18.9 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০২৪

পাত্রী দেখা

পাত্রী দেখা
এসেছিলেন পাত্রী দেখতে কতো কথা হবার কথা অথচ চারিদিকে শুধুই নীরবতা

রায় বাবুর পায়ে জুতো নেই, জুতোজোড়া বগলে রেখে তিনি হাঁটছেন। যাচ্ছেন তার বড় ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে। বড় ছেলে সবে পাশ করলো। কনে ক্লাস দশ।

খালি পায়ে হাঁটতে নিখিল চন্দ্র রায়ের কোন অসুবিধা হচ্ছে না। যদিও রায় বাড়ির বংশধর বলে কথা। তবুও জুতোতে ধুলো লাগার চেয়ে পায়ের নিচে সামান্য পাথরকুচি কিংবা খেজুর কাঁটা সহ্য করা উত্তম। কনের বাবা মা যদি বলে বসেন, ওমা রায় বাবুর জুতোতে দেখি রাজ্যের ধুলো। তাতে বংশের গায়ে কালিমা লেপন হবে যে। রায় বাবু তাই খালি পায়ে জোর কদম হাঁটছেন।

- Advertisement -

গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক বেলা হয়ে গেল। আগের দিনের মানুষ তাই খোঁজ খবর না পাঠিয়ে সশরীরে হাজির হবেন এতে দোষের কিছু নেই। তবে কনের বাবা ইতিমধ্যে বাইরে চলে গেছেন।

কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে একটি মেয়ে দরজা খুলে দেখে রায় বাবু বগলে জুতো আর পায়ে রাজ্যের ধুলোবালি মেখে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি কিছু বলার আগেই মেয়েটি বলল, দাঁড়ান দাঁড়ান ভেতরে আসবেন না। এই বলেই সে ভেতর মুখী হলো।

কি সর্বনাশ হয়ে গেল। ঘাট থেকে পা ধুয়ে জুতো পরে আসার কথা। এমন যেন না হয় সেটা আবীরের মা পইপই করে মনে করিয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, সম্বন্ধ করতে যাচ্ছ দেখো এ কাজটা করতে যেন ভুলে না যাও।

আজকাল লিখিল চন্দ্র রায় অনেক কিছুই ভুলে যান এ কথা সত্য। মাথার ওপর একগাদা ঋণের বোঝা। আবীরকে ওকালতি পাশ করাতে অনেক ঋণ করতে হয়েছে। এর আগে পাঁচটা মেয়েকে বিয়ে দিতে হয়েছে। পুরানো দালান ছাড়া তেমন কিছু অবশিষ্ট নেই। তবুও এমন কাণ্ড কেমন করে করলো সে। তাহলে কি ফিরে যেতে হবে সেই দশ মাইল পথ!

রায় বাবু হুঁশ ফিরে এলো যখন মেয়েটি কুঁজো হয়ে বললো দেখি ডান পাটা এগিয়ে দেন তো। ওর হাতে পিতলে ঘড়া ভরা জল। পা উঁচু করে দাঁড়াবার সময় নিখিল চন্দ্র রায় তার ডান হাতের লঘু ভর রাখলেন মেয়টির মাথার ওপর। অন্য পা ধুয়ে দেবার সময়টাতে রায় বাবু জিজ্ঞেস করলেন, পরিমল মিত্রের তো একটাই মাত্র মেয়ে। তুমি কি সেই মেয়ে, মানে সুস্মিতা?

পা ধোয়ানো কাজ মোটামুটি শেষ। সুস্মিতা বললো আমাকে আবীর বলেছে আপনি আসতে পারেন। আসুন ভেতরে আসুন। না না একটু দাঁড়ান। পায়ে এখনো জল লেগে আছে। এই বলে সুস্মিতা তার আঁচলে টান দেয়।

সুস্মিতাদের বাড়িতে পরপর দুটো দোচালা টিনের ঘর। গাছগাছালিতে ঢাকা। প্রবেশ মুখেই একটি পুকুর। ভেতর বাড়ির পুকুরটি অধিক বড় এবং শানবাঁধানো। অনেকগুলো টিয়ে পাখি লাল ঠোঁট বের করে চেয়ে আছে উঠোনের দিকে। আশেপাশে বেশ ফুল গাছ রয়েছে। তাতে হলুদ রঙের গাঁদা ফুল ভরা। একটি ফুলকে অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বড় দেখাচ্ছে।

নিখিল চন্দ্র রায়ের নাকে সুগন্ধি আসতে শুরু করেছে। তিনি পরম শান্তিতে চোখ বুজে আছেন। এসেছিলেন পাত্রী দেখতে। কতো কথা হবার কথা। অথচ চারিদিকে শুধুই নীরবতা। অনেকক্ষণ পর মাটির তলদেশ থেকে একটি শব্দ উঠে এলো। ভেতরে চলুন বাবা।

সুস্মিতা এখন আমেরিকাতে থাকে। আবীর গত হয়েছে। ওর লিভিং রুমের দেওয়ালে তিন তিনটে বাবার ছবি। সবগুলোতে সে নতুন মালা চড়িয়েছে। প্রতি ফাদার্স ডে’তে ছবিগুলোতে সে ফুলের মালা চড়ায়। আগে ছিল দুটো ছবি। গেল বছর থেকে তিনটি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles