ধর্মঘটের মুখে পড়তে পারে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো

ধর্মঘটের মুখে পড়তে পারে ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো - the Bengali Times
নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনেই ধর্মঘটের মুখে পড়তে পারে কানাডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর দিনেই ধর্মঘটের মুখে পড়তে পারে কানাডার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব টরন্টো। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ হাজার ১০০-এর বেশি প্রশাসনিক ও কারিগরি কর্মী আইনগতভাবে ধর্মঘটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। একই দিন শিক্ষার্থীদেরও নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাসে ফেরার কথা রয়েছে।

কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনাইটেড স্টিলওয়ার্কার্স লোকাল ১৯৯৮-এর সদস্যদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। চাকরির নিরাপত্তা, বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ এবং কর্মক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারসহ একাধিক বিষয়ে নিয়োগকর্তার সঙ্গে মতপার্থক্য কমানোর আলোচনা প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

ইউনিয়নের স্থানীয় শাখার প্রেসিডেন্ট জন আঙ্কেনম্যানের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মীরা চলে যাওয়ার পর তাঁদের শূন্যপদ পূরণ করা হচ্ছে না। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে আগামী বছর প্রায় ২ কোটি ডলার সাশ্রয় করতে পারে বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এর প্রভাব কর্মীদের ওপর পড়ছে বলে অভিযোগ তাঁর। আঙ্কেনম্যান বলেন, কর্মীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় অবশিষ্ট কর্মীদের ওপর দায়িত্ব ও কাজের চাপ বাড়ছে। অথচ ইউনিয়নের অনেক সদস্য ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত কাজের চাপ সামলাচ্ছেন। চাকরির স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যতে কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও ইউনিয়নের উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে তার প্রভাব কী হবে, সেটিও আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

ধর্মঘটের পক্ষে ভোট হলেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি ইউনিয়ন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দর-কষাকষি চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউনিয়নের সঙ্গে চলমান গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখার দিকে তারা নজর রাখছে। অর্থাৎ, শেষ মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে ধর্মঘট এড়ানো সম্ভব। ইউনিয়নের বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনা ভেঙে না পড়লে নির্ধারিত দিনে কর্মীরা কর্মবিরতিতে যাবেন না।

ইউনিয়নের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা যদি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির দিকে যায়, তাহলে নির্বাচিত দর-কষাকষি কমিটি নির্ধারিত ধর্মঘটের সময়সীমা পার হওয়ার পরও আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হতে পারে। ফলে ধর্মঘটের পক্ষে ৯৬ শতাংশ সদস্যের ভোট থাকলেও কর্মবিরতি যে নিশ্চিত, তা এখনও বলা যাচ্ছে না। আগামী কয়েক দফা আলোচনার ফলাফলই এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইউনাইটেড স্টিলওয়ার্কার্স লোকাল ১৯৯৮-এর আওতায় থাকা কর্মীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত ও শিক্ষাসহায়ক বিভাগের কর্মীরা রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন : তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী, অ্যাকাডেমিক অ্যাডভাইজর, ল্যাব সহায়তাকর্মী এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি কর্মী।

নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এত বিপুল সংখ্যক কর্মী ধর্মঘটে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন পরিষেবা ও প্রশাসনিক কাজে তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখন মূল নজর ইউনিয়ন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পরবর্তী দর-কষাকষির দিকে।

সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles