20.9 C
Toronto
বুধবার, জুন ১২, ২০২৪

নো ফ্রিলস

নো ফ্রিলস
বিকালে বাসায় ফিরবার আগে নো ফ্রিলস নামক গ্রোসারী দোকানে ঢুকতে যাবো ঠিক এ সময় ভেতর থেকে এক ক্যাশিয়ার হন্তদন্ত অবস্থায় সাড়ে চার কেজি ওজনের আলুর বস্তা হাতে বাইরে এসে পার্কিং লটের দিকে কাউকে ইঙ্গিত করে চিল্লাতে লাগলো থামেন থামেন

সকালে অফিস যাবার আগে ডিম ভাজতে গিয়ে দেখি কাঁচামরিচ নাই, চা বানাতে গিয়ে দেখি চায়ের দুধ নাই, স্যান্ডউইচ বানাতে গিয়ে দেখি বান রুটি, লেটুশ নাই।

বিকালে বাসায় ফিরবার আগে “নো ফ্রিলস” নামক গ্রোসারী দোকানে ঢুকতে যাবো; ঠিক এ সময় ভেতর থেকে এক ক্যাশিয়ার হন্তদন্ত অবস্থায় সাড়ে চার কেজি ওজনের আলুর বস্তা হাতে বাইরে এসে পার্কিং লটের দিকে কাউকে ইঙ্গিত করে চিল্লাতে লাগলো- থামেন থামেন!

- Advertisement -

আমি পেছন ফিরে তাকিয়ে বুঝবার চেষ্টা করি সে আসলেকাকে ডাকছে। কারণ কয়েকজন মানুষ হাঁটছে। সে ব্যর্থ হয়ে আমাকে কাছে পেয়ে বলল, ঐ ভদ্রলোকটাকে ডাকেন তো প্লিজ?
আমি বেশ দূরে এগিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধ ক্যানাডিয়ানকে হাঁক ছেড়ে ডাক দিলাম- “এ ভাই এ ভাই..”

ভদ্রলোক শুনতে পেরে পেছন ফিরে তাকাতেই বললাম- “ঐযে, আপনার আলু নিতে ভুলে গেছেন!”
ভদ্রলোক খুব অনিচ্ছা নিয়ে তার ট্রলির দিক পরিবর্তন করে ক্যাশিয়ারের দিকে এগুতে লাগলো শম্ভুক গতিতে। নাকি সে ইচ্ছে করেই ফেলে এসেছিল ভারী দেখে? তাকে এগিয়ে আসতে দেখে ফিলিপিনো ক্যাশিয়ার ভদ্রমহিলা হাসতে গিয়ে চোখ দুটো পুরাই বন্ধ করে ফেলল। আচ্ছা, এরা হাসার সময় আদৌ কি দেখতে পায়? জিজ্ঞেস করে দেখলে কেমন হয়!

মিডিয়াম একটা বাঁধাকপি সাইজের গোলগাল লেটুশ নিলাম তিন ডলারে। চায়ের দুধ এক লিটার পোনে তিন ডলার; অনেক ছাড়। কিন্তু দুর্ভাগ্য কাঁচামরিচ নাই। কোনোদিন থাকে, কোনোদিন থাকে না। আজ কোনো কারণে হেইঞ্জ এর পৌনে এক লিটারের কেচাপ আড়াই ডলার করে ছেড়ে দিচ্ছে। তাও আবার অর্গানিক। এমনিতে পাঁচ ডলারের বেশি। সন্দেহ হতে এক্সপায়ারি ডেট দেখলাম। নাহ, কোনো সমস্যা নাই; নভেম্বর পর্যন্ত। ঘটনা কী? বেশি সস্তায় দেওয়া মানেই ডাল মে কুছ কালা হ্যায়। যাইহোক, খুঁত খুঁজে না পেয়ে নিয়ে রাখলাম দুই বোতল। হেইঞ্জ এর সসগুলোর ইনগ্রেডিয়েন্টস খুব সিম্পল। কোনো ক্যামিক্যাল নেই, মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা সিম্পল উপকরণ দিয়ে এতো মজার কেচাপ কেমনে বানায়?

কিছু কোম্পানির সাথে অন্য কোম্পানি হাজার চেষ্টা করেও পেরে উঠে না। কয়েকবার গবেষণা করে দেখেছি; সস্তা কোম্পানির মেয়োনেজ, সস, রাঞ্চার; এসব সেইম ইনগ্রেডিয়েন্টস দিয়ে বানানো; দামি কোম্পনি যেভাবে বানায়। কিন্তু ক্র্যাফট কিংবা হেইঞ্জের সাথে পেরে উঠে না। যেমন নাটেলার একচেটিয়া ব্যবসা। এবার বাংলাদেশ গিয়ে নাটেলার দাম দেখে আমার চক্ষু চড়কগাছ। আমরা এদেশে নাটেলা খাই বাংলাদেশের চাইতে প্রায় অর্ধেক কম দামে।

আম দেখে এগিয়ে গেলাম।
পুরাই পতেঙ্গা! সাত ডলারে বারোটা আমের কেইস। আজ ছাড়ে অর্ধেকেরও কম দাম। তাও আবার মিডিয়াম সাইজের, লালচে কালারের অর্ধপাকা। কমপক্ষে সাড়ে তিন কেজি তো হবেই বক্সটার ওজন! মেইড ইন গুয়েতেমালা। ওদেশের অনেক সবজি, ফল কানাডায় ইম্পোর্ট হয়ে আসে। দামেও সস্তা। এশিয়ান আর আফ্রিকান বেশ কিছু ফ্যামিলি দু-তিন কেইস করে আম নিচ্ছে। কেউ বেশ বাছাবাছি করে নিয়েছে বোঝা যাচ্ছে। কারণ বেশ কিছু আম উল্টাপাল্টা হয়ে আছে। এভাবে বাছাবাছি করা আমার খুব অপছন্দের। কিছু মানুষ আঙ্গুর বা চেরি কেনার সময় হাত লাগিয়ে নির্লজ্জের মতো খুঁটে খুঁটে একটা একটা করে বেছে নিয়ে ভালোগুলো নিজের প্যাকেটে ভরবে। তাই এসব কিনবার সময় আমি এমন প্যাকেট খুঁজি, যেটা ইনট্যাক্ট; অন্ততঃ দেখে মনে হয় কেউ হাতায়নি। সবাই এমনটা না করলেও কিছু পাবলিক করবেই। তবে চাইনিজ দোকানগুলো এ ব্যাপারে কঠোর; চেরি বা আঙুরের প্যাকেট শক্ত রাবার দিয়ে পেঁচিয়ে বেঁধে রাখে। ফলে খুলে দেখার উপায় থাকে না।
আজও আঙ্গুর কিনতে গিয়ে বাছাবাছি করতে দেখে আর রুচি হলো না।

বান রুটি নিলাম দুই প্যাকেট।
প্রতি প্যাকেটে আটটা করে, মোট ষোলোটা। দুই প্যাকেট কিনলে আড়াই ডলার করে, আর এক প্যাকেটই নিলে সোয়া তিন ডলার। এরা ভালোই ট্রিক্স জানে। এক্সপায়ারি ডেট দেখলাম আঠারোই মে। তারমানে দিনে তিনটা করে খরচ হলেও আঠারো তারিখের আগে অনায়াসে শেষ হবে। ছাড়ের জিনিস কম দিন চলে। প্রমাণিত। অতীতে লোভে পড়ে বেশি কিনে নষ্ট করে ফেলে দিতে হয়েছে..

গরুর দুধ প্রায় শেষ। প্রতি প্যাকেট (চার লিটারের) পাঁচ ডলার উননব্বই সেন্টস করে দুই প্যাকেট নিলাম। দিনদিন দুধের দাম বাড়ছেই, তবে ডিমের দাম কিছুটা কমা শুরু হয়েছে।

ছোট বেগুনি কালারের গোল বেগুন খুঁজলাম। আছে, তবে দাম বেশি আর শুকনা। গত সপ্তাহে কেজি দুয়েক ফ্রেস পেয়েছিলাম; নিয়ে শেষও করে ফেলেছি। গিন্নি সকালে রুটি খাওয়ার জন্য পাতাকপির সাথে ভেজে ফেলেছিল বেশি করে; সপ্তাহ খানেক সকালে চলবে। বাকি ক’টা দিয়ে আস্ত বেগুনের বিশেষ কারি করে ফেলল। দুপুরে ভাতের সাথে অসাধারণ লাগে। এ বেগুনের বৈশিষ্ট্য হলো এতে পানি কম, স্বাদ বেশি। এগুলো দেখলেই চট্টগ্রামের সেই ছোট্ট কাঁটাওয়ালা “ফুতা বাইগুন” এর কথা কথা মনে পড়ে। কি অসাধারণ স্বাদ ছিল! ছোটবেলায় খেতাম শুঁটকি মাছ কিংবা মাছ রান্নার সাথে। ওগুলো কি এখনো আছে? না কালের বিবর্তনে, হাইব্রীড বেগুনের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে হারিয়ে গেছে?

বাজার শেষ করে বের হবার আগে দেখি এক কর্মী এক ট্রলি আঙ্গুর নিয়ে রিফিল করতে যাচ্ছে। এই এক সুযোগ, মানুষের হাত পড়ার আগেই নিতে হবে; ভার্জিন আঙ্গুর! আমি ছুটলাম সেই কর্মীর পেছন পেছন..

মজার ব্যাপার; চেক আউটের সময় ক্যাশ কাউন্টারে লক্ষ্য করলাম অনেকে বারোটা আমের বাক্সে তের-চৌদ্দটা ভরে নিয়েছিল। কিন্তু ক্যাশিয়ার এক্সট্রাগুলো নামিয়ে রেখেছে।
একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস ফেলি এদের কান্ড-কারখানা দেখে..

অটোয়া, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles