8.4 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৮, ২০২১

মেদ ভূড়ি কি করি

- Advertisement -
কানাডিয়ানরা এখন খাদ্যসচেতন হয়ে উঠছেন

সবাই কয় মোটা কমাইতে হইলে কার্ব(কার্বোহাইড্রেট) খাওয়া কমাইতে হইবো।

কিন্তু কার্ব ছাড়া খাবার পাওয়া খুব মুস্কিল। সব জায়গায় কার্ব।

- Advertisement -

ভাতে কার্ব, রুটিতে কার্ব, ব্রেডে কার্ব। বাংগালী গৃহীনিদের পক্ষে কার্ব ছাড়া দুপুর বা রাতের খাবার তৈরি করা খুব কঠিন একটা কাজ। গৃহকর্তা যারা একটু আধটু রান্না বান্না করেন তাদের পক্ষেও কার্ব বাদ দিয়ে রান্না করা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।

এমন কি কিশোয়ার চৌধুরী যিনি মাস্টারশেফ প্রতিযোগিতায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল তার পক্ষেও কার্ব এড়িয়ে খাবার তৈরি করা সম্ভব হয় নি, যদিও কিশোয়ারকে বলা হয় নাই কার্ব বাদ দিয়ে রান্না করতে। বিচারকরা “কার্ব ছাড়া খাবার বানাও” বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলে বেচারি বিপাকেই পড়ে যাতো।

- Advertisement -

আমি সোমা দাস বসু নামের এক ভদ্রলোকের নানা রকম যোগাসন, প্রানায়াম ফলো করি। তিনি ঝুলে যাওয়া ভুড়ি , পেটের চামড়া মোটা হয়ে যাওয়া ভুড়ি, পেট মোটা হয়ে যাওয়া ভুড়ি,হাড়ির মত ভুড়ি ইত্যাদি নানা কিসিমের ভুড়ি কিভাবে কমানো সম্ভব তার জন্য নানা রকমের যোগব্যায়াম লাইভে এসে করে দেখান। যারা একদমই হাটতে পছন্দ করেন না তাদের জন্য শুয়ে শুয়ে ব্যায়াম করে কিভাবে ঝুলে যাওয়া ভুড়ি কমানো যায় তার কিছু তরিকা নিজেই লাইভে এসে অনুশীলন করে দেখান। আবার কর্মক্ষেত্রে চেয়ারে বসে বসে কিভাবে ভুড়ি কমিয়ে ছিলিম ফিগারের হওয়া সম্ভব তারাও নানা রকম কায়দা কানুন করে দেখান। ভদ্রলোকের বর্ননা শৈলীর মধ্যে অভিনবত্ব আছে। শুনতে মন্দ লাগে না।

- Advertisement -

ইদানীং মেদ ভুড়ি কমানোর জন্য বেশ লাইভ প্রোগ্রাম হচ্ছে। এই লাইভ প্রোগ্রামগুলি মানুষ ভালোই খাচ্ছে। বুঝাই যায় অসংখ্য মানুষ ভুড়ির সমস্যায় আক্রান্ত। কারন, ভুড়ি হলে কাউকে আর ভালো দেখায় না। আধুনিকতা,ফ্যাশন এবং স্টাইলের জগতে ভুড়ি বিশাল এক অন্তরায়। তাই মোটামুটি সবাই ভুড়ি কমানোর জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন। নারী, পুরুষ উভয়ের পছন্দের তালিকায় ভুড়িওয়ালারা বাদ পড়েন। তাদের পছন্দের তালিকায় ছিলিম ফিগারের মানুষেরা জায়গা করে নেয়। ছেলে হোক মেয়ে হোক, যুবা হোক বুড়া হোক, ভুড়ি ছাড়া মানুষ ভালো দেখায়। ভুড়ি দেহের ক্রমবর্ধমান একটি বিপত্তি। এটিকে সময় মত টাইট দিতে না পারলে মহা বিপদ অনিবার্য।

রুশ বিপ্লবের পর বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধন করেছেন ডাঃ জাহাঙ্গীর। তিনি সবাইকে কিটো ডায়েটের খাদ্য তালিকা দিয়ে অচিরেই বাংলাদেশকে এক মেদ ভূড়ি শূন্য জনসংখ্যার দেশে পরিনত করতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে সব চেয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তিনি এখন স্থান দখল করে আছেন। তার এই কিটো ডায়েট অনুসরণ করে দলে দলে মানুষ মেদ ভূড়িহীন ছিলিম ফিগার নিয়ে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে। মেদ ভূড়ি কমানোর ক্ষেত্রে কোন নোবেল প্রাইজ থাকলে ডাঃ জাহাঙ্গীর অবশ্যই পেতেন বলে বদ্ধমূল ধারনা হয়।

যাই হোক, আমি একটু রম্যের ছলে লেখলাম অনেক কিছু। আমি নিজেও ডাঃ জাহাঙ্গীকে অনুসরণ করি। তবে তিনি মোটামুটি অভুক্ত থাকার কথা বলেন। এইভাবে না খেয়ে মরে যাওয়া ভালো।

আজ বেশ কিছু দিন হলো ভাত খাচ্ছি না। ভাত নাকি কার্বের রাজা। দুই বেলা করে হোল উইট রুটি খাচ্ছি। তার সংগে ঘাস লতা পাতা।নিজেকে এখন গরু ছাগল মনে হয়। কেউ কাঠাল পাতা সাধলে, সেটাও হয়ত চিবোতে থাকবো। ভুড়ি কিন্তু এক চুলও কমে না। ওজন এক সুতাও নিচে নামে না কি এক বিপদ।

ওই দিন এক ভাবি বুদ্ধি দিলো। এত কষ্ট করে না খেয়ে থাকার মানে হয় না। সব খাবেন। খেয়ে সব বার্ন করে ফেলবেন। এর মানে হচ্ছে যা খাবেন তা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। খবরদার, আবার যেন স্টোভের উপর বসে পইড়েন না। তাহলে কিন্তু….

আমার কাছে ভাবির এই বুদ্ধি মাথায় ধরেছে। একটু স্টাডিও করলাম। গুগল টুগল ঘেটে যেটা বুঝলাম, প্রতিদিন কমপক্ষে ৭০০ ক্যালরি বার্ন করতে পারলে ওজন কমবে এবং ভুড়িরও সলিল সমাধি রচিত হবে। মিনিমাম ৭০০ ক্যাল। মেক্সিমাম, আপনি যত পারেন।

অনেক অপশন খোলা আছে। হয় ডাক্তার জাহাঙ্গীরের কিটো ডায়েট, না হয় সোমা দাস বাবুর যোগাসন, অথবা ক্যালরি বার্ন।

আপনার পছন্দ মত অপশন বেছে নিয়ে ছিলিম ফিগারের অধিকারী হোন।

স্কারবোরো, অন্টারিও

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles