15.9 C
Toronto
শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪

যমুনা ভাঙল ঘর, ছেলেরা দিল না আশ্রয়: বৃদ্ধ মা-বাবার ঠাঁই কবরস্থানে

যমুনা ভাঙল ঘর, ছেলেরা দিল না আশ্রয়: বৃদ্ধ মা-বাবার ঠাঁই কবরস্থানে
<br >হামিদ মোল্লা ও তার স্ত্রী ফজিলা খাতুন

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সম্ভুদিয়ায় বৃদ্ধ মা-বাবাকে কবরস্থান ফেলে যায় পাঁচ ছেলে। অবশেষে তাদের ঠাঁই হয় বিধবা মেয়ের ঘরে।

এলাকাবাসী জানায়, চৌহালী উপজেলার দুর্গম উমারপুর ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামের হামিদ মোল্লা (৮৬) ও তার স্ত্রী ফজিলা খাতুনের (৭৭) পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। কিছুদিন পাঁচ ছেলে ভাগাভাগি করে তাদের ভরণপোষণ করে আসছিলেন। তবে এখন আর কেউ দায়িত্ব নিতে চায় না। এর মধ্যে যমুনার ভাঙনে বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ছেলেরা বিভিন্ন জায়গায় চলে যায়। ফলে এ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের শুরু হয় অযত্ন-অবহেলা। পাঁচ ছেলের মধ্যে কার বাড়িতে তারা থাকবেন এ নিয়ে চলে বাদানুবাদ।

- Advertisement -

কোথাও ঠাঁই না হওয়ায় দুই মাস আগে সেজ ছেলের বউ মানিকগঞ্জের বাড়ি থেকে হাঁপানিয়ার চরে পাঠিয়ে দেন তাদের। সেখানে এক ভাগনের বাড়িতে তারা আশ্রয় নেন। সেখানে অবহেলা শুরু হলে তারা আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। ফলে স্বজনরা তাদের ওই কবরস্থানের পাশে ফেলে রেখে যায়। তারা আশ্রয় হারিয়ে সেখানে খোলা আকাশের নিচে না খেয়ে কয়েক দিন কাটান। একপর্যায়ে তারা রাস্তার ধারে বসে কান্নাকাটি শুরু করেন। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের কান্নার কারণ জানতে চান। তখন ওই বৃদ্ধ মা-বাবা সব ঘটনা খুলে বলেন। খবর পেয়ে তাদের বিধবা মেয়ে মনোয়ারা খাতুন ছুটে এসে নিজের বাড়ি নিয়ে যান।

তবে জানা গেছে, স্বামীহারা মনোয়ারার নিজেরই পেট চলে না। ফলে বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিয়ে তিনি চরম বিপাকে পড়েছেন।

এ বিষয়ে মেয়ে মনোয়ারা খাতুন বলেন, আমি নিজেই স্বামীহারা। এখন আমি নাতিপুতিদের সংসারে থাকি। নিজেরই দু’বেলা ঠিকমতো ভাত জোটে না।

তিনি বলেন, আমার পাঁচ ভাইয়ের কেউ বাবা-মাকে ভরণপোষণ না করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এই বৃদ্ধ বয়সে তারা এখন কোথায় যাবে। যমুনার ভাঙনের পর অবশিষ্ট সম্পদ যা ছিল তা সব ভাইয়েরা বিক্রি করে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছে। এখন কাউকে কিছু না জানিয়ে ভাইয়েরা আমার বাড়ির পাশে তাদের ফেলে রেখে গেছে। নিরুপায় হয়ে আমি তাদের আমার বাড়িতে নিয়ে এসেছি। কিন্তু তাদের ভরণপোষণ আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে ওই বাকরুদ্ধ বৃদ্ধ দম্পতি জানায়, সন্তানদের মানুষ করতে জীবনের পুরোটা সময় হাড়ভাঙা পরিশ্রম করেছি। আশা ছিল শেষ বয়সে তারা আমাদের দেখবে। কিন্তু দেখা তো দূরে থাক তারা আমাদের কবরস্থানের পাশে ফেলে গেল।

এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম মোল্লা জানান, বৃদ্ধ দম্পতিকে দেখতে গিয়েছিলাম। তাদের সব রকম সহায়তা করার জন্য ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে।

চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবাকে ফেলে যাওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলেছি, যাতে তারা সব রকম সহায়তা পায়।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles