-0.9 C
Toronto
শনিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৩

নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতো চক্রটি

নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে মুক্তিপণ আদায় করতো চক্রটি

বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালি নেওয়ার কথা বলে প্রথমে নেওয়া হতো লিবিয়ায়। সেখানে আটকে রেখে চালানো হতো নির্যাতন। কখনো সেই নির্যাতনের ভিডিও পাঠানো হতো স্বজনদের কাছে। আবার কখনো ভিডিও কলে রেখে চালানো হতো নির্যাতন।

- Advertisement -

মাদারীপুর জেলা হতে মানবপাচারের শিকার একাধিক ব্যক্তি এমন অভিযোগ করে বলেন, মুক্তিপণের টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত নির্যাতন চালানো হতো। চক্রটি প্রথমে স্বল্প খরচে লিবিয়া হয়ে ইতালি নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরে লিবিয়ার দুর্গম কোনো স্থানে আটকে রেখে নির্যাতন চালায়।

ভুক্তভোগীরা বলেন, নির্যাতনের ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করে পাঠানো হতো স্বজনদের কাছে। এই চক্রের মূলহোতা শরীফ। তার স্ত্রী সুমিসহ একাধিক দালাল জেলার বিভিন্ন এলাকা হতে লোক সংগ্রহ করে লিবিয়ায় পাঠাত। সেখানে পৌঁছানোর পরে আজিজুল হক নির্ঝর নামের আরেক যুবক আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ে নির্যাতন চালাত।

রাকিব ফরাজি নামের এক যুবক বলেন, ‘লিবিয়ায় শরীফের ক্যাম্পে বন্দি ছিলাম। সেখানে থাকাকালীন সময় নির্ঝরের নির্যাতনে ২টি ছেলে মারা গেছে। আমাকে মারতে মারতে অজ্ঞান করে ফেলেছিল। জ্ঞান ফেরার পর আবার মেরেছে। মারার ফলে আমার চোখের মধ্যে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল।’

নির্যাতনের শিকার ডাসার উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বনি আমিন বলেন, ‘ক্যাম্পে আটকে রেখে মুক্তিপণের জন্য কয়েক দফায় নির্যাতন চালানো হয়। পরে শরীফের স্ত্রী সুমির একাউন্টে ২০ লাখ টাকা জমা দিলে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

জাহাঙ্গীর শেখ নামের একজন বলেন, ‘নির্ঝর এতটাই নির্দয় ছিল যে, বাপ-চাচার বয়সী লোকদেরও টাকার জন্য মারত। গলায় পাড়া দিয়ে, দাড়ি টেনে কাঠের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্যাতন চালাত। বন্দিশালার বিভিন্ন জায়গায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ হয়ে গিয়েছিল।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আজিজুল হক নির্ঝরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও কাজের সন্ধানে লিবিয়া গিয়েছিলাম। ইতালি যাওয়ার পথে মাফিয়ারা শরীফের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। ক্যাম্পের বন্দিরা সবাই অনেক কান্নাকাটি আর চেঁচামেচি করত। ভাষা জানতাম বলে শরীফ আমাকে ক্যাম্পের দায়িত্ব দিয়েছিল সবাইকে চুপ রাখার। সে সময় অনেককে গালাগালি করেছি। তাই হয়তো ক্ষুব্ধ হয়ে আমার নামে অভিযোগ দিচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কারো কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করিনি। শুধু সবাইকে চুপ রাখার জন্য শাসন করেছি। ক্যাম্পে ভালো সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্যই এই দায়িত্ব পালন করেছি। কেউ যদি আমার নামে অভিযোগ দেয় সেটা সত্যি নয়।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। মানবপাচার রোধে আমরা বদ্ধপরিকর। মানুষকে কোথাও আটকে রেখে জিম্মি করে টাকা পয়সা নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমরা আইনের মধ্যে থেকেই মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করছি, অনেককে গ্রেপ্তারও করেছি। সকল অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলব, অবৈধ পথে নিজের সন্তানকে বিদেশে পাঠিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবেন না।’

সূত্র : রাইজিং বিডি

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles