16.5 C
Toronto
শুক্রবার, অক্টোবর ৭, ২০২২

তরুণীকে আটকে ৩ দিন ধর্ষণ, তাকে ছেড়ে আরেক কিশোরীকে ৫ দিন

- Advertisement -

তরুণীকে আটকে ৩ দিন ধর্ষণ, তাকে ছেড়ে আরেক কিশোরীকে ৫ দিন - the Bengali Times

নেত্রকোনার মদনে সুমন মিয়া (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে এক তরুণী (২৬) ও অপর এক কিশোরীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পৃথক দুই ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সুমন মিয়া মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সাহের উদ্দিনের ছেলে। থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার ৯ দিন পরও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। থানায় অভিযোগ করার পরও আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে ভুক্তভোগী দুই পরিবার।

পুলিশ, ভুক্তভোগী দুই পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দুই সন্তানের জনক সুমন মিয়া। গত ১৭ অক্টোবর উপজেলার এক তরুণীকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে। তাকে ৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে ২১ অক্টোবর কৌশলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ওই তরুণী ২৬ অক্টোবর সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে মদন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে ওই তরুণীকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে ওই দিনই (২১ অক্টোবর) অপর এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে বাড়ি নিয়ে ধর্ষণ করে সুমন। ওই ছাত্রীর বাবা ২২ অক্টোবর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর স্থানীয় মাতবররা কয়েক দফা সালিশ বৈঠক করেন। পরে ২৫ অক্টোবর অভিযুক্ত সুমন মিয়ার কাছ থেকে ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে নিজ পরিবারের জিম্মায় দিয়ে দেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে সুমন আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। তিন দিন তার বাড়িতে আটকে রেখে আমাকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। এখন কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করবে বলে অভিযোগ প্রত্যাহার করতে চাপ দিচ্ছে সুমন ও তার পরিবারের লোকজন। আমি এর বিচার চাই।

অপর স্কুলছাত্রীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে রাতে জোরপূর্বক বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় সুমন মিয়া। পরদিনই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। আমার মেয়েকে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে সে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার ৫ দিন পর স্থানীয় মাতবররা আমার মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে যান। লজ্জায় আমরা মুখ দেখাতে পারছি না। সুমন ও তার লোকজন আমাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ভয়ে মেয়েকে তার নানার বাড়িতে রেখে এসেছি। আমি এর বিচার দাবি করছি। বিচার না পেলে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না আমার।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল চৌধুরী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অপহরণ করায় স্কুলছাত্রীর বাবা সুমন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় মাতবররা সুমন মিয়ার কাছ থেকে ৫ দিন পর স্কুলছাত্রীকে তার নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আরেক নারীকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিল। সেই নারীও তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। এটা আইনি বিষয় তাই বেশি কিছু বলতে চাই না।

অভিযুক্ত সুমনের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে তার বড়ভাই সুজন মিয়া জানান, স্কুলছাত্রীকে মাতবররা তার পরিবারের লোকজনের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছেন। অন্য মেয়েটি এখনো আছে। থানায় দেওয়া অভিযোগ দুই মীমাংসা করার জন্য চেষ্টা করছি।

মদন থানার ওসি মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবার চাইলে তাদের সব ধরনের আইনি সহযোগিতা দেওয়া হবে।

সূত্র : যুগান্তর

Related Articles

Latest Articles