি এই চাকুরীতে যোগ দিতে গিয়ে।কত নদী খাল বিল বাওড় কিংবা খানা খন্দ পার হতে হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা অফিসে এলেন।নতুন ডাক্তার এবং আমি আমাদের পরিচয় দিলাম।স্যারের মুখ শুস্ক মনে হলো।তিনি সরাসরি বললেন যে পাবনা শহর থেকে ফোনে আর একজন যোগদানকারী ডাক্তার তার সাথে কথা বলেছে। সে আসছে যোগদিতে। মনে হলো তিনি তার আসার অপেক্ষায় আছেন। এদিকে যোগদিতে আসা মহিলা ডাক্তার নিরাশ হয়ে পড়েছে।

বুঝতে পারলাম আগেই ফায়সালা হয়ে গেছে কে যোগ দেবে।একজন আসবে পাবনা শহর থেকে প্রতিদিন আর একজন স্থানীয় মামার বাড়ী থেকে আসবে। কাকে প্রাধান্য দেওয়া যায় বেশী? তারপর সে একজন মহিলা ডাক্তার। যে কয়দিন চাকুরী করবে সে কয়দিন তো স্থানীয় মহিলারা একটু চিকিৎসা সেবা পাবে।স্যারকে বললাম-আপনি মেয়েটিকে যোগদান করতে দেন। তিনি আমতা আমতা করতে লাগলেন।বললাম-ওরা এলে বলে দেবেন যে আগে এসেছে সে যোগ দিয়েছে। আগে এলে সেও যোগ দিতে পারতো।কাজ হলো।

স্যারের মন নরম হলো।মেয়েটি যোগ দিলো।এর পর ঢিলাঢালাভাবে কাজে যোগদিতে এল পাবনা শহরের পুরুষ ডাক্তার। সাথে দু’তিনজন এবং একটা গাড়ীও।ইউএইচএফপিও স্যার তাদেরকে বিষয়টি বুঝিয়ে বললেন। এক পর্যায়ে আমাকে দেখিয়ে দিয়ে বললেন তিনি যা করেছেন তা সঠিক এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাও এখানে উপস্থিত আছেন।পাবনার লোকজন ফিরে গেল।আমি আমার কর্মশালার কাজ শুরু করলাম।বিরতির সময়ে দেখলাম সদ্য যোগদানকৃত ডাক্তারের মামা এসেছেন তার ভাগ্নির খোঁজ নিতে। কানে এলো যে ডাক্তার তার মামাকে বলছে যে আমার জন্যই সে চাকুরীতে যোগদিতে পেরেছে।মামা এবং ভাগ্নি উভয়েরই চোখে মুখের ভাষায় ছিলো কৃতজ্ঞতার প্রকাশ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles