6.1 C
Toronto
সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪

প্রথম হওয়ার পরই ‘টানাহেঁচড়া’, সর্বা আসলে কার?

প্রথম হওয়ার পরই ‘টানাহেঁচড়া’, সর্বা আসলে কার?
ছবি সংগৃহীত

২০২৩-২৪ সেশনের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় প্রথম স্থান অর্জন করেছেন তানজিম মুনতাকা সর্বা। প্রথম স্থান অধিকারের পরই তাকে নিয়ে ‘টানাহেঁচড়া’ দেখা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তানজিম মুনতাকা সর্বাকে নিজেদের শিক্ষার্থী বলে দাবি করছে দেশের প্রায় সব মেডিকেল কোচিং সেন্টার। অনেক কোচিং সেন্টার এবং ব্যাচের শিক্ষকরা তাকে অভিনন্দন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছে।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি জানিয়েছে, তানজিম মুনতাকা সর্বার মোট প্রাপ্ত নম্বর ৯২.৫। তিনি রাজধানীর হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে যা বললেন সর্বামেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে যা বললেন সর্বা
সর্বাকে নিজেদের ছাত্রী দাবি করেছে মেডিকেল কোচিং সেন্টার ‘রেটিনা’। ফেসবুকে দেওয়া তাদের অভিনন্দন বার্তায় সর্বার রেটিনায় ভর্তি রোলও প্রকাশ করেছে। এদিকে তাকে নিজেদের ছাত্রী হিসেবে অভিনন্দন জানিয়েছে ‘উন্মেষ’ ও ‘মেডিকো’। তারাও প্রমাণ হিসেবে একটি রোল নম্বর প্রকাশ করেছে।

তবে ‘রেটিনা’ কোচিং সেন্টারকে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার দিতে দেখা গেছে তানজিম মুনতাকা সর্বা। সাক্ষাৎকারে সর্বাকে ওই কোচিংয়ের ক্লাস, পড়ালেখা নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে।

অন্যদিকে একাধিক কোচিং শিক্ষক এবং ব্যাচ পরিচালকও তানজিম মুনতাকা সর্বাকে নিজের শিক্ষার্থী দাবি করে অভিনন্দন বার্তা জানিয়েছেন।

তবে এবারই এ ঘটনা প্রথম নয়। প্রতিবছরই মেডিকেলে মেধা তালিকায় শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের নিজেদের দাবি করতে দেখা যায় মেডিকেল কোচিং সেন্টারগুলোকে। এ নিয়ে কয়েকদিন সোসাল হ্যান্ডেলে চলে আলোচনা সমালোচনা।

তানজিম মুনতাকা সর্বাকে নিজেদের শিক্ষার্থী বলে দাবি করে অভিনন্দন জানিয়েছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার এবং ব্যাচ শিক্ষকরা।

এম ডি মাহফুজ নামের একজন বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের অভিনন্দন বার্তার ছবি পোস্ট করে একটি গ্রুপে লিখেছেন, শুরু হয়ে গেছে সার্কাস…। মেডিকেলে প্রথম হয়েছে Tanzim muntaka Sorba। সব ঠিক আছে, মেধাবী এইডাও মানলাম, তবে এই মেধার দাম কী ভাই, যেই মেধা টাকার কাছে বিক্রি হয়। সবে তো রেজাল্ট দিলো, এখনই শুরু বাংলাদেশের সব বড় বড় কোচিং সেন্টারগুলার ক্রেডিট নেওয়া। এখন সবার একই দাবি, সর্বা আমাদের কোচিং সেন্টার থেকে পড়ছে, আমরা তাকে গাইড করছি।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হাসনাত ত্বোহামেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হাসনাত ত্বোহা
তবে নিজের কৃতির জন্য বাবা-মায়ের অবদানের কথা জানিয়েন তানজিম মুনতাকা সর্বা। ফেসবুকে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি আমি ঢাকা মেডিকেলে চান্স পাব। আল্লাহর সব ইচ্ছে! আলহামদুলিল্লাহ, অনেক কষ্ট করেছি, কেঁদেছি। আজকে সব কান্না শেষ! অনেক কষ্ট করেছেন আমার মা-বাবা। আজকে আমার কান্না পাচ্ছে ঠিক তাদের জন্যই। আমি আজকে ধন্য, আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ!’

রবিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, এমবিবিএস ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৯ হাজার ৯২৩ জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেলের প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন এক লাখ দুই হাজার ৩৬৯ জন। গত ৯ ফেব্রুয়ারি সারা দেশের ১৯ কেন্দ্রের ৪৪টি ভেন্যুতে একযোগে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের ভর্তি পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছেন তাজওয়ার হাসনাত ত্বোহা নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি রাজধানীর নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। সূত্র: দেশ রূপান্তর

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles