7.8 C
Toronto
বুধবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৪

‘কিংস পার্টি’তে যোগ দিতে মেজর হাফিজের বাসায় গিয়েছিলেন সাকিব

‘কিংস পার্টি’তে যোগ দিতে মেজর হাফিজের বাসায় গিয়েছিলেন সাকিব
<br >কিংস পার্টিতে যোগ দিতে মেজর হাফিজের বাসায় গিয়েছিলেন সাকিব<br >নির্বাচনের আগে নতুন এ দলে যোগ দিতে মেজর হাফিজের হাতেই আবেদন ফরম তুলে দিয়েছিলেন ক্রিকেটের বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার ছবি সংগৃহীত

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে কিংস পার্টিখ্যাত বিএনএমে যোগ দিয়েছিলেন ক্রিকেটার ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান। নির্বাচনের আগে নতুন এ দলে যোগ দিতে মেজর হাফিজের হাতেই আবেদন ফরম তুলে দিয়েছিলেন ক্রিকেটের বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। যদিও সাকিব বিষয়টি স্বীকার করেননি।

সূত্র জানিয়েছে, কিংস পার্টি হিসেবে পরিচিত বিএনএমে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ না দিলেও এই দল গঠনের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। বহুল আলোচিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন- বিএনএমের জন্য নির্বাচন কমিশন থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহও করিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -

এমনকি দলের নামটি তারই দেওয়া বলে দাবি করেছেন বিএনএমের নেতারা। হাফিজ দ্বাদশ নির্বাচনের আগে বিএনপির সংক্ষুব্ধ নেতাদের এই দলে ভেড়ানোর উদ্যোগী ছিলেন বলে জানা গেছে।

মেজর হাফিজের বাসায় বিএনএমের সদস্য ফরম পূরণ করে সাকিবের যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি পর্বের একটি ছবি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। এরপরই রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে পরবর্তী সময়ে নতুন দলে না গিয়ে ইউটার্ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন সাকিব আল হাসান।

বিএনএম সূত্র জানিয়েছে, দলের গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের বনানীর বাসায় একাধিক বৈঠক হয়েছে। হাফিজ উদ্দিন আহমদ দলের চেয়ারম্যান এবং সাকিব আল হাসান কো-চেয়ারম্যান হওয়ার কথা ছিল। তারা পরে সুবিধাজনক সময়ে যোগ দেবেন এই আশ্বাস দেওয়ায় দলটির কমিটি গঠনের সময় ওই দুটি পদ শূন্য রাখা হয়েছিল। পর্দার আড়ালে থেকেই হাফিজ উদ্দিন দলটির নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণে ভূমিকা রেখেছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত নানা রাজনৈতিক হিসাবনিকাশ না মেলায় দু’জনের কেউই নতুন দলে যোগদান করেননি।

তারা বিএনএমে যোগ না দেওয়া দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর।

নাম প্রকাশ না করে বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, বিএনপি নেতারা নতুন দলে না গিয়ে ভালো করেছেন। যারা বিএনএম ও তৃণমূল বিএনপিতে গেছেন তারা দু’কূলই হারিয়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ও বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএমের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ড. আবদুর রহমান, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, বহিষ্কৃত সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার কিংস পার্টি দুটিতে যোগ দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে জামানতও হারিয়েছেন। অথচ তাদের ছাড় দিয়ে সংসদ সদস্য করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।

বিএনএমের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও মুখপাত্র মেজর (অব.) ব্যারিস্টার সারওয়ার আলম বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে হতাশ হয়ে আমরা একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। শুরুতে তিনি, মেজর জেনারেল (অব.) এহতেশাম হক, ড. জাকির হোসেনসহ (প্রয়াত) অনেকে যুক্ত হন।
সেই সময় কমপক্ষে ৪০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, শতাধিক আইনজীবী তাদের সঙ্গে যুক্ত হন– যার ৮০ ভাগ রাজনীতিতে নতুন। সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। তাদের এ উদ্যোগ দেখে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিএনপির রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলে ২০১৯ সালের দিকে তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। এমনকি নেতৃত্ব দেওয়ার ইচ্ছাও ব্যক্ত করেন। এর পর ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অসংখ্যবার তাদের সঙ্গে তিনি তার বনানীর বাসায় বৈঠক করেন।

বিএনএম গঠনের সঙ্গে জড়িত নেতারা জানান, ২০২০ সাল থেকে মেজর হাফিজকে তারা অনুরোধ করছিলেন, নেতৃত্ব নিতে চাইলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। কিন্তু তিনি বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। তাদের বিভিন্ন অজুহাত ও আশ্বাস প্রদান করতে থাকেন। তারা তাকে বারবার বলেছেন, ‘আপনি নতুন ধারার রাজনীতি করতে চাইলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন, আমাদের এই উদ্যোগ সম্পূর্ণ ভিন্নধারার রাজনৈতিক উদ্যোগ। আমরা কোনো দল ভাঙার দায়িত্ব নেব না। কোনো স্বৈরাচারীর দোসরও হতে চাই না। প্রায় শতবার তার বাসায় মিটিং করেছেন। সেসব মিটিংয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ এবং কূটনীতিবিদও ছিলেন। তখন অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে, নতুন নেতা হিসেবে রাজনৈতিক দল গঠন করছেন তিনি।

বিএনএমের নেতাদের দাবি, ২০২২ সালের জুলাইয়ে বিএনএমের উদ্যোগী নেতাদের ডেকে মেজর হাফিজ দলের নাম চূড়ান্ত করে দেন। তার পরামর্শে ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বিএনএমের নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়। নিবন্ধন ফরম মুক্তিযোদ্ধা দলের একজন শীর্ষ নেতা দিয়ে সংগ্রহ করেন তিনি। উদ্যোগী নেতাদের মধ্যে হাফিজ উদ্দিনের পছন্দের লোক হিসেবে বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবদুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর (অব.) মো. হানিফকে সদস্য সচিব করেন।

অবশ্য বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনএমের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আবদুর রহমান বলেন, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বিএনপিতে অবমূল্যায়িত ছিলেন। ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু বিএনপি ছাড়তে চাননি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি তার আস্থা ও দুর্বলতা ছিল। আমার মনে হয়, নানামুখী চাপের মুখে নতুন দলে যোগদানের ব্যাপারে ‘কৌশলী ভূমিকা’ নিয়ে সময় পার করেছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, তাকে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনএমের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শেষ বয়সে তিনি দলের সঙ্গে বেইমানি করতে চাননি।

দলটি গঠনে নেপথ্যে ভূমিকা রাখা ও তার বাসায় একাধিক বৈঠকের কথা সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন তিনি। এছাড়া ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান তার হাতে ফরম দিয়ে যোগদানের বিষয়টিও এড়িয়ে যান মেজর (অব.) হাফিজ।

কিংস পার্টিতে যোগদানের বিষয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles