15.7 C
Toronto
রবিবার, মে ১৯, ২০২৪

ক্ষমতায় টিকে থাকতে সব অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ: মির্জা ফখরুল

ক্ষমতায় টিকে থাকতে সব অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ: মির্জা ফখরুল

দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে আর সরকারে দেখতে চায় না বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, আজকে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও লাখো জনতার উপস্থিতিতে জনগণ এই সরকারকে না বলে দিয়েছে। এরা ক্ষমতায় টিকে থাকতে সকল অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে।

- Advertisement -

শনিবার বিকালে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে সামনে সরকার পতনের একদফা দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের আয়োজনে গণমিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আটক রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। সকল নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে। সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘এ সরকার জনগণের সবধরনের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। জনগণের আওয়াজ স্তব্ধ করে আবারও এরা ক্ষমতায় আসতে চায়। আসুন সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। সরকার জোড় করে ক্ষমতায় আসতে চাইবে। সবাইকে সতর্ক থাকবে হবে। নেতাকর্মীদের বুকে সাহস নিয়ে রাজপথে নামতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সংসদ বিলুপ্ত করে জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বক্তব্য দেওয়ার প্রারম্ভে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে বক্তব্য সংক্ষেপ করেন তিনি। বক্তব্য শেষে তিনি শ্লোগান ধরেন, ‘সকল রাজনৈতিক দল এক হও, এক হও’।

এর আগে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে পীরজঙ্গী মাজার হয়ে আরামবাগ, ফকিরাপুল হয়ে নয়াপল্টনে এসে মহানগর দক্ষিণের গণমিছিল নয়াপল্টনে জড়ো হোন। অপরদিকে রামপুরা ডেল্টা হাসপাতাল থেকে শুরু হয়ে গণমিছিলটি হাজীপাড়া, মালিবাগ চৌধুরীপাড়া, মৌচাক, শান্তিনগর হয়ে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হয়।

দুটি গণমিছিল এক জায়গায় মিলিত হলে পুরো নয়াপল্টন জনসমুদ্রে রূপলাভ করে। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুটি ট্রাক দিয়ে তৈরি করা হয় ভাসমান মঞ্চ। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিবসহ দলের নেতৃবৃন্দ।

গণমিছিল পরবর্তী সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহবায়ক আমান উল্লাহ আমান সভাপতিত্ব করেন। আর সদস্য সচিব আমিনুল হক সমাবেশ পরিচালনা করেন।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহবায়ক আনম সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘জনগণ এই সরকারকে দেখতে চায় না। জনগণ চায় খালেদা জিয়া মুক্তি পাক, তারেক রহমান দেশে এসে ১৮ কোটি মানুষের নেতৃত্ব দেবে। একজন মন্ত্রী বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ এক রাতেই শেষ হয়ে যাবে। আমরা বলতে চায়, আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে দেশের স্বাধীনতা থাকবে না, সার্বভৌমত্ব থাকবে না।’

‘এ সরকারের লজ্জা নেই, থাকলে এত মিথ্যাচার এই করতো না। আজকে আপনাদের টিকে থাকার আর কোনো রাস্তা নেই। আজকে বলেন, বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়েছে। রাজপথে আজ সরকারের লাখো জনতা মাঠে নেমেছে। আন্দোলন কি লগি-বইঠা নিয়ে আন্দোলন!’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘খালেদা জিয়া এখনো মুক্তি পাননি। খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে মেরে ফেলার চেষ্টা করছে। খালেদা জিয়া যদি বিদেশে না যেতে পারে তাহলে সরকারের কাউকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেওয়া হবে না। আজকে এত নেতাকর্মী রাস্তায় থাকে পুলিশের এত গুলিও নেই।’

‘বিএনপির কর্মীরা আজ কোথায়? আজও কেন আন্দোলন সফল করতে পারছি না। আজ যদি সবাই শপথ নিয়ে মাঠে নামি পুলিশের সাধ্য নেই আমাদের ঘরে ফেরাবে। কর্মীরা যদি নির্ভয়ে রাজপথে নামে তাহলে শেখ হাসিনার গদি ছাড়া কোনো পথ থাকবে না।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় আর নেই। আজ দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতির কারণে মানুষ পেট ভরে খেতে পারছে না। আর প্রধানমন্ত্রী নিজের অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রের অর্থ খরচ করে বিদেশ ভ্রমণ করছেন। আজকে তরুণ সমাজ আন্দোলনের সঙ্গে থাকুন, অবশ্যই এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে।’

সূত্র : ঢাকাটাইমস

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles