20.9 C
Toronto
বুধবার, জুলাই ২৪, ২০২৪

‘আজকে এক অদ্ভুত ভালো অভিজ্ঞতা হলো মেট্রোতে’

'আজকে এক অদ্ভুত ভালো অভিজ্ঞতা হলো মেট্রোতে'
একটি ভারী ব্যাগ নিয়ে মেট্রোরেলে উঠতে পারেননি ফারদিন খান সুপ্ত নামের এক যাত্রী

একটি ভারী ব্যাগ নিয়ে মেট্রোরেলে উঠতে পারেননি ফারদিন খান সুপ্ত নামের এক যাত্রী। চেক ইন করে মেট্রো স্টেশনে ঢুকলেও তাকে ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি। তারওপর তার এমআরটি পাস থেকে ৬০ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আজকে এক অদ্ভুত ভালো একটা অভিজ্ঞতা হলো মেট্রোতে।’ কী সেই ‘অদ্ভুত ভালো’ অভিজ্ঞতা? চলুন তার সেই লেখাটি দেখে নেয়া যাক।

একটি ব্যাগের ছবি শেয়ার করে ফেসবুকে মেট্রোরেলের একটি কমিউনিটিতে ফারদিন খান সুপ্ত লিখেছেন, ‘একটা বড় ভারী ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছিলাম। এমআরটি দিয়ে চেক ইন করতেই গার্ড আমাকে বললো, স্যার এটা নেওয়া যাবে না। আমি বললাম কেন? উনি বলল, এটা আমাদের নিয়ম। আপনি কাউন্টারে কথা বলেন। কাউন্টারে যাওয়ার পর তাকে আমি প্রথম খুব বিনয়ের সাথে বললাম, ভাইয়া আমার ইমারজেন্সি প্রোডাক্ট ডেলিভার করতে হবে। উনি বললো আমাদের নিয়মে নেই এমনটা আপনি বের হয়ে অন্য কোনোভাবে চলে যান! তখন আমি একটু জোরালোভাবে বললাম, আপনি আমাকে মেট্রোরেলের নিয়ম দেখান যে আমি আমার সাথে ব্যাগ নিতে পারবো না। তখন উনি উনার উপরস্থ কর্মকর্তাকে কল করে ডেকে আনলেন!’

- Advertisement -

এরপর ফারদিন সেউ উপরস্থ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করে লিখেছেন, ‘উনি আমাকে মেট্রো স্টেশনের পাসিং গেইট থেকে বের করে চেক ইন গেটের পাশে নিয়ে স্পষ্ট করে দেখালেন, ভারী ব্যাগ বা লাগেজ নেওয়া নিষেধ। আমি উনাকে বললাম, ভাইয়া আমি যদি মেট্রো ব্যবহার করতেই না পারি আমার সুবিধার জন্য তাহলে লাভ কি হলো আমাদের? তখন উনি বললেন, এখন আমাদের রাশ চলছে। এত মানুষ উঠতেছে যে এই ব্যাগটা নিলে অন্তত দুইজনের জায়গা নষ্ট হবে আর মানুষেরও কষ্ট হবে। আপনি এরপর থেকে যদি ব্যাগ নিয়ে যেতে চান তাহলে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে ব্যবহার করবেন। এরপর আমি ব্যাপারটা উপলব্ধি করে পাসিং গেট দিয়ে ঢুকে চেক আউট গেট দিয়ে বের হই। কিন্তু দেখি ৬০ টাকা কেটে নিয়েছে। তখন রেজা ভাইকে বিষয়টি জানালাম। তখন ভদ্রলোক নিজের মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে আমাকে দিতে চাইলেন। আমি না করলাম। পরে উনি বললেন এটা আমি মেট্রোর ভর্তুকিতে দিয়ে দেবো। তাও আমি দুই তিনবার না করার পর উনি জোরপূর্বক দিলেন।’

ফারদিন আরও লিখেছেন, ‘রাশ এর সময়ে ব্যাগ না নেওয়াটাই উত্তম। আর যদি কোনো ঝামেলায় পড়েন সেন্টারে গিয়ে বলবেন উপরস্থ কর্মকতাকে কল করে ডেকে আনেন। কারণ সেন্টারে বা কাউন্টারে যারা বসে তাদের মধ্যে কোনো প্রকার ভদ্রতা নেই তবে কিছু ভালো মানুষও পাওয়া যায়। আসলে শিক্ষার তফাৎ আরকি! তবে মেট্রো হওয়াতে যতটা শান্তিতে কাজ করা যায় সেটা আগে কখনোই সম্ভব ছিলো না। উত্তরা থেকে মতিঝিল সবাই একটু কষ্ট হলেও যথেষ্ট শান্তিতে যায়।’

এই ভয়টাই ছিলো, মেট্রোতে সেটাই আজ দেখলাম!এই ভয়টাই ছিলো, মেট্রোতে সেটাই আজ দেখলাম!
তার এই লেখাতে অনেক মেট্রো যাত্রীই কমেন্ট করেছেন। কেউ কেউ তাদের বিদেশের অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেছেন। কেউ বলেছেন, দেশ থেকে বিদেশে আরও কঠিন নিয়ম। ভারী ব্যাগ নেওয়ার নিয়ম নেই। আবার কেউ বলেছেন, বিদেশে তো বড় ব্যাগ নিয়ে উঠেছি। কোনো সমস্যা হয়নি।

আব্দুল্লাহ আল বাকি নামের এক যাত্রী সেখানে কমেন্ট করেছেন, ‘গতমাসে দিল্লি মেট্রোতে চড়তে গিয়ে একই নিয়ম পেয়েছি। বরং সেখানে নিরাপত্তার বিষয়ে আরও অনেক বেশি কড়াকড়ি। এয়ারপোর্টের মতো ডিটেক্টর মেশিনের ভেতর দিয়ে যেতে হয় এবং ফিজিক্যালি ও চেক করে তারপর ঢুকতে দেয়। কোন প্রকার বড় ব্যাগ তো বহুদূর ছোট্ট ব্যাগে কোন কাঁচাবাজার নিয়েও সেখানে মেট্রোতে উঠা নিষেধ। দক্ষিণ কোরিয়াতেও একি নিয়ম। শুধু যাত্রী পরিবহন হয়। প্রতিটা প্রকল্পের ভিন্ন ভিন্ন অবজেকটিভ আছে। মেট্রোরেল মূলত শহরের ভিতরে শুধুমাত্র দ্রুতগতিতে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে তৈরি। পণ্য পরিবহনের জন্যে আরও অনেক প্রকার যানবাহন রয়েছে। মেট্রোতে পণ্য পরিবহণ করতে যাওয়া আসলেই নিয়ম বহির্ভূত।’

দিব্যজোতি ধর লিখেছেন, ‘কোনো মেট্রোতেই উঠা যায় না। আমি কলকাতার অভিজ্ঞতা থেকে বললাম। ভারী ব্যাগ নিয়ে উঠতে দেয় নাই। আর চোখেও পরেনি এমন।’ তবে জিয়াউল হক ভূইয়া লিখেছেন, ‘ব্যাংকক মেট্রোতে আমি বড় লাগেজ নিয়ে উঠেছি কোনো প্রবলেম ছাড়া।’

জামিল সুজন লিখেছেন, ‘কর্মীদের পক্ষে নাকি বিপক্ষে বললেন, বুঝলাম না। টাকা দেওয়াটা কি মেনে নিতে পারছেন না? নাকি প্রশংসা করলেন? একটু সহজ সাবলিলভাবে লিখলে ভালো হতো। যে ভদ্রলোকের ছবি তুলে দিলেন এনারে উপরে তুললেন নাকি আপনাকে ব্যাগ নিয়ে উঠতে দেয়নি দেখে নিচে নামালেন? বড় ব্যাগ নিয়ে ওঠা এমনেই নিষেধ। তাও সবসময় দেয় কিন্তু রাশ আওয়ারে বেশিরভাগ স্টেশনেই দেওয়া হয় না। নিয়ম যেহেতু লেখা আছে, আপনার আমার সবারই মানতে হবে।’

মোস্তফা রিফাত লিখেছেন, ‘কাউন্টারে যেগুলো থাকে এগুলোর ভদ্রতা শিখানো উচিত। অভদ্র একদম হিংস্র জানোয়ারের মত আচরণ করে।নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে করে। অথচ এই জনগনের টাকা তে তাদের বেতন হয়।’ রোমান কবির লিখেছেন, ‘তাহলে ভবিষ্যতে যারা কমলাপুর স্টেশনে নেমে ট্রেনে ঢাকার বাইরে যাবে, তারা কিভাবে লাগেজ নেবে?’ আহনাফ তাহমিদ লিখেছেন, ‘ভারী ব্যাগ নিয়ে কেউ উঠলে বিরক্ত লাগে কারণ চাপ বেশি।’

তবে একটি ভিডিও শেয়ার করে আমিনুল ইসলাম লিখেছেন, ‘চায়নার উন্নতি দেখে আমরা অনেকে ভরকে যাই, এই ভিডিওটি সবার জন্য একটা শিক্ষা, চায়নার হাতে কোন জাদুর প্রদীপ ছিলো না। কিন্তু ছিল এই মানুষগুলি। এদের শ্রমের উপর ভর করে চায়না আজকে বিশ্বসেরার কাতারে চলে গেছে। এত আধুনিক রেল স্টেশন কিংবা রোডে বার কাদে এই মানুষগুলিকে কোন ধরনের বাধা দেয়ার নিয়ম চায়নায় নাই। কারণ চায়না জানে তার ব্যাতীত এই চায়না প্রতিষ্ঠা সম্ভব হত না। একবার ভাবেন তো এমন দৃশ্য বাংলাদেশের মেট্রোতে আপনি কল্পনা করতে পারেন কিনা?’

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles