14.4 C
Toronto
শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪

আসসালামু আলায়কুম বলেই সালাম ঠুকবেন

আসসালামু আলায়কুম বলেই সালাম ঠুকবেন
সৈয়দ আযম

স্বাস্থ্য উইং এর যুগ্ম-প্রধান স্যার আল্লাওয়ালা মানুষ। প্রতিদিন অফিসে ঢুকেই-আযম সাহেব আসসালামু আলায়কুম বলেই সালাম ঠুকবেন। একদিন তার রুমে ঢুকে বললাম-স্যার অফিসে প্রতিদিন সবার আগে এসে বসে থাকি আপনাকে আগে সালাম দেব বলে কিন্তু কিছু বুঝে উঠার আগেই আপনি সে কাজটি করে ফেলেন। স্যার বিনয়ের হাসি হাসেন। বিভিন্ন সময় তার রুমে ডাকেন ডাক্তারী বিদ্যার খবর যেমন আমার কাছ থেকে নেন তেমনি কাজের প্রশিক্ষণটাও তার কাছ থেকে পাই। কোন নতুন ব্যক্তি তার রুমে এলেই পরিচয় করিয়ে দেন। নতুন কোন ব্যক্তির সাথে পরিচিত হতে আমার ভালোই লাগে। ভুলেই গেলাম আমি বিসিএস স্বাস্থ্য কাডারের সদস্য।

বাংলাদেশ সচিবালয়ের বিভিন্ন মিটিং এ স্যারের সাথে যেতাম। বিভিন্ন বিষয়ে আগেই work out করে রাখতাম প্রয়োজন মতো সেটিই তাকে স্মরণ করিয়ে দিতাম। আল্লাহকে স্মরণ করতাম তিনি আমাকে এ কোথায় আনলেন -পরিস্কার পরিচ্ছন্ন জীবন এবং কর্ম ধারা। আমি আরো আন্তরিকতায় কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করলাম। পরিকল্পণা কমিশনের এ বিভাগটি ছিলো আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো এবং এ বিভাগের প্রধান ছিলেন সচিব পদমর্যাদার একজন যাকে বলা হতো বিভাগীয় প্রধান।

- Advertisement -

এক সময় বাংলাদেশ টিভিতে একজন শিল্পীর গান শুনতাম মাঝে মাঝে তিনি আসাফউদ্দৌলা। তিনি আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের বিভাগীয় প্রধান। চমৎকার তার কন্ঠস্বর। আমরা বিভিন্ন সময়ে মিটিং এ তার সাথেও বসেছি। তিনি দিক নির্দেশন দিতেন। তার পি এস খুব বন্ধু বৎসল ছিলেন। পিএস এর রুমের আলমারীতে বিভিন্ন বিস্কুট জমা থাকতো প্রায় প্রতিদিন সহকর্মী সহ আমি পিএস এর রুমে গিয়ে গল্প করতাম এবং চা বিস্কিট খেতাম।

পরিকল্পণা কমিশনের স্বাস্থ্য উইং এর আমার সহকর্মী গবেষণা কর্মকর্তা চট্টগ্রামমেডিকেল কলেজের মেধাবী ছাত্র ছিল। সহজ সরল এবং দয়ালু মানুষ। বিভিন্ন কাজে তার সহযোগিতা পেতাম। এখন সে বাংলাদেশ সচিবালয়ে যুগ্ম-সচিব অথবা অতিরিক্ত সচিব। একদিন বললো-ভাই আমি পিজি হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করছি। এফসিপিএস করার প্রতি তার আগ্রহ অপরিসীম ছিলো। ইকোনমিক ক্যাডারে চাকুরীরত একজন ডাক্তারের পক্ষে তা প্রায় অসম্ভব। পিজি এর একটি প্রকল্পে সে কিভাবে যেন যোগ দিলো উদ্দেশ্য ওখানে প্রয়োজনীয় ট্রেনিং শেষ করা এবং এফসিপিএস পরীক্ষায় অংশ নেয়া।
একদিন বিভাগীয় প্রধান আসফউদ্দৌলা স্যারের রুমে দুটি ফাইল নিয়ে গিয়েছিলাম। কাজের মাঝে স্যার বললেন-
-তোমার সহকর্মীতো ডেপুটেশন চেয়েছে পিজিতে।
-ছেড়ে দেন স্যার। কোন জড়তা না নিয়েই বললাম। ভাবলাম একজন সহকর্মীর উন্নতিতে এগিয়ে আসা দরকার।
-তোমার কাজের কোন অসুবিধা হবেনা? একা পারবেতো?
-পারবো স্যার।
-ঠিকতো?
-জি স্যার।

আমি চলে এলাম। পরে শুনলাম স্যার তার ফাইল ওকে করে দিয়েছেন।
এর কিছুদিন পর সে পিজির প্রকল্পে যোগ দেয় এবং তার সাধনায় এপসিপিএস শেষ করে। আজ সে এপসিপিএস ডাক্তার এবং একজন সচিবও। আমার ভালোলাগা অনুভুতিতে জড়িয়ে আছে ছোট ভাই সহকর্মীর এ সাফল্য।

কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles